১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৩৪

শীতে ফাটছে ঠোঁট, ঘরোয়া যেসব উপায়ে থাকবে মসৃণ

শীতে ফাটছে ঠোঁট  © সংগৃহীত

চারদিকে শীতের ঠান্ডা আমেজ শুরু হয়ে কমেছে বাতাসের আর্দ্রতা। শীতকাল মানেই ত্বকের সমস্যা। শীতে ত্বকের চেয়েও বেশি রুক্ষ হয়ে ওঠে ঠোঁট। ফলে ঠোঁট ফাটে। শুষ্ক ও ফাটা ঠোঁট শুধু প্রাণবন্ত হাসির অন্তরায়। কখনো কখনো যন্ত্রণা কারণও। কেননা, কারও কারও ঠোঁট ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। কিছু নিয়ম মেনে চললে মুক্তি পেতে পারেন এই সমস্যা থেকে। 

তাই ঠোঁটের অতিরিক্ত যত্ন জরুরি। আগেভাগে একটু সচেতন হলে সহজেই ঠেকাতে পারবেন শীতে ঠোঁট ফেটে যাওয়ার এই সমস্যাকে। ঠোঁট ফাটা ঠেকাতে অনেকেই চ্যাপস্টিক আর লিপবাম ব্যবহার করেন। এসব উপাদান হয়তো সাময়িক স্বস্তি দেয়, তা কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

লিপবাম বা চ্যাপস্টিকের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক উপায়ে ঠোঁট ফাটা ঠেকাতে পারেন। শীতকাল জুড়ে মসৃণ ও নরম ঠোঁট পেতে চাইলে জেনে নিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস। 

মধু
মধু খুবই ভালো অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াজাত পদার্থ এবং ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বককে কোমল করতে সাহায্য করে, ত্বকের শুষ্ক হয়ে যাওয়া থেকে রোধ করে। এই দুটো জিনিস যদি একসঙ্গে ঠোঁটে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা ঠোঁটের জন্য উপকারীও হবে আবার ঠোঁট ফাটার সমস্যা থেকেও রেহাই মিলবে। মধু প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে।

প্রথমে ঠোঁটে মধু লাগিয়ে নিন। একটা পাতলা স্তর বা আস্তরণ তৈরি হবে। তার উপর দিয়ে ভেসলিনের একটা স্তর তৈরি করুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট এই দুই উপাদান ফাটা ঠোঁটে লাগিয়ে রাখতে হবে। এবার টিস্যু বা পাতলা কাপড়ের সাহায্যে ঠোঁটের ওই আস্তরণ তুলে ফেলুন। প্রতিদিন একবার করে এই দুই উপাদান ঠোঁটে লাগান। এক সপ্তাহের মধ্যেই আপনার ফাটা ঠোঁটের সমস্যার ম্যাজিকের মতো সমাধান হবে। এছাড়া মধু ও গ্লিসারিনের পেস্ট বানিয়ে ঠোঁটে লাগান। নরম ঠোঁট পাবেন।

চিনির স্ক্রাব
মরা কোষের কারণে ঠোঁট অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে চিনির স্ক্রাব আপনাকে সাহায্য করবে। মধুর সঙ্গে চিনি মিশিয়ে ঠোঁটে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে হালকা করে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান। সপ্তাহে অন্তত একদিন ঠোঁটে স্ক্রাবিং করুন।

শসা
শুষ্ক এবং ফাটা ঠোঁটের সমস্যায় শসা ভালো প্রাকৃতিক ওষুধ। ত্বককে নরম এবং কোমল করে তুলতেও এর জুড়ি মেলা ভার। টুকরো করে কেটে নেওয়া ফ্রেশ শসা দুই থেকে তিন মিনিট ঠোঁটের উপর ঘষতে থাকুন। কিছুক্ষণ পরে আগে থেকে তৈরি করে রাখা শসার রস ঠোঁটে লাগিয়ে রেখে দিন অন্তত ১০ মিনিট। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। শসার রস না লাগিয়ে শসা চটকে নিয়ে প্যাক তৈরি করেও লাগাতে পারেন। প্রতিদিন অন্তত একবার করে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলেই দূর হবে ফাটা ঠোঁটের সমস্যা।

গ্রিন টি
গ্রিন টির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান। গবেষণায় দেখা গিয়েছে ফাটা ঠোঁটের সমস্যার সমাধানে এটি অত্যন্ত জরুরি উপাদান। ত্বকের শুষ্কতা দূর করতেও গ্রিন টি ব্যাগ অত্যন্ত উপকারী। একটি গ্রিন টি ব্যাগ এক কাপ গরম পানিতে কয়েক মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এরপর ওই টি ব্যাগটি সরাসরি ফাটা ঠোঁটে লাগিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন একবার করে এটা করতে পারেন।

গ্লিসারিনের সঙ্গে অলিভ অয়েল
প্রতিদিন গ্লিসারিন লাগালে ঠোঁট ফাটার সমস্যা কখনোই হবে না। ত্বকের যত্নে অনেকেই ব্যবহার করেন গ্লিসারিন। তবে ঠোঁটেও ব্যবহার করতে পারেন এটি। তবে গ্লিসারিনের সঙ্গে অল্প অলিভ অয়েল মিশিয়ে ঠোঁটে মাখলে পাবেন বিশেষ সুবিয়ধা। এটি ময়েশ্চারাইজ়ারের কাজ করবে। ফলে ঠোঁট ফাটা বন্ধ হয়ে তা হবে কোমল ও মসৃণ।

তিলের তেল
শুষ্ক ঠোঁটের সমস্যা এড়াতে ভরসা করতে পারেন তিলের তেলের ওপর। তিলে থাকা নানা স্বাস্থ্যকর উপাদান ভিতর থেকে ঠোঁটের যত্ন নেয়। এটি ঠোঁট মসৃণ এবং মোলায়েম রাখতে সত্যিই দারুণ উপকারী।

এছাড়াও ঠোঁটের যত্ন নিতে ভরসা রাখতে পারেন আরে কিছু ঘরোয়া টিপসের উপর।
* দাঁত দিয়ে বা হাত দিয়ে টেনে চামড়া ওঠাবেন না ঠোঁট থেকে। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর অভ্যাস থাকলেও সেটা বাদ দিন। এতে ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে।
* অল্প দুধে গোলাপের পাপড়ি ভিজিয়ে বেটে নিন ঠোঁটে লাগাতে পারেন। তবে ফাটা ঠোঁটে দেবেন না। 


* টাটকা গোলাপের পাপড়ি নিয়ে কাঁচা দুধে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। তারপর সারা দিনে অন্তত তিনবার এটা ঠোঁটে লাগান। ঠোঁট হবে কোমল ও মসৃণ। গোলাপের পাপড়ি, দুধের সর বা মাখন ঠোঁটে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলেও কালচে ভাব চলে যাবে।
* ক্যাস্টর অয়েল বা নারিকেল তেল আঙুলের সাহায্যে ঠোঁটে লাগান। ঠোঁট নরম ও মসৃণ থাকবে।
* এক ফোঁটা ঘি ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। এটি শুষ্কতা কমিয়ে ঠোঁট নরম রাখতে সাহায্য করবে।
* পানি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু জানেন কি, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেলে তা আপনার ঠোঁট নরম রাখতেও সাহায্য করবে। অনেক সময় ডিহাইড্রেশনের ফলে ‘ডার্ক লিপ্স’য়ের সমস্যা হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এতে করে ঠোঁটের ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকবে।