ঢাবিতে তরুণদের কানে ধরিয়ে উঠবস করানোর কারণ জানালেন সর্ব মিত্র চাকমা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫-৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরিয়ে উঠবস করিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে যখন আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, তখন এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ ব্যাখ্যা দেন।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য সর্ব মিত্র চাকমার ফেসবুকে পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল:
"শিশু-কিশোরের দোষ কি? শুধু সেন্ট্রাল ফিল্ডে খেলতে আসে"
ঘটনা: ১৪ অক্টোবর ২০২৫
ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য আমরা প্রাকটিসের জন্য সেন্ট্রাল ফিল্ডে যাই সাইকেল নিয়ে। আমরা সাইকেল তালা দিয়ে রেখে প্রাকটিস করি এবং প্রাকটিস শেষে সাইকেল খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। অনেক খোঁজাখুজির পর যখন পেলাম না তখন ফুটবলের দায়িত্বে থাকা জালাল স্যারের সাথে দেখা করি সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য, তিনি কথা বলতে বলেন শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক জাকারিয়া স্যারের সাথে, তখন স্যার মাঠে ছিলেন না। আমরা কল দিলে স্যার একটু পর আসে এবং আমাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখায়। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে আমরা দেখতে পাই একটা কম বয়সি ছেলে সাইকেলটি বের করে নিয়ে চলে যায় এবং ছেলেটির কাধে তখন স্পোর্টসের প্রাকটিা ব্যাগ ছিলো। পরে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে শাহবাগ থানায় গেলে ওনারা জানায় সাইকেল হারানোর জিডি হয় না, তবে একটা লিখিত অভিযোগ নেয়।
সাইকেল হারানো ব্যক্তি:
মাহফিজুর রহমান আবির
রাষ্ট্রবিজ্ঞান ২০২৩-২৪
মুহসিন হল।
সম্পূর্ণ সময় সাথে ছিলেন:
মো: মনির হোসেন
রাষ্ট্রবিজ্ঞান ২০২৩-২৪
বিজয় একাত্তর হল
এমন অনেক ঘটনা আছে অহরহ। প্রশাসনের কাছে আবেদন করলে দেয়াল সংস্কারের ফাইল ফিরে আসে, বলা হয় বাজেট নেই। এদিকে প্রতিদিন আমাদের শিক্ষার্থীরা মোবাইল হারায় , মানিব্যাগ হারায়, সাইকেল হারায়।
বারবার মানা করার পরও আসে, স্টাফদের উপর ঢিল ছোঁড়ে পালায় দেয়াল টপকিয়ে, এদিকে দেয়ালের বেহাল দশা। প্রশাসনের অসহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের জন্য এর চাইতে আর কি করার আছে??
এর আগে, ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় প্রায় ২৫-৩০ জন তরুণকে একটি সারিতে দাঁড় করিয়ে কান ধরে উঠবস করানো হচ্ছে। তাদের সবার বয়স ১৩ থেকে ২১-২২ এর মধ্যে বলে ধারণা করা যায়। তাদের সামনে একটি লাঠি হাতে পায়চারি করছেন ডাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। এ ছাড়া ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনও সেখানে ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমা গণমাধ্যমকে বলেন, এখানে বাইরের শিক্ষার্থীরা খেলতে আসে। তাদের খেলতে বাধা দিলে বের হয়ে ইট-পাটকেল ছোড়ে। ওখানকার কর্মচারীরাও এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এ ছাড়া আমাদের শিক্ষার্থীদের মানিব্যাগ চুরি হয়। কিছুদিন আগেও ফোন চুরি হয়েছে। বারবার তাদের বারণ করা হয়েছে এসব কারণে।
তিনি আরও বলেন, এখানে সবচেয়ে বড় দোষ বলব কোষাধ্যক্ষের। কারণ এ দেয়াল করার জন্য বারবার তার কাছে ফাইল পাঠানো হলেও তিনি অনুমোদন করেননি। বরং ফাইল ফিরিয়ে দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো ভিডিওর বিষয়ে অবগত নই। তবে প্রত্যেক বিষয়ের নিয়ম রয়েছে। খেলতে আসলে নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতি নিয়ে খেলতে আসবে।’
একজন সদস্য কাউকে কানে ধরাতে পারেন কী না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সদস্যের সঙ্গে কী হয়েছে, তা না জেনে আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না। আমি তার সঙ্গে কথা বলে দেখব।’