রাজনীতিমুক্ত বুয়েটে ছাত্রলীগের সভা, বিক্ষোভে সাধারণ শিক্ষার্থীরা

রাজনীতিমুক্ত বুয়েটে ছাত্রলীগের সভা, বিক্ষোভে সাধারণ শিক্ষার্থীরা
বুয়েটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ   © সংগৃহিত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে আজ শনিবার ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক ব্যানারে একটি কর্মসূচির আয়োজন করে। এ নিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা। রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন।

শনিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৬টার দিকে বুয়েট ক্যাম্পাসে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করে বুয়েট ছাত্রলীগের সত্তর ও আশির দশকের সাবেক নেতারা। তবে সভা শুরুর পরপরই এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত অনুষ্ঠান শেষে করে সেখান থেকে চলে যান ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বুয়েটের শহীদ মিনারে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এখনও বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। 

এদিকে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরুর কিছুক্ষণ পর বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন। সাবেক ওই সাধারণ সম্পদাক বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করতে আসছি।’

আরও পড়ুন: ছাত্রলীগ নেত্রীর নিজের বানানো কমিটিতে নিজেই সভাপতি

এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে আমরা সবাই ভালোভাসি। বঙ্গবন্ধু সবার। ওনার জন্য দোয়া করতে ছাত্রলীগের ব্যানার কেন ব্যাবহার করতে হবে? বিশ্ববিদ্যালয় তো বঙ্গবন্ধুর জন্য দোয়ার অনুষ্ঠান করতো।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘শোক দিবস পালন নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমাদের আপত্তি ব্যানারে ছাত্রলীগ শব্দ ব্যাবহারে।’

বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতির পুনরুত্থানের আশঙ্কা করে শনিবার রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোর অপকর্মে বুয়েট ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে নিরীহ শিক্ষার্থীদের প্রাণ ঝরেছে বারবার। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নৃশংস অত্যাচারে আবরার ফাহাদ নিহত হন। এর প্রতিবাদে সকল সাধারণ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর বুয়েটে সকল রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে নিষিদ্ধ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও আজ বুয়েট অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বুয়েটের সাবেক নেতৃবৃন্দ’দের আয়োজনে একটি ব্যানার দেখা যায়। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে গত ২ জুলাই কাজী নজরুল ইসলাম হলে রায়হান দিপের স্মৃতিফলকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সাবেকুন নাহার সনির স্মৃতিফলকেও ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ গত ৮ জুন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে লেজুড়ভিত্তিক ছাত্র সংগঠনের বারবার নিজেদের উপস্থিতি জানিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি পাওয়ায় বুয়েট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

এমন কার্যক্রমের ব্যাপারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও সুস্পষ্ট জবাব আশা করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিন রাতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা জানায়, পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এ ধরনের কর্মসূচি হলে আগামীতে কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা।

উল্লেখ্য, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর বুয়েটে ছাত্র-শিক্ষকদের সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়।


x

সর্বশেষ সংবাদ