'অধিকারের জন্য শ্রমিকদের মতো যদি জীবন দিতে হলে আমরা প্রস্তুত'

ভিপি নুর
নুরুল ইসলাম নুর  © ফাইল ছবি

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল ইসলাম নুর আটককৃত ছাত্রদের মুক্তির দাবিতে বলেন, 'যাদের কে আটক করা হয়, শুধু তাদের আটক করাই উদ্দেশ্য থাকে না। বাইরে যারা আছে তাদেরকে ভয় দেখানোর জন্যেই আসলে গ্রেফতার বা আটক করা হয়।'

তিনি সোমবার (৩ মে) ঢাবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের আজকের প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন। মোদী বিরোধী আন্দোলনে আটককৃত ছাত্রনেতাদের মুক্তির দাবিতে তিনি আরো বলেন, 'আমরা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নই। আমরা সেই কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে কখনো কৃষকের জন্য, কখনো মোস্তাকের মৃত্যু, কখনো গুম-খুন, কখনো ধর্ষণের বিচার চেয়ে জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি। আমরা জানি আন্দোলন করে এই দানবের মতো স্বৈরাচার সরকার, ফ্যাসিবাদী সরকারকে গুটি কয়েক ছাত্র মিলে হটাতে পারব না। এই মোদী আগমন নিয়ে দেশের বুদ্ধিজীবীসহ, বামপন্থী-ডানপন্থী, ছাত্ররা সবাই প্রতিবাদ করেছিল। আমরা তো ঢাল তলোয়ার নিয়ে এয়ারপোর্টে যায়নি। কিন্তু পুলিশ হামলা চালিয়ে আমাদের প্রতিবাদ পণ্ড করে দিয়েছে।

পুলিশের পদায়ন নিয়ে তিনি বলেন, 'এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনে দমন নিপীড়ন চালানো পুলিশদের পদায়ন করা হয়েছিল। ঠিক একইভাবে মোদী বিরোধী আন্দোলনের পর পর গতকাল ৭ জনকে পদোন্নতি করা হলো। সমালোচিত এসপি হারুনকে এখন পদোন্নতি করা হয়েছে। আগে তিনি নারায়ণগঞ্জে ছিলেন এখন তেজগাঁও অঞ্চলের দায়িত্ব দিয়ে পদায়ন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে চাঁদাবাজির, অপহরণের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এক প্রোগ্রামে তিনি অস্বস্তি বোধ করেছিলেন যে হারুন সাহেব এখানে কেন। তারপরও এভাবে অপকর্ম করার ফলে পুলিশকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

'আমাদের ছাত্রদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, কাউকে টেন্ডারবাজির দায়ে কাউকে হত্যা মামলার আসামী করে ধরে নেয়া হয়েছে। একজন নতুন বিয়ে করে ঢাকায় এসেছিলেন তাকে পর্যন্ত আটক করেছে। অমানবিকভাবে একেকজনকে আটক করে আদালতে ঢোকানো হয়েছে। এই আতঙ্কে আমরা কি থেমে যাব? কখনোই না।'

তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার বাবা জাতির পিতা, আপনার বাবা অবিসংবাদিত নেতা, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য আন্দোলন করে বহিষ্কার হয়েছিলেন। তাহলে আপনার তো ভালো বোঝা উচিত ছাত্ররা কখনো অহেতুক আপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন করে না। আপনি যদি আপনার বাবার আদর্শ ধারণ করে থাকেন তাহলে আটক ছাত্র নেতাদের দ্রুত ছেঁড়ে দেবেন। তা না হলে অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের মতো আমাদেরও জীবন দিতে হয় তবে আমরা প্রস্তুত।

ওই কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ আরোও অনেকে।


মন্তব্য