সাত কলেজের বিজ্ঞান অনুষদে সুবিধা-অসুবিধা কতটুকু?

সাত কলেজের বিজ্ঞান অনুষদে সুবিধা-অসুবিধা কতটুকু?
সাত কলেজ   © টিডিসি ফটো

শুরুতেই বলে রাখি আমার এই লেখাটি গত ১২ আগস্ট বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া নবীনদের জন্য। সাত কলেজের বিজ্ঞান অনুষদ এখন অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো, আবার অনেকের কাছে কিছুই না। গতবারের তুলনায় এবার সাত কলেজের বিজ্ঞান অনুষদের বেড়েছে প্রতিযোগীর সংখ্যা। ২০২১-২২ সেশনে ভর্তি পরীক্ষায় এক আসনের বিপরীতে লড়েছে ছয়জন শিক্ষার্থী, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি।

তোমরা যারা ঢাকাতে অনার্স করতে চাও বা করার ইচ্ছাপোষণ করেছো কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীনগর বা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যায়ে চান্স হয়নি বা হবে না। তারা পড়তে পারো সাত কলেজের বিজ্ঞান অনুষদে। সাত কলেজের বিজ্ঞান অনুষদে রয়েছে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, গনিত, উদ্ভিদ বিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, ভূগোল ও পরিবেশ, মনোবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ। সাত কলেজের বিজ্ঞান অনুষদের এই সাবজেক্টগুলো জেলা পর্যায়ের বা বিভাগ পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় মান একেবারে খারাপ নয়। বলা চলে সমমানের মান। আর যারা পাবলিকের ট্যাগ লাগাতে চাও বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেই হবে তোমাদের জন্য কিন্তু সাত কলেজ নয়।

সাত কলেজের বিজ্ঞান অনুষদ হলো তাদের জন্য যারা রাজধানীতে থাকতে চাও, ঢাকার সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে চাও। যোগাযোগের দক্ষতা একটু ভালো হলে বিজ্ঞানের সাবজেক্টে পড়ুয়া শিক্ষার্থী চাইলেই ঢাকাতে টিউশন জোগাড় করতে পারবে, পার্ট টাইম জব করার সুযোগ রয়েছে বা অন্যান্য চাকরি করার অনেক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ঢাকা বাদে অন্যান্য শহরগুলোতে টিউশন, পার্ট জব বা চাকরি জোগাড় করা একটু কঠিনই বটে। আর রসায়ন, পদার্থ, গনিত ভালো পারলে টিউশন জগতে তার চাহিদা অন্যান্য। শ্রম, সাধনা করলে অনার্সে থাকা অবস্থাতেই প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। আমার পরিচিত অনেক বড় ভাই আছেন, যারা সাত কলেজে শূন্য নিয়ে ভর্তি হয়েছেন, শেষের দিকে এসে প্রতিষ্ঠিত বা ভালো কিছু নিয়ে বের হয়েছেন।

সাত কলেজের বিজ্ঞান অনুষদে অনেক কলেজেই ল্যাব নেই, শিক্ষক সংকট। কিছু বিভাগে নিয়মিত ক্লাস হয়, আবার কিছু বিভাগে নিয়মিত ক্লাস হয় না। সবমিলিয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। আর যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে নিজ উদ্যোগে হলেও নিজের ঘাটতির জাগয়াগুলোর মান উন্নয়ন করতে হবে।

এবার সাত কলেজের অনার্সে বিজ্ঞান অনুষদের ফলাফলের দিকে একটু নজর দেওয়া যাক। গত ২৫ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে ফাইনাল প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ফলাফল, তাতে পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৫৮ ভাগ। গত ৪ জুলাই মৃত্তিকা বিজ্ঞানের প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ২৭ ভাগ। গত ৩০ জুন ফাইনাল গনিত বিভাগের প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৩৬ ভাগ। গতবছর বিজ্ঞান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের ফলাফল দেখেছিলাম, তাতে পাসের হার ৩৮ শতাংশ।

রসায়নের অবস্থাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন এবং অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রও এমন। অন্যান্য কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত কলেজের বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগগুলোর তুলনায় রেজাল্টে প্রায় কাছাকাছি বা সমান। তবে মাঝে মাঝে কিছু ব্যতিক্রমও হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জবির পরিসংখ্যান বিভাগে অনেক শিক্ষার্থী ফেইল করেন, আর গত ২৯ মে সাত কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার ছিল ৯৮ দশমিক ২০ শতাংশ। গত ১৫ জুন সাত কলেজ অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ রসায়ন বিভাগের প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৮৯ ভাগ আর পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পাসের হার ৬৮ দশমিক ৩৬ ভাগ।

গত ১৫ জুন অনার্স প্রথম বর্ষ প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর গত ৪ জুলাই ফাইনাল গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এই সাবজেক্টটা আছে শুধু ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজে।

সুতরাং ঠিক মতো পড়াশোনা করলে সাত কলেজের সায়েন্সের সাবজেক্টগুলোতে ফাস্ট ক্লাস পাওয়া সম্ভব। সাত কলেজের বিজ্ঞান অনুষদের ফলাফলের চিত্র আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। আর যারা নিয়মিত পড়াশোনা করে তারা ফেইল করে না। সুতরাং বিজ্ঞান অনুষদের অনার্সের ফলাফল নিয়ে হতাশার কিছু নেই। শ্রম, চেষ্টা ও সাধণা করলে ভালো কিছু করা সম্ভব।

এবার আসি বিজ্ঞান বিভাগের সাবজেক্টের সেশনজটের খবর নিয়ে। সাত কলেজের কোনো অনুষদে ১৭-১৮ সেশনের পর থেকে সেশনজট নিয়ে নেই। চার বছরে অনার্স কোর্স শেষ হয়ে যাবে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স শেষ করতে চার বছরের জাগয়া সাড়ে বছর বা পাঁচ বছরও লেগে যায়। কিন্তু সাত কলেজে চার বছরেই শেষ হবে অনার্স। বলি রাখি, করোনার কারণে সবার যেমন এক বছর করে লস হয়েছে, তেমন সাত কলেজ শিক্ষার্থীদেরও হয়েছে। আজ এই পর্যন্তই। যেকোনো পরামর্শ জন্য তোমরা আমাকে ফেসবুক নক করতে পারো, যতটুকু সম্ভব তোমাদের ডাকে সাড়া দিব।

লেখক: ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক।


সর্বশেষ সংবাদ