দীর্ঘ সময় নাকি কার্যকারী পড়াশোনা— ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোনটি প্রয়োজন?

টিপস ও টিউটোরিয়াল
লেখক ও ভর্তি পরীক্ষার্থী  © টিডিসি ফটো

তোমরা যারা এবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছো তাদের মধ্যে অনেকেরই একটি কমন প্রশ্ন থাকে ভাইয়া ভর্তি পরীক্ষার জন্য দিনে কত ঘণ্টা পড়তে হবে? যার প্রতি উত্তরে তোমাদের আশেপাশের ভাইয়েরা বিভিন্ন ধরনের উত্তর দিয়ে থাকে

কেউ বলে দিনে ছয় ঘন্টা,আমার কেউ কেউ দশ বা বারো ঘন্টা বা তারো অধিক। আবার অমেকেই বলবে দিনে দশ ঘন্টা পরেও ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে পারে নি। এখানেই প্রশ্ন চলে আসে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা ও কার্যকরী পড়াশোনার কথা নিয়ে।

সবার পড়াশোনার ধরণ কখনোই এক রকম নয়। কারো মুখস্থ করার দক্ষতা বেশি, কারও সৃজনশীলতা বেশি আবার কারো লেখার দক্ষতা বেশি হয়ে থাকে। এই দক্ষতাগুলো সবার সমান হয়ে থাকে না। যার অনুশীলন যত বেশি হয়ে থাকে তার সেই বিষয়গুলোতে দক্ষতা সবচেয়ে বেশি হয়। তাই ভর্তি পরীক্ষার সময় দিনে কতটুকু পড়তে হবে তা নির্ভর করে তার আগে থেকে অনুশীলন কতটুকু ছিল।

আরও পড়ুন: এক চাবিতেই খুলছে জবি ছাত্রী হলের একাধিক রুমের তালা (ভিডিও)

তাহলে ভাইয়া কিভাবে বুঝবো আমার দিনে কত ঘন্টা পড়তে হবে? তুমি যখন ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধান করতে যাবে, তখন তুমি নিজেই বুঝতে পারবে তোমার অবস্থান কি। তোমার দিনে একটি লক্ষ্য রাখতে হবে অর্থাৎ আমি একটি রুটিনের কথা বলছি যেটা তুমি প্রতিদিন মেনে চলবে। অর্থাৎ সেই  রুটিনে তোমার ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাসকে ভাগ করে নেবে দিন হিসেবে। এখন সেই পড়াটুকু করতে তোমার যতক্ষণ লাগবে তোমাকে দিনে ততক্ষনই পড়তে হবে। আবার দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করে কোন লাভ নেই যদি সেই পড়াটি কার্যকরী না হয়। কার্যকরী পড়াশোনা বলতে এক ঘণ্টার জন্য হোক বা দুই ঘণ্টার জন্য পড়তে বসো মাথার মধ্যে সবসময় পড়াশোনার কথায় রাখতে হবে। দুনিয়ার আর কোন বিষয় মাথার মধ্যে রাখা যাবে না। তাই দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করার থেকে কার্যকরী পড়াশোনা আগে প্রয়োজন সকল শিক্ষার্থীদের জন্য।

ভর্তি পরীক্ষার অন্যতম প্রয়োজনীয় বিষয় আত্মবিশ্বাস

এই সময় যে বিষয়টা সবচেয়ে বেশি হয় সেটা হলো- যাদের আগের অনুশীলন একটু কম থাকে তারা প্রশ্নব্যাংক সমাধান করতে গিয়ে খুব দ্রুতই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। আর আত্মবিশ্বাস যদি একবার হারিয়ে যায় তাহলে কোনভাবেই আর এডমিশনে ভালো করা সম্ভব নয়। তাই যতটুকুই তোমারা পারো ততটুকু নিয়ে আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে এগিয়ে যেতে হবে। তাই কোনভাবেই আত্মবিশ্বাস হারানো যাবে না। কারো যদি আত্মবিশ্বাসটা ভালো থাকে তার অনুশীলন একটু হালকা হলেও ভর্তি পরীক্ষায়  ভালো করা সম্ভব। এটি একটি সম্ভাবনা মাত্র। অনুশীলন ছাড়া কখনোই ভালো কিছু করা সম্ভব নয়।

ভর্তি পরীক্ষা গুলো শুরু হবার বেশ কিছুদিন সময় আছে। সেই সময়ে তোমাদের যাদের অনুশীলন একটু হালকা আছে তাদের আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে অনুশীলনটাকে বাড়িয়ে নিতে হবে এবং কার্যকরী পড়াশোনা করতে হবে। সকলের সফলতা কামনা করছি।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)


x