২৪ মার্চ ২০২৩, ০০:৩৭

হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জাবি ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মী বহিষ্কার

বহিস্কৃত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা  © সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদলকে ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে সাময়িক বহিস্কার করেছে প্রশাসন। একইসাথে বহিস্কৃতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবে না বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বহিস্কৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আহমেদ গালিব, আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ইমরুল হাসান অমি, দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. কাইয়ুম হাসান, একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগকর্মী তানভীরুল ইসলাম। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে পূর্ব শত্রুতার জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বাদলের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় বহিস্কৃতরা। এতে বাদলের মাথায় গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

সাইফুলের মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার পলাশ চন্দ্র দাশ।

এদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আহত ওই ছাত্রলীগ নেতা। তার প্রেক্ষিতে রাত নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি সভা ডাকা হয়।

এর আগে, সাভারের সুলতান ডাইন রেস্টুরেন্টে বসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে গত রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ-জেইউ) ৪৭তম ব্যাচের ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানকে মারধর করে মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন মাহফুজ। পরে ওই ঘটনার জেরে বুধবার সন্ধ্যায় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ গালিবকে পাল্টা মারধর করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। এর প্রেক্ষিতে রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেন তারা। এছাড়া মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগও দেন গালিব।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতাকে ‘হত্যাচেষ্টা’, দুই সাংবাদিককে হেনস্থা ও প্রক্টরিয়ায় বডির সদস্যদের গালিগালাজসহ পূর্বের সকল ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফি মুহাম্মদ তারেক, সদস্য রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক শাহেদ রানা, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সিকদার মোহাম্মদ জুলকারনাইন ও গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুর্শেদা বেগম এবং সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা মাহতাব উজ জাহিদ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় যারা হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা ছাত্রলীগ করার অধিকার রাখে না। ছাত্রলীগের মধ্যে দলীয় কোন্দল সৃষ্টি করা তাদের লক্ষ্য। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ ধরনের ঘটনা অপ্রত্যাশিত। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। মারধর এবং সাম্প্রতিক ঘটনা বিবেচনায় চিহ্নিত পাঁচজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’