ইন্টারনেটের স্পিড স্লো, ঘরে বসেই ঠিক করার সহজ উপায়
বর্তমান ডিজিটাল যুগে দ্রুতগতির ইন্টারনেট এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সবকিছুর জন্যই নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ জরুরি। কিন্তু হঠাৎ করেই যদি ইন্টারনেট ধীরগতির হয়ে যায়, তখন তা ভীষণ বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। আপনি যদি ভেবে থাকেন ঘরে বসে স্লো ইন্টারনেট স্পিড কীভাবে ঠিক করবেন, তাহলে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য।
কেন ধীরগতির হয় ইন্টারনেট?
সমস্যার সমাধান জানতে হলে আগে কারণ বুঝতে হবে। সাধারণত নিচের কারণগুলো ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়-
১. পুরোনো রাউটার বা মডেম: অনেক সময় পুরোনো রাউটার বা মডেম উচ্চগতির ইন্টারনেট সাপোর্ট করতে পারে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিভাইসের পারফরম্যান্সও কমে যায়।
২. রাউটারের ভুল অবস্থান: রাউটার ঘরের কোনায়, মোটা দেয়ালের পাশে বা ভারী ফার্নিচারের পেছনে থাকলে সিগন্যাল দুর্বল হয়। এতে ওয়াই-ফাই স্পিড কমে যেতে পারে।
৩. একাধিক ডিভাইস সংযুক্ত থাকা: একই নেটওয়ার্কে স্মার্ট টিভি, মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব, স্মার্ট হোম ডিভাইস অনেক ডিভাইস সংযুক্ত থাকলে ব্যান্ডউইথ ভাগ হয়ে যায়, ফলে গতি কমে।
৪. ইন্টারফিয়ারেন্স (সিগন্যাল বাধা): মাইক্রোওভেন, কর্ডলেস ফোন, বেবি মনিটর ইত্যাদি ডিভাইস ওয়াই-ফাই সিগন্যালে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
৫. আইএসপি থ্রটলিং: কখনো কখনো ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) পিক আওয়ারে গতি কমিয়ে দিতে পারে, যাকে বলা হয় ‘থ্রটলিং’।
ঘরে বসে স্লো ইন্টারনেট স্পিড ঠিক করার কার্যকর উপায়:
১. রাউটার ও মডেম রিস্টার্ট করুন: সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি হলো রিস্টার্ট করা।
কীভাবে করবেন: রাউটার ও মডেমের পাওয়ার বন্ধ করুন; অন্তত ৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন; আবার চালু করুন এবং সম্পূর্ণ চালু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। অনেক সময় শুধু এই কাজেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
২. স্পিড টেস্ট করুন: আপনি যে গতির জন্য টাকা দিচ্ছেন, সেই গতি পাচ্ছেন কিনা- তা যাচাই করুন। স্পিডটেস্ট.নেট (Speedtest.net) বা অনুরূপ ওয়েবসাইটে গিয়ে স্পিড টেস্ট করে দেখুন। যদি ফলাফল প্রত্যাশিত গতির তুলনায় অনেক কম হয়, তাহলে আইএসপি এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
৩. রাউটারের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করুন: রাউটার ঘরের মাঝামাঝি ও উঁচু স্থানে রাখুন। মোটা দেয়াল বা ধাতব বস্তুর কাছাকাছি রাখবেন না। মাইক্রোওভেন বা কর্ডলেস ফোনের কাছ থেকে দূরে রাখুন।
৪. রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট করুন: অনেকেই রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট করতে ভুলে যান। কিন্তু আপডেট না করলে পারফরম্যান্স ও নিরাপত্তা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আপডেট করার উপায়: ব্রাউজারে রাউটারের আইপি (IP) ঠিকানা লিখে লগইন করুন। ‘Maintenance’ বা ‘Firmware Update’ অপশনে যান। নতুন আপডেট থাকলে ইনস্টল করুন।
৫. অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস বিচ্ছিন্ন করুন: যেসব ডিভাইস ব্যবহার করছেন না, সেগুলো ওয়াই-ফাই থেকে বিচ্ছিন্ন রাখুন। রাউটারের সেটিংসে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসগুলোর জন্য ব্যান্ডউইথ অগ্রাধিকার (কিউওএস) সেট করতে পারেন।
৬. ওয়াই-ফাইয়ের বদলে তারযুক্ত সংযোগ ব্যবহার করুন: গেমিং, ভিডিও কল বা বড় ফাইল ডাউনলোডের জন্য ইথারনেট কেবল ব্যবহার করলে বেশি স্থিতিশীল ও দ্রুত সংযোগ পাওয়া যায়।
উন্নত সমাধান
১. দ্রুতগতির ইন্টারনেট প্ল্যানে আপগ্রেড: যদি বাড়িতে একাধিক ব্যক্তি অনলাইনে কাজ করেন বা স্ট্রিমিং করেন, তাহলে উচ্চগতির প্ল্যানে আপগ্রেড করা প্রয়োজন হতে পারে।
২. ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার ব্যবহার: বড় বাড়িতে সিগন্যাল দুর্বল হলে ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার ব্যবহার করতে পারেন। এটি ডেড জোন কমাতে সহায়তা করে।
৩. ওয়াই-ফাই চ্যানেল পরিবর্তন: ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একই চ্যানেল ব্যবহার করলে সিগন্যালের ভিড় তৈরি হয়। রাউটারের সেটিংসে গিয়ে ওয়্যারলেস চ্যানেল পরিবর্তন করে দেখুন।
৪. নতুন রাউটার কিনুন: রাউটার কয়েক বছর পুরোনো হলে নতুন মডেল নেওয়া ভালো। বিশেষ করে ওয়াইফাই ৬ সমর্থিত রাউটার ব্যবহার করলে গতি ও স্থিতিশীলতা দুটোই বাড়ে। বড় জায়গার জন্য মেশ ওয়াই-ফাই সিস্টেমও কার্যকর সমাধান হতে পারে।
আরও পড়ুন: রাতে ছুটি ঘোষণা, অনেক শিক্ষার্থী-অভিভাবক স্কুলে এসে ফিরলেন বাড়ি
৫. ব্যান্ডউইথ মনিটরিং করুন: কোন ডিভাইস কত ডেটা ব্যবহার করছে তা রাউটারের ড্যাশবোর্ডে দেখে নিতে পারেন। এতে অপ্রয়োজনীয় ডেটা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
১. রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট না করা।
২. রাউটার ভুল স্থানে রাখা।
৩. নিয়মিত স্পিড টেস্ট না করা।
৪. অতিরিক্ত ডিভাইস সংযুক্ত রাখা।
পরিশেষে ধীরগতির ইন্টারনেট অবশ্যই বিরক্তিকর, তবে সঠিক পদক্ষেপ নিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব। রাউটার রিস্টার্ট করা থেকে শুরু করে হার্ডওয়্যার আপগ্রেড প্রতিটি ধাপই আপনার নেটওয়ার্কের গতি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। (ট্রিকস এন্ড টিপস)।