২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:০২

প্রশাসনের শোকজের পর উল্টো জবাব চাইলেন ডাকসু নেতা সর্ব মিত্র

ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা  © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসা কিশোর ও তরুণদেরকে কানে ধরে উঠবস করানোর পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমাকে গতকাল কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এর প্রতিক্রিয়ায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বহিরাগতদের অবাধে প্রবেশাধিকারের কারণে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের নানা জিনিসপত্র চুরি হওয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার জবাবদিহিতা চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সর্ব মিত্র।

ফেসবুক পোস্টে ঢাবি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সর্বমিত্র বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষার্থীবৃন্দ,সেন্ট্রাল লাইব্রেরি এবং সেন্ট্রাল ফিল্ডে যারা সাইকেল, মোবাইল, মানিব্যাগসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়েছেন, সেন্ট্রাল ফিল্ডে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন, প্রমাণ সহকারে আমাকে জানাতে পারেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মূল্যবান জিনিসপত্র দিনের পর দিন হারানোর পরও প্রশাসন কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, না নিলে কেন নেয়নি, সে ব্যাপারে আমি লিখিতভাবে প্রশাসনের কাছে জানতে চাইবো।

সর্ব মিত্র আরও বলেন, যদি যৌক্তিক জবাব না পাই তাহলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে ব্যর্থ প্রশাসনকে এর ক্ষতিপূরণ বহন করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসা কিশোর ও তরুণদেরকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমাকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সর্বমিত্র চাকমাকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তার জবাব পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

শোকজ পেয়ে সর্বমিত্র চাকমা ফেসবুকে লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেহেতু শোকজের নোটিশ দিয়েছে, এ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে শিক্ষার্থীদের যত সাইকেল হারিয়েছে এবং সেন্ট্রাল ফিল্ডে যত মানিব্যাগ, সাইকেল, মোবাইল হারিয়েছে—এ ব্যাপারে এতদিন কেন প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি। কেন দেয়াল সংস্কার করেনি, কেন শারীরিক শিক্ষা ভবনে মদ্যপানরত অবস্থায় হাতেনাতে কর্মচারীদের ধরার পরও বহাল তবিয়তে রেখেছে তার জবাব আমি লিখিতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চাইবো।

গত ৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় প্রায় ৩০ তরুণকে একটি সারিতে দাঁড় করিয়ে কান ধরে উঠবস করানো হয়। তাদের সবার বয়স ১৩ থেকে ২১-২২ এর মধ্যে বলে ধারণা করা যায়।