বাস্তবমুখী পরিকল্পনায় এগোচ্ছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অংশীদারিত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অংশীদারিত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  © সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, সুশৃঙ্খল ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়নের যাত্রায় এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। তবে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দেশের উন্নয়ন কাঠামোতে প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধের কারণে উন্নয়ন অংশীদাররা তাদের সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। যা বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য অনিশ্চয়তা ও বোঝা তৈরি করছে।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বাংলাদেশ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অংশীদারিত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সংকটময় সন্ধিক্ষণে আমরা হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, অনেক উন্নয়ন অংশীদার সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা বেশিরভাগ প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন অর্থায়নকে অর্থনৈতিকভাবে অকার্যকর করে তুলছে। একাধিক অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বৈশ্বিক অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসা পর্যন্ত সহজ শর্তে অর্থায়ন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ও উন্নত দেশগুলোকে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। 

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কারও কাছে কোনো করুণা বা দয়া ভিক্ষা চাই না, আমরা ন্যায্য অধিকার চাই। বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের অংশীদার হিসেবে আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যাই দাবি করছি। একইভাবে বৈশ্বিক ব্যবসায়ী অংশীদাররা অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপ করছে, যা সার্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে বৃহত্তম প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। এখানে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পদ্মাসেতু। নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মাসেতু নির্মাণ করতে পেরেছি। এছাড়া মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন কর্মমুখী প্রকল্প আমরা করে যাচ্ছি। পদ্মাসেতু নির্মাণ ছিল আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরব, মর্যাদা ও যোগ্যতার প্রতীক। বাংলাদেশ পারে। এসব নির্মাণের ফলে ২০১৫ সালে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে আমরা পৌঁছেছিলাম।

সরকারপ্রধান বলেন, এডিবি আমাদের উন্নয়ন সহযোগী। ৫০ বছর ধরে এডিবি আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। ১৯৭৩ সালে জাতির পিতার নেতৃত্বে এডিবির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হয়। গত ৫০ বছরে আমাদের যে আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, কাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক; প্রতিটি ক্ষেত্রে এডিবির বিশেষ সহযোগিতা রয়েছে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে এডিবির প্রেসিডেন্ট আসা কাওয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ সংবাদ