যেভাবে নেবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ ইউনিট ভর্তি প্রস্তুতি 

যেভাবে নেবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ ইউনিট ভর্তি প্রস্তুতি 
শিশির আসাদ   © ফাইল ছবি

শুভেচ্ছা নিও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের [গ ইউনিট] ভর্তি পরীক্ষা করোনা পরিস্থিতি অনুকুলে থাকলে আগামী ২৭ শে মে অনুষ্ঠিত হবে৷  সে হিসাবে তোমাদের হাতে আর মাত্র এক মাস  সময় বাকি আছে। ঢাবির প্রতিটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাতেই শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়। সেজন্য পরীক্ষায় ভালো করতে চাইলে তোমাদের নিতে হবে কঠোর প্রস্তুতি। গ ইউনিটের প্রায় ১২৫০ আসনের বিপরীতে সাধারণত ৪০-৫০ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। তাই এতসংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্যে মেধা তালিকায় নিজের নামটি রাখতে চাইলে শুধু মেধাবী হলেই চলবে না। পরীক্ষায় তারাই ভালো করে যারা উপযুক্ত কৌশল অবলম্বন করে পড়াশোনা করে ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করে। অনেক সময় দেখা যায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার পরেও পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত এক ঘণ্টা সময়ের যথার্থ ব্যবহার করতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক ভালো ছাত্রও ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাই তোমাদের ভর্তি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে সহায়ক কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করব। সে সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার দু-তিন দিন আগে কী পড়াশোনা করবে তা নিয়েও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করব।

ইংরেজি: ইংরেজি গ্রামারের প্রশ্নের জন্য Cliffs Toefl, বা Barron’s Toefl বা Lecture Sheet উদাহরণ ও অনুশীলনীসহ ভালো করে পড়বে। Vocabulary, Group Verb, Phrase and Idioms, Appropriate Preposition ইত্যাদি টপিকের যা যা পড়া আছে, তা-ই আবার রিভিশন দাও। এগুলো থেকে কমন পাওয়া কিছুটা দুষ্কর হলেও অসম্ভব না। তাই আপাতত এদিকে বেশি সময় না দেওয়াই ভালো। বেশি জোর দেবে গ্রামার অংশে। প্রতিবছর গ্রামার থেকে ১০-১২টি প্রশ্ন থাকে। Right form of verbs, Narration, Article, Tag Question, Sentence ও Parts of Speech-এর নিয়মগুলো খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখবে।

গ্রামারের ব্যতিক্রম নিয়মগুলো সম্পর্কে যেন স্বচ্ছ ধারণা থাকে। আগের বছরের প্রশ্নগুলো খেয়াল করলে দেখবে- ব্যতিক্রম নিয়মগুলো থেকেই প্রশ্ন এসেছে।

ইংরেজি প্রথম পত্রের কবিতা ও কবির নাম, কবিতার প্রথম ও শেষ লাইন থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা আছে। উইলিয়াম শেকসপিয়ার সম্পর্কিত তথ্যগুলো মনে রাখবে। এর সঙ্গে Lesson ২-এর The Unforgettable History-এর ওপর যেন ভালো দখল থাকে।

বাংলা : বাংলার জন্য উচ্চমাধ্যমিকের মূল বইটাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে বাংলা প্রথমপত্র পড়তে হবে, তা নিয়ে আলোচনা করা যাক-

(১) বাংলা প্রথমপত্রের গদ্য ও পদ্যের "মূলবাণী/প্রধান আলোচ্য বিষয়/ফুটিয়ে তোলা হয়েছে/ব্যক্ত করা হয়েছে/শিক্ষণীয় বিষয়- যে কোনো একভাবে পরীক্ষায় আসতে পারে। তাই প্রতিটা গদ্য ও পদ্যের মুলবাণী সিরিয়াল অনুযায়ী মুখস্থ করতে হবে।
(২) প্রতিটা গদ্যের ও পদ্যের "উৎস" থেকে এক বা একাধিক প্রশ্ন এসে থাকে।
তাই, সবগুলো গদ্য ও পদ্যের উত্স সিরিয়াল অনুযায়ী মুখস্থ করতে হবে।
(৩) কবিতার ছন্দ থেকে প্রশ্ন আসে।
(৪) বাংলা প্রথমপত্র অন্তর্ভুক্ত কবি ও লেখকদের পরিচিতি থেকে প্রশ্ন আসে।
(৫) শব্দার্থ থেকে প্রায় প্রতি বছরই এক বা একাধিক প্রশ্ন এসে থাকে। তাই পাঠ্যবইয়ের অন্তর্ভুক্ত সবগুলা শব্দার্থ ভালোভাবে মুখস্থ করতে হবে।
(৬) "কবিতায় কোনো সংখ্যা/স্তবক/লাইন/কোনো বিশেষ কিছু(যেমন- রং, গাছ, ফুল,ঋতু,মাস.....) কতবার" এ জাতীয় টপিকস থেকে প্রশ্ন এসে থাকে।
(৭)বিভিন্ন গদ্যে ব্যবহৃত চরিত্রাবলী থেকে প্রশ্ন এসে থাকে।
(৮) "উক্তি"- বাংল্সংকলন অন্তর্ভুক্ত কোন রচনায়/কে বলেছে/কাকে বলেছে/কেন বলেছে.. এসব থেকে প্রশ্ন আসে।

এছাড়াও গদ্য ও পদ্যের গুরুত্বপূর্ণ লাইন, ভাষাভিত্তিক অংশ, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ, সন্ধি। এগুলোর যা যা বইতে আছে, তার সবগুলোই ভালোভাবে পড়তে হবে। তাহলে ইনশাল্লাহ, বাংলা প্রথমপত্র থেকে যে প্রশ্ন গুলো আসবে, তার ৯০% এরই সঠিক উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে।

দ্বিতীয়পত্র অর্থাৎ ব্যাকরণ অংশে ভালো করার জন্য তোমাদের প্রথমেই যে কাজটা করতে হবে, তা হলো ‘বাংলা প্রথমপত্র’ বইয়ের সবগুলা গদ্য ও পদ্যের শেষে "ব্যাকরণ" এর যা যা দেওয়া আছে, তা বুঝে হোক বা না বুঝে হোক, ভালোভাবে মুখস্থ করতে হবে।

যে যে টপিকস থেকে সবচেয়ে বেশিবার প্রশ্ন এসেছে, এমন ৮-১০টি টপিকসের উপর ভালোভাবে প্রস্তুতি নাও।

১. ধ্বনি প্রকরণ
২. যুক্ত ব্যঞ্জন বিশ্লেষণ
৩. শব্দ সম্ভার
৪. পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ
৫. সংখ্যাবাচক শব্দ
৬. দ্বিরুক্ত শব্দ
৭. বচন
৮. পদাশ্রিত নির্দেশক
৯. উপসর্গ
১০. সমাস
১১. প্রকৃতি ও প্রত্যয়
১২. পদ প্রকরণ
১৩. পদ পরিবর্তন
১৪. ক্রিয়ার কাল ও ভাব
১৫. বাক্য প্রকরণ
১৬. বাক্য রূপান্তর
১৭. বাচ্য
১৮.যতি ছেদ বিরাম
১৯. শুদ্ধিকরণ

ম্যানেজমেন্ট: ম্যানেজমেন্টের মূল অংশগুলো ভালো করে পড়বে। বিগত বছরগুলোর প্রশ্নে দেখা যায়, সাম্প্রতিক দেশীয় বা বৈদেশিক ব্যবসায় প্রবাহ থেকে কিছু প্রশ্ন আসে। সেগুলোও মনোযোগ দিয়ে পড়বে।

অ্যাকাউন্টিং: বিগত ১৫ বছরের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে দেখে নিবে। সেই সঙ্গে অ্যাকাউন্টিংয়ের মূল বিষয়গুলো খুঁটিনাটিসহ অবশ্যই ভালোভাবে পড়াশোনা করবে। বিগত বছরের প্রশ্ন ঘেঁটে দেখা যায়, সঠিক অঙ্কবিষয়ক প্রশ্ন হয় ৪-৫টা, অঙ্ক সম্পর্কিত প্রশ্ন হয় আরও ৪-৫টা। আর বাকিগুলো ব্যবহারিকভিত্তিক প্রশ্ন। তাই তত্ত্বীয় প্রশ্নগুলোর ওপর বেশি জোর দিতে হবে।

বিষয়ভিত্তিক ভালো প্রস্তুতির পাশাপাশি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে চাইলে আনুষঙ্গিক আরও কিছু বিষয়ের প্রতি অবশ্যই নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন অনেক রাত পর্যন্ত জেগে পড়াশোনা ও পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদিতে বসে পড়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। যেহেতু প্রশ্ন কোনো একটা নির্দিষ্ট অংশ থেকে আসে না, তাই এভাবে দু'এক ঘণ্টা পড়ে পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন পাওয়ার নজির খুবই কম। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে প্রবেশপত্র, ক্যালকুলেটর, কালো বলপেন সঙ্গে আছে কিনা। আর পরীক্ষা দেওয়ার সময় প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর তোমাদের প্রথম কাজ সেট কোড পূরণ করা। তাছাড়া সময়ের ব্যাপারেও সচেতন থাকবে।সময়ের দিকে খুব খেয়াল রাখবে। আর প্রশ্নপত্রের কোন অংশটি দিয়ে উত্তর শুরু করবে তা নিয়েও অনেকেই বিভ্রান্তিতে থাকে। তাই এ বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখতে হবে। বাংলা, ইংরেজিসহ অন্যান্য অংশের মধ্যে যে অংশে নিজেদের ভালো দক্ষতা রয়েছে তা দিয়েই উত্তরদান শুরু করতে হবে। তবে অধিকাংশ পরীক্ষার্থীদেরই বাংলা অথবা ম্যানেজমেন্ট দিয়ে শুরু করতে দেখা যায়। যেহেতু ইংরেজিতে ইনডিভিজুয়ালি পাশ না করলে অকৃতকার্য বলে গণ্য করা হয় তাই দ্বিতীয় ধাপে ইংরেজি অংশের উত্তর করা উচিত। প্রতিটি উত্তর আত্ববিশ্বাসের সঙ্গে দাগাবে। একটি ব্যাপার খুবই গুরুত্ব সহকারে লক্ষ রাখবে, কোনোভাবেই যেন এমন না হয় যে, বাংলা বা ইংরেজি অংশে হিসাববিজ্ঞান বা ম্যানেজমেন্টের বৃত্ত ভরাট করে ফেলেছ। এ জন্য প্রথমে একনজরে বাংলা, ইংরেজি, অ্যাকাউন্টিং, ম্যানেজমেন্ট ও ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের অংশ এবং এদের সিকোয়েন্সটা ভালোভাবে দেখে নেবে। শেষের দিকে হিসাববিজ্ঞানের উত্তর করা যেতে পারে কারণ এই অংশে কিছু অঙ্ক থাকে। হিসাববিজ্ঞান অংশে প্রথম ধাপেই থিওরিটিক্যাল প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে। পরে অঙ্ক অংশটা সমাধান করবে। সবার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। 

লেখক: সিইও, ডিইউ মেনটরস


মন্তব্য