০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:১৫

জাবি ভর্তি: মানবিকের শিক্ষার্থীদের যে পরামর্শ দিলেন ‘সি’ ইউনিটের প্রথম ফুয়াদ

এস এম মোবাশ্বের আহমেদ ফুয়াদ  © টিডিসি ফটো

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে ইচ্ছুক মানবিক, কলা ও বিভাগ পরিবর্তনের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পর দ্বিতীয় পছন্দ দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও একক। জাবির ভর্তি পরীক্ষার পরামর্শ তুলে ধরেছেন ২০২০-২১ সেশনে ‘সি’ ইউনিটে প্রথম হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম মোবাশ্বের আহমেদ ফুয়াদ-

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি ইউনিটে ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা সিট বরাদ্দ থাকে এবং আলাদা মেধাতালিকা প্রকাশ করে। ভর্তি পরীক্ষার্থী অনেক বেশি হওয়ায় আর জাবি প্রশাসন নিজ ক্যাম্পাসে পরীক্ষা নেওয়ায় প্রতিটি ইউনিটে শিফটভিত্তিক পরীক্ষা হয় এবং প্রতিটি শিফটে বেশ কয়েক সেট প্রশ্ন থাকে। কোনো শিফটে প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ ও কোনো শিফটে তুলনামূলক কঠিন প্রশ্ন হলেও সব শিফট মিলেই সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার ভিত্তিতে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। এ জন্য জাবিতে চান্স পেতে যেমন কঠোর পরিশ্রম দরকার, তেমনি দরকার কৌশলী হওয়া।

জাবির প্রশ্ন পদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে আলাদা হওয়ায় প্রস্তুতি নিতে কৌশলী হতে হবে। এজন্য বিগত বছরগুলোতে আসা বিভিন্ন প্রশ্নের সমাধান করে সিলেবাস সর্ম্পকে ধারণা রেখে সেই টপিকগুলোর খুঁটিনাটি তথ্য জেনে নিতে হবে এবং প্রশ্ন যেভাবেই আসুক যেন উত্তর পারা যায়।

বিষয়ভিত্তিক সাজেশন
ক. বাংলা: বাংলার জন্যে এইচএসসিতে পড়ানো মূল বই ও ৯ম-১০ম শ্রেণির ব্যাকরণ বই ফলো করতে হবে। নিয়মিত অধ্যয়নের পাশাপাশি প্রচুর প্র্যাক্টিস করতে হবে। 

খ. ইংরেজি: ইংরেজির টেক্সটবুক থেকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টার,কবি ও কবিতা,গ্রামারের জন্যে কেনা যেকোনো বই থেকে গ্রামার অংশ ও ইংরেজি সাহিত্য অংশ দেখে নিলে যথেষ্ট হবে।

গ. গণিত: মানবিকের শিক্ষার্থীদের জন্য গণিত শুধু 'বি' ইউনিটে এসে থাকে। গণিতের জন্যে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রশ্নব্যাংক সলভ করলে দেখা যায় কয়েক ধরনের টপিক থেকে ঘুরেফিরে প্রশ্ন আসে। তাই সে টপিকগুলোর সূত্র মুখস্থ করে প্র‍্যাক্টিস করতে হবে। 

গ. সাধারণ জ্ঞান: সাধারণ জ্ঞান অংশে এইচএসসির অর্থনীতি বইটা ফলো করতে হবে।তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পাশাপাশি জাতীয় বাজেট, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা ও এইচএসসির সিলেবাসে থাকা অর্থনীতির চ্যাপ্টারগুলো রিভিশন দিতে হবে। সর্বশেষ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও পড়তে হবে।

ঘ. আইকিউ প্রস্তুতি: আইকিউ অংশে ভালো করতে হলে পুনর্বিন্যাস (বর্ণ), রক্তের সম্পর্ক নির্ণয়, ঘড়ি ও সময়, ধারা, স্থান, দিক, দূরত্ব, এনালজি টপিকগুলো গুরুত্বসহকারে পড়তে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার্থী অনেক বেশি হওয়ায় আর জাবি প্রশাসন নিজ ক্যাম্পাসে পরীক্ষা নেওয়ায় প্রতিটি ইউনিটে শিফটভিত্তিক পরীক্ষা হয় এবং প্রতিটি শিফটে বেশ কয়েক সেট প্রশ্ন থাকে। কোনো শিফটে প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ ও কোনো শিফটে তুলনামূলক কঠিন প্রশ্ন হলেও সব শিফট মিলেই সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার ভিত্তিতে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। এ জন্য জাবিতে চান্স পেতে যেমন কঠোর পরিশ্রম দরকার, তেমনি দরকার কৌশলী হওয়া।

বিগত বছরের প্রশ্ন সম্বলিত প্রশ্নব্যাংক
জাবির প্রশ্ন পদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে আলাদা হওয়ায় প্রস্তুতি নিতে কৌশলী হতে হবে।এজন্য বিগত বছরগুলোতে আসা বিভিন্ন প্রশ্নের সমাধান করে সিলেবাস সর্ম্পকে ধারণা রেখে সেই টপিকগুলোর খুঁটিনাটি তথ্য জেনে নিতে হবে এবং প্রশ্ন যেভাবেই আসুক যেন উত্তর পারা যায়। শিফটভিত্তিক পরীক্ষায় একই টপিকের উপর ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন হয় যেমন জাতিসংঘ নিয়ে প্রশ্ন আসলে একটা শিফটে প্রতিষ্ঠার বছর জানতে চাইল আরেক শিফটে জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা জানতে চাইল। প্রশ্ন ঠিক এমনই করে করা হয়।তাই সব টপিক ভালোভাবে আয়ত্তে আনতে হবে। 

করতে হবে প্রচুর অনুশীলন
আমরা যখন পড়াশোনা করি তখন সব উত্তর করতে পারব বলে মনে হয় কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয় সব ভুলে গেছি কিংবা প্রশ্নের অপশন দেখলেই কনফিউশনে পড়ে যায়।এক্সাম হলে ঠিক এই সম স্যার মুখোমুখি হয়ে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরা চান্স পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। এজন্যই প্রতিদিন মডেল টেস্ট অনুশীলন করা প্রয়োজন এবং দ্রুত প্রশ্নের সমাধান করা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে টাইম ম্যানেজমেন্ট করা যায়। 

ব্যক্তিগত পরামর্শ
জাবির ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনেক গুজব শোনা যায় এবং এসব শুনে অনেকে ভীত হয়ে নার্ভ ধরে রাখতে পারে না বিধায় এক্সাম খারাপ করে। ফার্স্ট টাইমাররা ভাবে সেকেন্ড টাইমাররাই সব সিট দখল করে নেয় কিন্তু আসলে সেটা না।সেকেন্ড টাইমাররা প্রথমবার এক্সাম দিয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হওয়ায় একটা বাড়তি সুবিধা পায় তবে তাদেরকে অনেক মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সব সময় একটা সংশয় থাকে চান্স না পাওয়ার। এজন্য তারা নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করে।  

সেকেন্ড টাইমারদের উদ্দেশ্য আমার উপদেশ থাকবে এত মানসিক চাপ না নিয়ে শুরু থেকেই ধীরেসুস্থে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং পড়াশোনার মধ্যে থাকতে হবে। হতাশায় হাল ছাড়া যাবে না, লেগে থাকতে হবে।তবেই একদিন জয়ের স্বাদ পাবেন আর জাবিকে নিজের করে নিতে পারবেন। সবার জন্য দোয়া ও শুভ কামনা থাকল।

জাবি ভর্তি প্রস্তুতি বিষয়ক বিষয়ক যেকোনো প্রয়োজনে পাশে আছি। প্রায় ৭০০ একরের সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত জাবি ক্যাম্পাস তোমার অপেক্ষায়।

অনুলিখন: শাহ বিলিয়া জুলফিকার