১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৩

ছাত্রদলের ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন ‘দল-দীপশিখা’র মোড়ক উন্মোচন

টিএসসি মিলনায়তনে ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন ‘দল-দীপশিখা’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা  © টিডিসি

বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন ‘দল-দীপশিখা’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা ‘দল-দীপশিখা’র মোড়ক উন্মোচন করেন।

সংগঠনটির দাবি, এ ম্যাগাজিনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। 

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ম্যাগাজিন সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা এই ম্যাগাজিনে শহীদ আবু সাঈদের পিতা, শহীদ ওয়াসিমের বোন, শহীদ মুগ্ধর পিতাসহ জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের রুডম্যাপটা দিয়েছি, কীভাবে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে  একদম নিরপেক্ষভাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যখন কমিটি হয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক জনাব তারেক রহমান, আমাদের একটি নির্দেশনা প্রদান করেন যে ক্যাম্পাসগুলোতে একদম যারা নিউ কামার (Newcomer) এবং যারা একদম রানিং স্টুডেন্ট (Running Student) তাদের সামনে রেখে আমাদের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতি চালু করতে হবে।’

রাকিবুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সেই ধারাবাহিকতায় আমরা নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতি চালু করছি। আশা করছি আগামীতে যে নতুন নেতৃত্ব আসবে, তারা এই ম্যাগাজিনের ধারাবাহিকতা এবং ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক আমরা যে বর্তমান শিক্ষার্থী দ্বারা ১৭০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি করেছি, তার ধারাবাহিকতা আরও ব্যাপকতরভাবে সর্বক্ষেত্রে প্রসারিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ম্যাগাজিন প্রকাশনা কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক চিন্তা ছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতেই ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করব। কিন্তু এর মধ্যে ম্যাডাম অসুস্থ হয়ে গিয়েছেন। এরপরে বিভিন্ন সমস্যার কারণে বইয়ের মোড়ক উন্মোচনটি আমরা করতে পারিনি।’

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে নাছির বলেন, ‘আমরা হয়তো ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছি, কিন্তু একই সঙ্গে এটিও আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে ভবিষ্যতের জন্য অনুধাবন করতে হবে যে যারা এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য বিরোধিতা করেছে, যারা এ দেশের জন্মই দেখতে চায়নি, তারাও কিন্তু ৩২ শতাংশ ভোট পেয়ে গিয়েছে যেভাবেই হোক। সুতরাং আগামীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে আরও প্রসারিত করতে হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষুদ্র বিষয়কে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে একটা মব তৈরির অপচেষ্টা কিন্তু এই স্বাধীনতাবিরোধী অথবা যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে, তাদের এরকম একটা অপচেষ্টা থাকবে। এটি নির্বাচনের পরেও আপনারা দেখেছেন। সুতরাং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সে রকম বিভ্রান্তকর সব তথ্যকে ভুল প্রমাণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানের আরও বক্তব্য প্রদান করেন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স।