২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৭

নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের ওপর হামলা, ইউটিএলের নিন্দা 

ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের লোগো  © সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্বারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ ও জোটভুক্ত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নারীকর্মীদের ওপর ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত হামলা, হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) গভীর উদ্বেগ, কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।

আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ইউটিএলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. যুবাইর মোহাম্মদ এহসানুল হক এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। 

ইউটিএল নেতারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের মানুষের বহু আকাঙ্ক্ষিত একটি নির্বাচন। দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে।  এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দল ও জোট শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এটি সম্পন্ন হবে। কিন্তু সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায় যে   সাম্প্রতিক কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণকালে জামায়াতে ইসলামী ও জোটভুক্ত দলের নারীকর্মীরা প্রকাশ্য হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন।

নেতারা আরো বলেন,  যশোরের ঝিকরগাছা, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইলের গোপালপুর, লালমনিরহাট, ভোলা ও ভোলার চরফ্যাশন, ঢাকার মিরপুর, মেহেরপুরে এবং কেরানীগঞ্জে সংঘটিত ঘটনাগুলোর প্রতিটিতেই বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও নারীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে, কোথাও শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, কোথাও আহত করা হয়েছে এবং কোথাও প্রকাশ্যে হিজাব খোলা কিংবা পোষাক খোলার হুমকি ও অপমানের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।
 
ইউটিএল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, নারীদের লক্ষ্য করে সংঘটিত এই সহিংসতা বাংলাদেশের সংবিধান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (CEDAW) এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি (ICCPR) এর মৌলিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ইউটিএল মনে করে, রাজনৈতিক মতাদর্শগত বিরোধের অজুহাতে নারীদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও নির্যাতন কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ রুদ্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা সরাসরি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের বিরোধী। এমতাবস্থায়, ইউটিএল চার দফা দাবি জানায়।  সংঘটিত প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। 

হামলা ও হেনস্তার সঙ্গে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। ভবিষ্যতে যেকোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা নারীদের ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ও প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসব ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতি, নিষ্ক্রিয়তা বা পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে এবং দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা ও শিক্ষার মান রক্ষার লক্ষ্যে গঠিত একটি সংগঠন।