রাবিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের খেয়াল রাখতে হবে যেসব বিষয়

মো. শরিফুল ইসলাম
মো. শরিফুল ইসলাম   © টিডিসি ফটো

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। রাজশাহীর মতিহার থানায় অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন প্রতিটি শিক্ষার্থীই দেখে। তবে ভর্তিযুদ্ধ নিয়ে শিক্ষার্থীদের রয়েছে ব্যাপক ভীতি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করা উচিত। 

অ্যাকাডেমিক বইয়ের গুরুত্ব:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রশ্ন হয় উচ্চমাধ্যমিকের টেক্সটবুকভিত্তিক। ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিটি ইউনিটেই টেক্সটবুক থেকে অনেক প্রশ্ন হয়ে থাকে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে চাইলে প্রতিটি শিক্ষার্থীরই উচিত উচ্চমাধ্যমিকের টেক্সটবুকগুলো খুবই ভালো করে আয়ত্ত করতে হবে।

ইংরেজি অংশ: 
ভর্তি পরীক্ষায় এক আতঙ্কের নাম হলো ইংরেজি। ইংরেজিতে ভালো করতে হলে অবশ্যই ইংরেজি গ্রামার ও মুখস্থ অংশের দিকে ফোকাস করতে হবে। বাজারে প্রচলিত যেকোনো বই থেকে গ্রামার অংশের বিভিন্ন পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো খুব ভালো করে বিশ্লেষণ করে পড়া উচিত। গ্রামার কোনো মুখস্থের বিষয় নয়। তাই প্রচুর পরিমাণে চর্চা না করলে পরীক্ষার হলে ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইংরেজি মুখস্থ অংশের জন্য বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভোকাবুলারির বই সংগ্রহ করে খুব ভালো করে সমার্থক শব্দ এবং বিপরীত শব্দ গুলো শেষ করতে হবে। এছাড়া বানান, অ্যাপ্রোপ্রিয়েট প্রিপোজেশন, ওয়ার ওয়ার্ড সাবস্টিটিউশন, ইডিয়মস এন্ড ফ্রেজ, প্রোভার্ব সম্পর্কেও খুব ভালো ধারণা  থাকতে হবে। 

বাংলা অংশ: 
বাংলা সাহিত্যের জন্যে উচ্চমাধ্যমিকের মূল বই থেকে যে গদ্য ও পদ্য এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাসে আছে সেগুলো খুব ভালো করে  আয়ত্ত করতে হবে। বাংলা অংশে বেশিরভাগ প্রশ্নই হয় বাংলা সাহিত্য থেকে। তাই এই অংশে ভালো করতে হলে অবশ্যই এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাস (ফুল) সম্পূর্ণ ভালোভাবে পড়তে হবে। শব্দার্থ, লেখক-পরিচিতি, পাঠ-পরিচিতি ইত্যাদি বিষয়ে জোর দিয়ে পড়তে হবে। বাংলা ব্যাকরণের জন্য নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই খুব ভালো করে আয়ত্তে আনা দরকার। পাশাপাশি প্র্যাক্টিস করার জন্য বাজারে প্রচলিত যেকোনো একটি বই সংগ্রহে রাখা উচিত। 

সাধারণ জ্ঞান অংশ:
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি খুব ভালো করে পড়তে হবে। সাধারণ অংশে ভালো করার জন্য বাজারে প্রচলিত যেকোনো একটি বই সংগ্রহ করা যেতে পারে। পাশাপাশি পত্রিকা পড়ার অভ্যাস রাখতে হবে। বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে। 

প্রশ্নব্যাংকের গুরুত্ব:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নব্যাংকের গুরুত্ব অপরিসীম। বিগতসালে কোন কোন টপিক থেকে বেশি প্রশ্ন এসেছে, কোন কোন টপিক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এ সকল বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেতে হলে অবশ্যই রাবির একটি প্রশ্নব্যাংক খুব ভালো করে বিশ্লেষণ করে পড়তে হবে। এছাড়াও বিসিএস-এর প্রশ্নব্যাংক রাবি ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। 

কোচিং ছাড়া চান্স পাওয়া যায় কি: 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কোচিং ছাড়াও চান্স পাওয়া সম্ভব। পরিচিত অনেকেই আছে যারা কোনো কোচিংয়ে পড়েনি কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় খুবই ভালো পজিশন নিয়ে চান্স পেয়েছে। আমার নিজের কথা বললে বলব আমি নিজেও কখনো কোথাও কোচিং করিনি কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো পজিশনে চান্স পেয়েছিলাম। যাদের কোচিং করার মতো অবস্থা নেই তারা হতাশ না হয়ে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রেখে এবং সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে পরিশ্রম করলে সফলতা অবশ্যই আসবে। আর একটা চিরন্তন সত্য কথা হলো ‘পৃথিবীর সকল মানুষ বেইমানি করলেও পরিশ্রম কখনো বেইমানি করে না।’

পরীক্ষার সময়ে করণীয়: 
খুব ঠান্ডা মাথায় ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি হতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত কোনো ভাই বা আপুর কাছে পরীক্ষার জন্য থাকার ব্যাপারে আগেই জানিয়ে রাখতে হবে। পরীক্ষার আগেরদিন মাথায় চাপ না নেওয়ায় ভালো। প্রথম থেকে ভালো করে পড়াশোনা করলে খুব সুন্দর মেজাজে ভর্তি পরীক্ষায় বসা যায়। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে হবে যাওয়ার একদিন আগেই। আবার যাওয়ার সময় খুব ভালো করে চেক করে নেওয়া উচিত।


সর্বশেষ সংবাদ