সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ
সেন্টমার্টিনের জাহাজ  © সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে উপকূলে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে যাতায়াত বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূল এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়া যেতে পারে। এ কারণে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর সমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মাছ ধরার ট্রলারসহ নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

ইউএনও পারভেজ চৌধুরী বলেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সেন্টমার্টিন যাতায়াত ফের শুরু হবে। এছাড়া দ্বীপে ভ্রমণে গিয়ে আসতে না পারা পর্যটকদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো নজরে রয়েছে।

এর আগে সেন্টমার্টিন দ্বীপটিকে ‘প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দ্বীপ ভ্রমণে নতুন করে কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে সরকারের পরিবেশ অধিদফতর। এমনকি এ বিষয়ে এক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা বলেছে, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন এবং পর্যটকদের অসচেতনতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, পরিবেশ এবং প্রতিবেশ বিরোধী আচরণের কারণে সেন্টমার্টিনের বিরল প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত।

পরিবেশ ও বিরল জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারসহ দ্বীপটিকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ০৪ ধারার ক্ষমতাবলে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে অধিদফতর। সেগুলো হলো:-

১) দ্বীপের সৈকতে সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যানসহ কোনও ধরনের যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক বাহন চালানো যাবে না।

২) দ্বীপের সৈকত, সমুদ্র এবং নাফ নদীতে প্লাস্টিক বা কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা যাবে না।

৩) পশ্চিম দিকের সৈকতে কোনাপাড়ার পর দক্ষিণ দিকে এবং পূর্ব দিকের সৈকতে গলাচিপার পর দক্ষিণ দিকে যাওয়া যাবে না।

৪) দ্বীপের চারপাশে নৌ-ভ্রমণ করা যাবে না।

৫) জোয়ার-ভাটা এলাকায় পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটা যাবে না।

৬) সামুদ্রিক কাছিমের ডিম পাড়ার স্থানে চলাফেরা,রাতে আলো জ্বালানো এবং ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করে ছবি তোলা যাবে না।

৭) সৈকতে রাতের বেলা কোনও ধরনের আলো বা আগুন জ্বালানো, আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো যাবে না।

আরও পড়ুন: ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষা জুনে, এইচএসসি আগস্টে

৮) সৈকতে মাইক বাজানো, হৈ-চৈ এবং উচ্চস্বরে গান-বাজনা করা কিংবা বার-বি-কিউ পার্টি করা যাবে না।

৯) ছেঁড়াদিয়া দ্বীপে স্পিডবোট, কান্ট্রি বোট, ট্রলার কিংবা অন্যান্য জলযানে যাতায়াত কিংবা নোঙর করা যাবে না।

১০) সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সরকারের অধিগ্রহণ করা ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ ভ্রমণ করা যাবে না।

১১) প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, তারা মাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস, সামুদ্রিক শৈবাল এবং কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।

১২) জাহাজ থেকে পাখিকে চিপস বা অন্য কোনো খাবার খাওয়ানো যাবে না।

১৩) দ্বীপে সুপেয় পানির পরিমাণ সীমিত হওয়ায় পানির অপচয় রোধ করতে হবে।

১৪) সর্বোপরি সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনও কাজ করা যাবে না।

উপরে বর্ণিত এসব বিধি-নিষেধের লঙ্ঘন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ওই সরকারি গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


x

সর্বশেষ সংবাদ