২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৯

চাঁদাবাজির ভুয়া অভিযোগে সহিংস মব তৈরির চেষ্টা হচ্ছে: ঢাবি ছাত্রদল

ডাকসু প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রক্টর অফিসে ছাত্রদল নেতারা  © ভিডিও থেকে নেওয়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের ক্ষুদ্র ও ভাসমান দোকানে ডাকসু প্রতিনিধি ও কর্মকর্তা/কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে অভিযোগপত্র দিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

সংগঠনটি বলছে, কতিপয় বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধি চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট সৃষ্টিতে জড়িত। এ সিন্ডিকেটের বাইরের দোকান উচ্ছেদের একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত হয়েছে। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে জড়িয়ে চাঁদাবাজির ভুয়া অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসে সহিংস মব তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় দিকে ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তাদের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিগত সেপ্টেম্বর মাসে বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনের পর থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষ সহযোগিতায় গড়ে ওঠা অসংখ্য ক্ষুদ্র ও ভাসমান দোকানকে কেন্দ্র করে অনলাইন ও অফলাইনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সংশিস্নষ্ট শিক্ষার্থীগণের পক্ষ থেকে কতিপয় বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধি কর্তৃক প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা/কর্মচারীর যোগসাজশে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট সৃষ্টি করা এবং উক্ত সিন্ডিকেটের বাইরের সকল দোকানকে ভাঙচুর ও উচ্ছেদের একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত হয়েছে। যা সামনে আসলে তার বিপরীতে এসকল বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে জড়িয়ে চাঁদাবাজির ভুয়া অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসে সহিংস মব তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে পরিলক্ষিত হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ৫ আগস্টের পর থেকে আজ অবধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন নেতাকর্মীর নামে এ ধরনের কোন অভিযোগ আনার নৈতিক অবস্থান না থাকলেও গত রাতে প্রায় দেড় মাস পূর্বে গৃহীত সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের একটি ভিডিওকে কাটছাট করে অনলাইনে ছড়িয়ে এরকম ঘৃণ্য অপবাদ দিয়ে মব সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন চেয়ে দুই দফা দাবি জানায় ছাত্রদল। সেগুলো হল-

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দোকানপাট পরিচালনার নিয়ম-নীতির বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা প্রদান করতে হবে ও তা যথাযথভাবে প্রচার করার ব্যবস্থা নিতে হবে;

২. উত্থাপিত অভিযোগ অনুসারে চাঁদাবাজি এবং দোকান ভাঙচুর ও উচ্ছেদের সিন্ডিকেট সৃষ্টির সাথে বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধিগণ কিংবা প্রশাসনের কর্মকর্তা/কর্মচারী যেই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ছাত্রদল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানায়, দাবিগুলোর প্রেক্ষিতে আজ রাত ৮ টার মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিসমূহ বাস্তবায়ন না করলে অভিযুক্ত বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধিগণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।