আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার খুঁটিনাটি

আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার খুঁটিনাটি
  © টিডিসি ফটো

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সারাদেশে লকডাউনের কারণে আমর্ড ফোর্সেস মেডিকেল ও ৫টি আর্মি মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। 

রবিবার (৪ এপ্রিল) আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের কম্যান্ড্যান্ট স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিধি নিষেধের কারণে আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ও ৫টি আর্মি মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। পরীক্ষার তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে। 

এই ভর্তি পরীক্ষা কিভাবে ভালো প্রিপারেশন রাখা যায় আজকের লেখায় সে বিষয়েই আলোচনা করা হবে। আমর্ড ফোর্সেস মেডিকেল ও ৫টি আর্মি মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার খুঁটিনাটি নিয়ে লিখছেন শিশির আসাদ—

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক পরিচিতি, পরীক্ষার মান বণ্টন ও বাছাই প্রক্রিয়া
আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ-১টি। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে এই মেডিকেল কলেজের অবস্থান।
স্টুডেন্ট ক্যাটাগরি ২ ধরণের—
-AFMC ক্যাডেট
-AMC ক্যাডেট ।

AMC & AFMC এর মধ্যে পার্থক্য কি?
AMC মানে হলো Army Medical Core. সবাই যেটা ভুল করে সেটা হলো আর্মি মেডিকেল কলেজ। হ্যা, আর্মি মেডিকেল কলেজ আছে ৫টি,  সেটা ভিন্ন।  আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ এ যারা AMC ক্যাডেট হিসাবে চান্স পাবে তারা কোর্স শেষে সরাসরি সেনাবাহিনী তে যোগদান করবে। এখানে চান্স পাওয়াটা অনেক কঠিন কারন ISSB তে কোয়ালিফাইড হতে হয়। অন্যদিকে AFMC ক্যাডেট দের এসব ঝামেলা নেই ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেলেই হবে।

পরীক্ষার মানবন্টন
লিখিত পরীক্ষা (MCQ পদ্ধতি)= ১০০ নম্বর।

বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজন
পদার্থবিদ্যা ৩০
রসায়নবিদ্যা ৩০
জীববিদ্যা ৩০
ইংরেজি ০৫
সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি) ০৫

১) লিখিত পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তর প্রদানের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হবে
২) লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে নূন্যতম ৪০ নম্বর পেতে হবে।
৩) লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের কম নম্বর প্রাপ্তরা অকৃতকার্য বলে গণ্য হবেন।
৪) শুধুমাত্র কৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের মেধাতালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

প্রার্থী মূল্যায়ন পদ্ধতি
এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান এর জিপিএ এবং ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থীদের নিম্নলিখিত ভাবে মূল্যায়ন করা হবে :

১) এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ-এর ১৫ গুণ ৭৫ নম্বর (সর্বোচ্চ)
২) এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ-এর ২৫ গুণ ১২৫ নম্বর (সর্বোচ্চ)
৩) MCQ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা ১০০ নম্বর।
মোট ৩০০ নম্বর

পরীক্ষার্থী যদি পূর্বে মেডিক্যাল/ডেন্টাল পরীক্ষা দিয়ে থাকে সেক্ষত্রে তার ৫ মার্ক এবং পরীক্ষার্থী যদি মেডিক্যাল / ডেন্টালের ছাত্র বা ছাত্রী হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তার ৭.৫ মার্ক কাটা যাবে।

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবে প্রতিটি বিষয় ভালো করে রিভিশন দেওয়া জরুরি। কারণ একমাত্র ভালো রিভিশনই পারে পরীক্ষায় সঠিকভাবে প্রশ্নের উত্তর দিতে। মনে রাখতে হবে, ভর্তি পরীক্ষায় অনেক জটিল কিংবা প্যাচ মারা ইকুয়েশন অথবা মাথা ঘুরানো রিয়াকশন খুব একটা থাকে না। ভালো প্রিপারেশন থাকলে খুব সহজেই এগুলো উত্তর করা যায়। একে একে সবগুলো বিষয় নিয়ে কিভাবে প্রিপারেশন নিতে হবে সেটা বিস্তারিত ভাবে লিখছি-

সাধারণ জ্ঞান
যেকোনো সাধারণ জ্ঞানের বই থেকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি  শেষবারের মতো দেখে নাও। যদি বই সাজেস্ট করতে বলো তাহলে বাজারে সাধারণ জ্ঞানের GK MASTER নামে একটা  বই পাওয়া যায়। এটা থেকে পড় হুবুহু কমন পাবে৷ বইটি জটিল নয় সহজে পড়ে শেষ করতে পারবে। সর্বশেষ মেডিকেল এক্সামে যথেষ্ট ভালো করছে বইটি।

ইংরেজি
বিগত বছরগুলোতে মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রশ্নপত্রে যেসব বিষয়ের ওপর ইংরেজি প্রশ্নগুলো (যেমন ভয়েস, ন্যারেশন, সিনোনিম, এনটোনিম, কারেকশব, স্পেলিং, প্রিপজিশন, ফ্রেশ এবং ইডিয়মস ইত্যাদি) সেগুলো সমাধান করার পাশাপাশি ভালো কোনো গ্রামার বই থেকে ওই বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পড়তে হবে।

পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গাণিতিক সমস্যা
পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গাণিতিক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বিগত ১০ বছরের মেডিকেল এবং ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর বারবার রিভিশন দিতে হবে। এই কয়দিন শুধু বইয়ের দাগানো তথ্যগুলো রিভিশন দিতে হবে।

পরীক্ষার আগের দিন করণীয়
মূল পরীক্ষার আগে প্রিপারেশন শেষ করা জরুরি। পরীক্ষার ঠিক আগের দিনটিতে বেশি পড়ালেখা করার কোনো দরকার নেই। রিলাক্স মুডে থাকতে হবে। নিজের সিট কোথায় পড়ল, সেটা একবার দেখে আসাটা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ পরীক্ষার দিন সকালে তাহলে আর টেনশনে পড়তে হবে না।

পরীক্ষার দিন করণীয়
যেখানে তোমার সিট পড়েছে, সেই হল খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রবেশ করতে হবে। ধীর স্থির হয়ে বসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন বলপয়েন্ট কলম, পেনসিল, ইরেজার, প্রবেশপত্র টেবিলে রেখে পরীক্ষক প্রশ্নপত্র তোমাকে দেওয়ার পর সাবধানে নির্ধারিত ঘরগুলো পূরণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন ওএমআর ফরমের নির্ধারিত ঘরগুলো পূরণে ভুল না হয়, সেদিকে খুব সতর্ক থাকতে হবে।

প্রথম ৩০ মিনিটে ৫৮-৬০টি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলতে হবে। পরের ২০ মিনিটে বাকি ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। শেষ ৮-১০ মিনিট রিভিশন এবং উত্তর না দেওয়া প্রশ্নগুলো সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। কোনো একটি প্রশ্ন না পারলে সেটির পেছনে অযথা সময় নষ্ট করা যাবে না।

আর্মড ফোর্সেসে খরচ কেমন?
প্রতিমাসে মোটামুটি ৮ হাজারের মত (হোস্টেল, খাওয়া, বেতন সবসহ)
AMC ক্যাডেটদের খরচ কিছুটা কম+প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা পকেট মানি দেয়।

লেখক: সিইও, ডিইউ মেনটরস


মন্তব্য