রমজানে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা হবে কীভাবে?

রমজানে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা হবে কীভাবে?
  © প্রতীকী ছবি

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে রমজান মাসে পড়াশোনা করার সুযোগটা একটু বেশি হয়। অনেকেই একমত হতে চায় না, এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে আমার কাছে কেউ সাজেস্ট চাইলে আমি রমজান মাসটার কথা উল্লেখ করি।

অন্য সবার কথা বাদ। আমি যে কারণে এই মাসটাকে পড়াশোনা করার একটা আদর্শ মাস হিসেবে চিহ্নিত করেছি তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ রয়েছে।

রমজান মাসে রোজা রাখার ফলে আমাদের শরীরে যে অলসতার একটা ভাব থাকে সেটা দূর হয়ে যায়। ঘুম কম হয়, এটাও কিন্তু একটা প্লাস পয়েন্ট। এর বিপরীতে অনেকেই যুক্তি উপস্থাপন করতে পারে, কি বলেন......। এই মাসে তো না খেয়ে থাকতে হয়, শরীর দূর্বল লাগে, সারাদিন ঘুমাই। তাহলে পড়া কেমনে হবে?

ভাই প্রথমে বলবো যতই অযুহাত দেখাও এটাই বেস্ট একটা মাস! তুমি যে একাই না খেয়ে থাকো বা রোজা রাখো এমন না পৃথিবীর সমস্ত মুসলমানই একই কাজ করে। আমি সেদিকে যাবো না। বাকি ১১ মাস তোমরা দেখে থাকবে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে শরীর একটু ভারী ভারী লাগে। ঘুম আসে। কিন্তু এই মাসে খাবারের টেনশন থাকে না। ঘুম কম হয়, শরীর হালকা মনে হয়।

এই মাসটাতে মস্তিষ্ক তুলনামূলক বেশি সচল থাকে। শরীরের রোগব্যাধিও একটু কম হয় যারা রোজা পালন করে তাদের মাঝে। বুয়েট পড়ুয়া এক ভাইয়ের কথা জানি যিনি এডমিশনের সময় কম খেতেন। হালকা খেতেন। আরেক মেডিকেলে পড়ুয়া এক ভাইকে দেখেছি তিনি এডমিশন সিজনে রোজা রেখে পড়াশুনা করতেন।

তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে বলতেন, ‘খেলে শরীর ভারী হয়ে যায়, ঘুম চলে আসে। ঠিকমতো পড়তে পারি না। আর পড়ায় একাগ্রতা আসে না। এজন্যই কম খাওয়ার চেষ্টা করি।’ তারা কিন্তু ঠিকই পড়াশোনা করে একটা ভালো জায়গায় পৌঁছতে পেরেছিলেন।

রোজা আত্মশুদ্ধির একটা রাস্তা! এই কথাগুলো না বুঝতে পারলে আমার কিছু করার নেই। তোমরা পড়াশোনা করলে করো না করতে চাইলে পড়ো না, তোমাকে তো আর আমি বাধ্য করছি না পড়াশোনা করতে।

যার মনে চায় কয়েকটা দিন পরে কার্জনের সবুজ ঘাসে বসে আড্ডা দিতে, বটতলায় বসে হরেকরকম ভর্তা দিয়ে দুপুড়ে পেট পূজা করতে, কিংবা প্যারিস রোডে দাড়িয়ে বুক ভরে নিঃস্বাস নিতে, অথবা চবির হলে শুয়ে থেকে জানালা দিয়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে তারাই পড়াশোনাটা চালিয়ে যাও। আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং এডমিশন একসাথে হয়ে যাক।

মনে রাখবা পড়াশোনাটাও এক ধরনের ইবাদত! এই ইবাদতে যে ফাঁকি দেয় জীবনও তাকে ফাঁকি দেবে। অনেক কথাই বললাম। আশ্বস্ত করলাম। বুঝতে না পারলে উপরের লেখাটুকু আরেকবার মনযোগ দিয়ে পড়ো।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ