২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২১

ইলন মাস্কের ‘গ্রকিপিডিয়া’র তথ্য দেখাচ্ছে চ্যাটজিপিটির উত্তরে

প্রতীকী ছবি   © সংগ্রহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির কিছু উত্তরে ইলন মাস্ক–সংশ্লিষ্ট একটি নতুন তথ্যসূত্র ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ‘গ্রকিপিডিয়া’ নামের এই উৎসটি ইলন মাস্কের এআই প্রতিষ্ঠান এক্সএআই তৈরি করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর একটি অনলাইন বিশ্বকোষ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাটজিপিটির কিছু উত্তরে গ্রকিপিডিয়ার তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে জিপিটি–৫.২ মডেল দিয়ে দেওয়া উত্তরের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা চোখে পড়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে গ্রকিপিডিয়া চালু করে এক্সএআই। উইকিপিডিয়া রক্ষণশীল মতাদর্শের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট—এমন অভিযোগ তুলে ইলন মাস্ক নতুন এই বিশ্বকোষ তৈরির উদ্যোগ নেন। তবে চালুর পর থেকেই গ্রকিপিডিয়া নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, গ্রকিপিডিয়ার অনেক নিবন্ধ সরাসরি উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া বা অনুলিপি করা। একই সঙ্গে সেখানে এমন কিছু দাবি ও ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে, যা তথ্যগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং সামাজিকভাবে সংবেদনশীল। কিছু নিবন্ধে এইডস সংকটের জন্য পর্নোগ্রাফিকে দায়ী করা হয়েছে। আবার কোথাও দাসপ্রথার পক্ষে তথাকথিত ‘আদর্শিক যুক্তি’ উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিতর্ক নতুন নয়। কারণ গ্রক নামের চ্যাটবটটি আগেও বিতর্কিত আচরণের জন্য আলোচনায় এসেছিল। একপর্যায়ে এটি নিজেকে ‘মেকা হিটলার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) যৌন বিকৃত ডিপফেক ছড়াতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিল।

তবে সাম্প্রতিক যে বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, তা হলো—গ্রকিপিডিয়ার তথ্য এখন আর শুধু ইলন মাস্কের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ নেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটি একাধিক প্রশ্নের উত্তরে গ্রকিপিডিয়ার তথ্য ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিপিটি–৫.২ অন্তত ১২টির বেশি প্রশ্নের উত্তরে নয়বার এই উৎসের উল্লেখ পাওয়া গেছে।

তবে সব বিষয়ে নয়। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলা বা এইচআইভি–এইডস মহামারির মতো বহুল আলোচিত ও সংবেদনশীল বিষয়ে চ্যাটজিপিটি গ্রকিপিডিয়ার তথ্য ব্যবহার করেনি। বরং অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত বিষয়ে এই তথ্যসূত্রের ব্যবহার দেখা গেছে। এর মধ্যে ইতিহাসবিদ স্যার রিচার্ড ইভান্সকে নিয়ে কিছু দাবি রয়েছে, যেগুলো আগেই দ্য গার্ডিয়ান ভুল বলে খণ্ডন করেছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অ্যানথ্রপিকের তৈরি আরেকটি এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’ও কিছু ক্ষেত্রে গ্রকিপিডিয়ার তথ্য ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, চ্যাটজিপিটি বিভিন্ন ধরনের উন্মুক্ত তথ্যসূত্র ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে, যাতে ব্যবহারকারীদের জন্য সর্বাধিক বিস্তৃত ও প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন করা যায়।