২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:৫০

সমন্বিত নয়, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত নয়, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, প্রকৌশল ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি ধাপে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। তবে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, ব্যবসা শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে আলাদাভাবে তিনটি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। এ ভর্তি প্রক্রিয়ায় দেশের ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ।

বুধবার বিকালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ এ তথ্য জানান। এর আগে বেলা তিনটা থেকে ইউজিসি মিলনায়তনে এ সভা শুরু হয়।

সভা শেষে ইউজিসি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যাল, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যলয় ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আলাদাভাবে চারটি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। তবে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে আলাদভাবে তিনটি গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের বড় পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে। তবে এ পদ্ধতিতে দেশের ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করবে বলে চূড়ান্তভাবে জানিয়েছে। আমরা সকলকে আহ্বান জানিয়েছি, যারা আসবে তাদের সকলকে নিয়ে আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে যুক্ত করবো।

তিনি বলেন, আজকের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তারা এ পদ্ধতিকে সাধুবাদ জানালেও তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে যুক্ত হতে পারছে বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে আমাদের চেষ্টা ও দরজা খোলা থাকবে। যারা এতে যুক্ত হতে যাবে তাদের নেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই পরীক্ষার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী শাখা পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী চাইলে মানবিকের কোনো বিষয়েও ভর্তির সুযোগ পাবেন। সে ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার মধ্যে এ ধরনের কোনো একটি ব্যবস্থা রাখা হবে। আগামী মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এই ভর্তি পরীক্ষার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে ইউজিসি’র সদস্য মো. আলামগীর বলেন, মার্চের প্রথম সপ্তাহে আবারো বৈঠক করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে। তারা উপ-কমিটি তৈরি করে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন, প্রশ্ন পদ্ধতি প্রণয়ন, ফলাফল প্রকাশসহ সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি বলেন, আগের মতো প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। অনলাইনে মাধ্যমে আবেদন নেয়া হবে। আবেদনকারীদের রোল নম্বর অনুযায়ী গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা আয়োজন করে সেই অনুযায়ী প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলাফল পাঠিয়ে দেয়া হবে। সকল কিছু কেন্দ্রীয় কমিটি ও উপ কমিটির সদস্যারা তত্ত্ববধানে পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আওতায় কলেজগুলোতেও গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। 

তার আগে উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। বৈঠকে উপস্থিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা স্বয়ং রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা করেন। দেশের মানুষও তাই চায়। তারপরও এ প্রক্রিয়ায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় না থাকাটা দুঃখজনক।

সিলেটের শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রথমে সকলে সমন্বিত পদ্ধতিকে সমর্থ জানালেও এখন কেন কেউ কেউ পিছিয়ে যাচ্ছে। এটি একটি লজ্জার বিষয়,  যা কেউ কাম্য করে না।

এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি সব উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেই ইউজিসি এবার থেকে সমন্বিত পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। এজন্য একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠানোর আগে ইউজিসির পক্ষ থেকে জানানোও হয়েছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এতে রাজি হয়েছে। কিন্তু ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট আগের মতোই আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।