কারিগরি শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এআই
দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং যুগোপযোগী করতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। নতুন প্রস্তাবিত ‘শিক্ষা আইন ২০২৬’-এর খসড়া অনুযায়ী, এখন থেকে কারিগরি শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence- AI) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই খসড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টার মধ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে এ খসড়া আইনের ওপর মতামত জানাতে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
আইনের ২৬ নম্বর ধারার ১১ নম্বর উপধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কারিগরি শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মূলত চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দেশ-বিদেশের কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এছাড়া খসড়া আইনে সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আইন কার্যকরের তিন অথবা পাঁচ বছরের মধ্যে কোচিং সেন্টার স্থাপন এবং সহায়ক বই—নোট বা গাইডবই—প্রকাশের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার উল্লেখ রয়েছে।
বর্তমানে দেশে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে নির্দিষ্ট কোনো আইন কার্যকর নেই। যদিও ২০১১ সালের ২১ এপ্রিল জারি করা এক পরিপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে। তবে পরিপত্র জারির পরও বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।
জাতীয় শিক্ষানীতি–২০১০ প্রণয়নের পর ২০১১ সাল থেকে শিক্ষা আইন করার উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরবর্তী সময়ে খসড়া আইন চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলে মন্ত্রিসভার একাধিক বৈঠকে তা উপস্থাপন করা হয় এবং বিভিন্ন পর্যবেক্ষণসহ খসড়াটি ফেরত পাঠানো হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে শিক্ষাসংক্রান্ত সব আইন সমন্বয় করে নতুন করে শিক্ষা আইনের খসড়া তৈরির নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর দীর্ঘদিন এ বিষয়ে আর অগ্রগতি হয়নি।