ঢাবি ‘গ’ ইউনিট: ‘পাস করাটাই যেখানে চান্স পাওয়ার পূর্বশর্ত’

পাস করতে পারলেই চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০% - মেহেদি হাসান লিংকন
পাস করতে পারলেই চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০% - মেহেদি হাসান লিংকন  © টিডিসি ফটো

আগামী ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যতম প্রতিযোগিতপূর্ণ ইউনিট, সি-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। এ পড়াশোনার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন সঠিক নির্দেশনা এবং বাস্তবমুখী পরামর্শ। এ বিষয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজম্যান্ট ডিপার্টমেন্টের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মো: মেহেদি হাসান লিংকন। 

‘‘ ইতোমধ্যেই তোমরা নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছ বলে আশা করছি। আর কয়েকদিন পরেই 'সি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষার মানবন্টন ও সময় নিয়ে তোমরা অবগত আছো। আমি তোমাদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কিছু বাস্তবতা তুলে ধরবো, আশা করছি এতে তোমাদের চিন্তা কিছুটা কমবে।

আরও পড়ুন: ঢাবি-জাবি-রাবি-চবি কিংবা গুচ্ছ— ইংরেজিতে ভাল নম্বর পাওয়ার কৌশল

বিগত বছরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরীক্ষার প্রশ্ন তোমাদের জ্ঞানের আয়ত্তের মধ্যেই আসে। কিন্তু অনেকে পরীক্ষার হলের প্রেসার নিতে পারে না বিধায় সহজ জিনিস ভুল করে বসে। তাই প্রথমে তোমাদের কাজ হবে নিজেদের মধ্যে একটা ডোন্ট কেয়ার ভাব আনা। মনে মনে নিজেকে বলবে, আরে এত কষ্ট করে প্রস্তুতি নিয়েছি চান্স আমি পাবো না তো কে পাবে!।

যেকোনো ভর্তি পরীক্ষা একটি নেগেটিভ প্রক্রিয়া। কারণ এখানে যতজন পাস করে তার চেয়ে বেশী ফেইল করে। পরীক্ষা নেয়াই হয় তোমাকে ফেইল করানোর জন্য, সুতরাং এখানে পাস করাটাই চান্স পাওয়ার পূর্বশর্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সি' ইউনিটে পাসের হার সবসময়-ই ১০% বা তার কিছু বেশী থাকে। গড়ে প্রতিবছর ৩০,০০০ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পাস করে ১০% অর্থ্যাৎ ৩০০০ জন। 'সি' ইউনিটে আসন সংখ্যা ১,২৫০টি।

এতে বুঝা যায়, পাস করতে পারলেই চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০%!  কথা হচ্ছে, তোমরা অনেকে চিন্তা করতে পার এত ভালো ভালো কলেজের এত ভালো ভালো ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা দিবে, আমি কি চান্স পাবো? যত ভালো শিক্ষার্থীই হোক না কেন তুমি চিন্তা করবে যে, যারা চান্স পাবে তাদের একজন। তাছাড়া ৩০,০০০ পরীক্ষা দিলেও তোমার কম্পিটিশন তুমি সেট করবে ৩০০০ জনের সাথে যারা কিনা পাস করবে। এবার তুমিই চিন্তা করো ৩,০০০ জনের মধ্যে একটি সিট পাওয়া কি খুব কঠিন! নিজের উপর বিশ্বাস রাখো, যেকোনো কিছু থেকে অনুপ্রেরণা নেয়ার চেষ্টা করো।

আমি আমার কথাই বলি, আমার কাছে একটি মুভির সংলাপ খুব মনে ধরেছিলো, যার বাংলা হলো ‘সকালে যখন একটি বাঘ জেগে ওঠে,   ভাবে, আমি যদি এখান থেকে না যাই তবে আমি না খেয়ে মারা যাব, আবার যখন একটি হরিণ ঘুম থেকে জেগে ওঠে সে-ও ভাবে, আমি যদি এখান থেকে না যাই, তবে আমি বাঘের হাতে মারা যাবো। এখানে ম্যাসেজ হচ্ছে তুমি বাঘ হও কিংবা হরিণ, বাচঁতে তো তোমাকে হবেই। 

আমারও তো সেটাই কথা তুমি স্বনামধন্য কলেজের হও কিংবা অজপাড়াগাঁয়ের কেউ, চান্স তো তোমাকে পেতেই হবে!’’

লেখক: শিক্ষার্থী, ম্যানেজম্যান্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 


সর্বশেষ সংবাদ