০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০৫

তাড়াহুড়ো করে শিক্ষা আইন–২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ, ইউটিএলের উদ্বেগ

ইউটিএল লোগো  © সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক দল, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পর্যাপ্ত ও অর্থবহ পরামর্শ ছাড়াই শিক্ষা আইন- ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। 

শনিবার (৭ জানুয়ারি) ইউটিএলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যুবাইর মোহাম্মদ এহসানুল হক এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, অত্যন্ত সীমিত সময়ের মধ্যে খসড়া শিক্ষা আইনটি ক্যাবিনেটে উত্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং মতামত প্রদানের জন্য মাত্র এক সপ্তাহ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে রাজনৈতিক দলসমূহ নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় তাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে মতামত গ্রহণ করা হয়নি। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও স্কুল পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ শিক্ষা খাতের প্রত্যক্ষ অংশীজনদের মতামত গ্রহণের বাস্তব সুযোগও নিশ্চিত করা হয়নি। অথচ যাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ এই আইনের দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত হবে, তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া শিক্ষা আইন প্রণয়ন যুক্তিসংগত নয়।

ইউটিএল মনে করে, শিক্ষা আইন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন আইন। এ ধরনের আইন প্রণয়নে প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ, বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার সমালোচনামূলক মূল্যায়ন এবং বিস্তৃত জাতীয় পর্যায়ের আলোচনা অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত খসড়া আইনটি অর্ডিন্যান্স আকারে জারি করা হলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর তা সংসদে অনুমোদনের চাপ সৃষ্টি করবে, যা গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত খসড়া শিক্ষা আইনে মূলত বিদ্যমান ব্যবস্থার ধারাবাহিকতাই প্রাধান্য পেয়েছে। ভবিষ্যতমুখী সংস্কার, কাঠামোগত পরিবর্তন এবং গুণগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব পরিলক্ষিত হয়। পাশাপাশি নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বহু বিষয় আইন দ্বারা নির্ধারিত না হয়ে বিধিমালার ওপর ন্যস্ত করার প্রবণতা দেখা গেছে, যা আইন প্রণয়নের মৌলিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

ইউটিএল মনে করে, শিক্ষা আইন-২০২৬ পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের দ্বারা প্রণীত হলে এটি অধিক বাস্তবসম্মত হবে। এতে সকল অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি শক্তিশালী, টেকসই ও সর্বজনগ্রাহ্য শিক্ষা আইন প্রণয়ন সম্ভব হবে। সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বসহ বিবেচনার জন্য বিবৃতিতে বলা হয়।