কেন আবারও স্টাইল হয়ে উঠছে তারযুক্ত হেডফোন
ফ্যাশনের দুনিয়ায় ট্রেন্ড নির্ধারণে অনেক সময় ক্যাটওয়াকের চেয়ে বাস্কেটবল কোর্টই বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। এনবিএ তারকাদের স্টাইল অনুকরণ করে যখন তরুণ প্রজন্ম নতুন কোনো ধারাকে আপন করে নেয়, তখনই তা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তায় রূপ পায়। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে কিংবদন্তি লেব্রন জেমস যখন গলায় ‘বিটস বাই ড্রে’ ঝুলিয়ে হাজির হয়েছিলেন, তখন রাতারাতি সেই নতুন ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়ে গিয়েছিল। প্রায় দুই দশক পর আবারও হেডফোন ঘিরে বদলাচ্ছে ট্রেন্ড—তবে এবার ব্লুটুথ নয়, বরং স্বমহিমায় ফিরে আসছে পুরনো আমলের ‘তারযুক্ত হেডফোন’।
বর্তমানে এনবিএর উঠতি তারকা অ্যান্থনি এডওয়ার্ডস থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ স্টিফেন কারি পর্যন্ত অনেকেই কানে ঝুলিয়ে রাখছেন তারযুক্ত ইয়ারবাড। চলতি মৌসুমে লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের বিপক্ষে গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্সের প্রথম ম্যাচের আগে স্টিফেন কারিকে তারযুক্ত হেডফোন পরে মাঠে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বাস্কেটবল বিশ্বের এই অভিজাতদের কাছে ব্লুটুথ নয়, বরং পুরনো আমলের প্লাগ-ইন ইয়ারবাড এখন প্রথম পছন্দ।
তারযুক্ত হেডফোনের এই ‘রেট্রো’ প্রত্যাবর্তন কেবল ক্রীড়াবিদদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ড্রেক, লিলি-রোজ ডেপ, হ্যারি স্টাইলস এবং জেনডায়ার মতো এ-লিস্ট তারকারাও এখন ব্লুটুথ ছেড়ে তারের দিকেই ঝুঁকছেন।
২০২৩ সালে ভগ (Vogue) ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমা ওয়াটসন বলেন, ‘আমি আসলে পুরনো আমলের প্লাগ-ইন হেডফোনগুলোই বেশি পছন্দ করি।’ গত বছর ভোগের জনপ্রিয় ‘হোয়াটস ইন দ্য ব্যাগ’ সেগমেন্টে পপ মেগাস্টার দুয়া লিপা ও আরিয়ানা গ্রান্দেকেও তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। এমনকি নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনের ডিসেম্বর সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে অভিনেতা বেন স্টিলার ও নিউ ইয়র্ক নিক্স তারকা কার্ল-অ্যান্থনি টাউনসকে সাবওয়েতে বসে একে অপরের সাথে তারযুক্ত ইয়ারবাড ভাগাভাগি করতে দেখা গেছে।
এই পুনরুত্থানের পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে ‘ওয়্যার্ড ইট গার্লস’ নামের অ্যাকাউন্টের প্রতিষ্ঠাতা শেলবি হল ২০২১ সাল থেকে এই ট্রেন্ডকে উদযাপন করে আসছেন। ভোগ ম্যাগাজিনের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ লেখক লিয়ানা সাটেনস্টাইনের একটি নিবন্ধে মডেল বেলা হাদিদের সাধারণ তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহারের প্রশংসা পড়ার পর হল এই অ্যাকাউন্টটি শুরু করেন। ২০১৯ সাল থেকেই বেলা হাদিদকে নিয়মিত তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে।
হল সিএনএনকে বলেন, ‘বেলা হাদিদ স্পষ্টতই ধনী, চাইলে অনায়াসেই এয়ারপডস কিনতে পারেন। কিন্তু তিনি সবসময় তারেই স্থির ছিলেন। এর মধ্যে এক ধরণের অকৃত্রিমতা, স্বতঃস্ফূর্ততা এবং নতুন প্রযুক্তির ট্রেন্ডের পেছনে না ছোটার এক ধরণের বেপরোয়া মনোভাব ফুটে ওঠে।’
শেলবি হলের মতে, ‘ইট গার্ল’ হওয়ার জন্য যেখানে হাজার হাজার ডলারের বারকিন ব্যাগ অনেকের নাগালের বাইরে, সেখানে অ্যাপলের ওয়েবসাইটে মাত্র ২৫ ডলার বা ১৯ পাউন্ডে পাওয়া তারযুক্ত হেডফোন হয়ে উঠেছে সহজলভ্য আভিজাত্য বা ‘কুলনেস’-এর প্রতীক। পপ তারকা চার্লি এক্সসিএক্স কিংবা ফ্যাশন ডিজাইনার ওলসেন যমজদের মতো ব্যক্তিত্বদের যে অনায়াস স্টাইল, তার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার এটি একটি সাশ্রয়ী উপায়। মূলত ব্যয়বহুল নতুন ডিভাইসের প্রতি উদাসীনতা এবং অনাড়ম্বরতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবেই আবার ফ্যাশনের কেন্দ্রে ফিরে এসেছে তারযুক্ত হেডফোন।