যারা ‘না’ বলতে পারেন না

আয়মান সাদিক
আয়মান সাদিক  © সংগৃহীত

আমরা প্রত্যেকেই জীবনে কমবেশি এমন সিচুয়েশনে পড়েছি যেখানে হয়তো নিজের ইচ্ছা ছাড়াই কোনো কাজের জন্য রাজি হতে হয়েছে। প্রতিদিনের জীবনেই কিন্তু অহরহ আমাদের এই ঘটনাটা ঘটে। কখনো হয়তো লজ্জার কারণে কিংবা অপরদিকের মানুষটি কী মনে করবে এই ভেবেও আমরা ঠিক ‘না’ বলে উঠতে পারি না।

তবে কাঁচুমাচু হয়ে অন্যের কোনো কাজে রাজি হলে সেটা যেমন নিজের উপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করে, পাশাপাশি কাজটিও খুব একটা ভালো হয়না। যার ফলে খুশি থাকে না অপরদিকের মানুষটিও। ফলাফল সম্পর্কগুলোতেও ঠিক কেমন যেন দূরত্ব সৃষ্টি হয়।

‘না’ বলতে পারাটা কিন্তু একটি স্কিল। এটি আমাদের অভ্যাসের মাধ্যমে রপ্ত করতে হয়। এরপরও কয়েকটি মেন্টাল কনসেপ্ট মাথায় রাখলে আপনার জন্য “না” বলা সহজ হয়ে যাবে। সেই কনসেপ্টগুলো হলো:

১। সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বললে আপনি এমন অনেক কাজেই ‘হ্যাঁ’ বলে ফেলবেন যেগুলো করার কোনো দরকার ছিল না।
২। সবার সব কাজেই ‘হ্যাঁ’ বলার আরেকটা অর্থ হলো নিজের সময়ের দাম কমিয়ে নিজেকে সহজলভ্য করে ফেলা। এটা মোটেও কাজের কথা নয়।
৩। কাউকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ‘হ্যাঁ’ বলে কাঁচুমাচু করার চেয়ে, সরাসরি ‘না’ বলে ক্লিয়ার থাকাটা সবার জন্যই ভালো।

৪। দিনশেষে সব কাজ যদি কেবল আপনার উপরেই আসতে থাকে তবে বুঝতে হবে কোথাও কোনো একটা সমস্যা হচ্ছে। আপনি হয় মানুষ চিনতে ভুল করেছেন, যে কিনা নিজের কাজগুলোও করিয়ে নিচ্ছে আপনাকে দিয়ে। আর নয়তো আপনি কাজ বুঝে নিতে ভুল করেছেন। যার ফলে আপনার নিজের উপর বেশি কাজের চাপ অনুভূত হচ্ছে।

বই আর ইন্টারনেট থেকে পাওয়া দুটো উক্তি দিয়ে শেষ করি, “সবাইকে খুশি করতে চাইলে নেতা না হয়ে বরং আইসক্রিম বিক্রি করুন।” দ্বিতীয়টা স্টিভ জবস বলেছিলেন বোধ হয়, “একটা আইডিয়াকে ‘হ্যাঁ’ বলা মানে এক হাজারটা আইডিয়াকে ‘না’ বলা।” [ফেসবুক থেকে সংগৃহীত]


মন্তব্য