শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে রাস্তায় নামার আহ্বান নূরের

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
নূরুল হক নূর  © ফাইল ছবি

ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক দল সমূহকে এই সরকার একাকার করে ফেলেছে। শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষার্থীদের প্রতি দায় নাই, উনি আছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মী সভায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা সমাবেশে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি তার নজর নাই।

করোনা মহামারিতে বন্ধ হয়ে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে সবাইকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে বেলা ১২ টার দিকে এক মানববন্ধনে তিনি এ আহ্বান জানান। 'শিক্ষক, কর্মচারি, অবিভাবক ফোরাম' এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

এ সময় তিনি বলেন, সকল ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে শিক্ষাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। তরুণরা হয়ত অনেকে বুঝতে পারছে না যে তাদের ভবিষ্যতের ক্ষতিটা কি হচ্ছে। সন্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য, জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য ছাত্র, শিক্ষক, অভিবাবক সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে। সেই আন্দোলনে আশা করি ছাত্র, শিক্ষক, জনতা সবাই থাকবে।

নূরুল হক নূর বলেন, তাদের (সরকার) জন্য যেকোন সময় ছাত্ররা হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সরকারের দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে যদি ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসে তাহলে সরকারের রক্ষা হবে না। গত ১২ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন যেটা পারে নাই, ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন তা করেছে। তাই সরকার চাচ্ছে তাদের নির্বাচনী সময়টা যেনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে পার করতে পারে।

পুলিশকে উদ্দেশ্য করে নূর বলেন, পুলিশ ভাই-বোনদের বলব আপনারা আওয়ামী লীগের গোলাম হবেন না। জনগণের গোলাম হোন। জনগণ আপনাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। আওয়ামী লীগ আজীবন ক্ষমতায় থাকবে না, আপনাদের চাকরি করতে হবে। আওয়ামী লীগের গোলামী করার জন্য জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের বুকে গুলি চালাচ্ছেন। আমরা কিন্তু তাদের চিনে রাখবো। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল মিলন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ডাকসুর সাবেক এপিএস নাজিম উদ্দিন আলম।

এছাড়া উপিস্থিত ছিলেন- শিক্ষক, কর্মচারি, অবিভাবক ফোরামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম ভুঁইয়া, বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গণমাধ্যম উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, কৃষক দলের মিয়া মো. আনোয়ার, মানুষ বাঁচাও দেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।


মন্তব্য