ঢাবি শিক্ষার্থী পরিচয়ে ক্যাম্পাসে-বাসে যাতায়াত, অতঃপর ধরা

ঢাবি শিক্ষার্থী পরিচয়ে ক্যাম্পাসে-বাসে যাতায়াত, অতঃপর ধরা
সালমান ঈশান  © টিডিসি ফটো

নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন সালমান ঈশান নামে এক যুবক। তিনি দাবী করেন ওই ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান তার মামা। তার সেশনের সি. আর সালমানের শ্রেণি উপস্থিতি দিয়ে দিতো তাই ক্লাস করার দরকার হয় না । অবশেষে ৩ মাস পর সহপাঠীদের কাছে ধরা পড়েন তিনি। 

বৈশাখী বাসে যাতায়াতকালে বাসের নিয়ম না মানা, সিনিয়রদের সাথে বেয়াদবিসহ নানা প্রকার অভদ্রতাসুলভ আচরণের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ক্লাস না করায় সহপাঠীদের সন্দেহের মুখে পড়েন সালমান । 

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি বিভাগের সহপাঠী ও বৈশাখী বাসের শিক্ষার্থীদের জেরার মুখে সালমান চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে। জানা যায়, তিনি ঢাবির শিক্ষার্থীই না। ২০২১-২২ সেশনের গ ও ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দুটিতেই অনুত্তীর্ণ হয় তিনি। অভিযোগ আছে, রেজিস্টার বিল্ডিংয়ের একজন কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার চেস্টা করেছিলো। 

জানা যায় , তার জাতীয় পরিচয়পত্র হতে শুরু করে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ‘ই- লাইব্রেরির’ পরিচয়পত্র সবই নকল। সালমান নিজেকে ২০২১-২২ সেশনের ছাত্র ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার বাড়ি মিরপুর ১৪ এলাকায়। তিনি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করছেন। 

ঢাবি ‍শিক্ষার্থী পরিচয়ে বৈশাখী বাসে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তিনি দাবি করেন, বৈশাখী বাসের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি তার পূর্ব পরিচিত ।

শিক্ষার্থীদের জেরার মুখে তার প্রতারণা ফাঁস হওয়ার পর তাকে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরকারি শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে স্যার এ. এফ. রহমান হল ছাত্রলীগের উপ দপ্তর সম্পাদক মো. শাহরিয়ার হোসাইনের বলেন, ‘সালমান ঈশানের সম্পর্কে আমি ট্যুরিজমের বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পারি । সে ক্লাস করতো না কখনোই । জেরার মুখে সে তার সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে। প্রতারণা প্রকাশ হওয়ার পর আমরা তাকে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে হস্তান্তর করি।’

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. গোলাম রব্বানীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিয়ে জানাবো।’


সর্বশেষ সংবাদ