২৭ মার্চ ২০২১, ২১:২৯

‘হরতালের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের’ গণধোলাই দেওয়ার নির্দেশ জয়ের

ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়  © ফাইল ফটো

হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে আগামীকাল কেউ নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের গণধোলাই দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা প্রতিটি ইউনিট (ছাত্রলীগ) যার যার এলাকায় থাকবেন। যেখানেই নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হবে সেখানেই আপনারা তাদের গণধোলাই দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেবেন।’

আজ শনিবার (২৭ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন নাহিয়ান খান জয়। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ‘স্বাধীনতাবিরােধী অপশক্তি’ কর্তৃক দেশব্যাপী নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মাদের আমরা লাথি দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি৷। আপনারা যদি দেশে আবার নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তাহলে লাথি দিয়ে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। শুধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি না, আপনারা এদেশের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে হঠানোর জন্য চেষ্টা করছেন। প্রতিটি গনতান্ত্রিক আন্দোলনে আমরা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছি৷ আমরা কোন সন্ত্রাসীদের, স্বাধীনতা বিরোধীদের ভয় পাই না।’

তিনি বলেন, ‘তাদের আমরা মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত আছি। শান্তিপ্রিয় ধর্মকে পুঁজি করে যে উদ্দেশ্যে তারা এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথ কখনে সফল হবে না।’ জয় বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামকে পুঁজি করে যদি কেউ অপরাজনীতি বা বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাহলে আমরা ছাত্রলীগ তাদের কোন ভাবে ছাড় দেবো না। পাকিস্তানিদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য ৭১ সালে আমরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলাম, আবার যদি সে সময় আসে পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি ৷’

তিনি আরো বলেন, ‘ছাত্রলীগ কোন রক্তচক্ষুকে ভয় পায় না। গত কয়েকদিন পুলিশের উপর যেভাবে হামলা করা হয়েছে, আমরা বুঝে গেছি জামাত-শিবির মাঠে নেমেছে ৷ শিবিরকে উদ্দেশ্যে করে বলছি, তোদের চক্ষু লজ্জা নেই। তোরা নামসর্বস্ব সংগঠনে পরিণত হয়েছিস। তোরা যদি বাংলাদেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাস, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একমাত্র সংগঠন- তোদের প্রতিহত করতে পারবে। তোদেরকে প্রতিহত করা জন্য আমরা ছাত্রলীগই যথেষ্ট।’

জয় আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা ষড়যন্ত্র করবে তাদের হঠানোর জন্য আমরা ছাত্রলীগই যথেষ্ট। মাদরাসার কোমলমতি ভাইদের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড শেখানো হচ্ছে। হয়ত কোমলমতি ভাইরা বুঝতে পারছে না। এই মৌলবাদী শক্তি তাদের উপর কাঁঠাল ভেঙে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে ৷ বাংলাদেশ এখন চলছে জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য ৷ জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত এখন বাংলাদেশে ৷ সুতরাং তোরা যারা এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবি তোদেরকে প্রতিহত করার জন্য আমরা মাঠে আছি৷ তোরা কিছু করতে পারবি না। তোরা পারলে ছাত্রলীগকে মোকাবিলা কর ৷’

ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘কোমলমতি মাদরাসার ভাইদের বলছি, ধর্মকে যারা পুঁজি করে ব্যবসা করছে তাদের কথা আপনারা শুনবেন না। ধর্মকে শান্তির জায়গায় রেখে আপনারা এগিয়ে যান। আমরা আপনাদের পাশে থাকবো। কিন্তু বিশৃঙ্খলাকারীদের নিয়ে আপনারা এগিয়ে যাবেন না। আমরা কথা দিচ্ছি, আপনাদের পাশে আমরা আছি। কেউ যদি আপনাদের বেতের ভয় দেখিয়ে মাঠে নামানোর চেষ্টা করলে ছাত্রলীগকে বলুন। আমরা তাদের প্রতিহত করতে প্রস্তুত আছি।’

এসময় সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশৃঙ্খলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনেরর আওতায় আনুন। যারা জাতির পিতার ভাস্কর্যে আঘাত হানে তাদেরতে চিহ্নিত করতে হবে। তাদেকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে দেওয়া হবে। ছাত্রলীগের প্রতিটি ইউনিট ঐক্যবদ্ধ আছে। সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশকে কেউ হারাতে পারবে না।’

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রহিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়, মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।