১২ তারিখ দেশের জনগণ চাঁদাবাজ ও নারী নিপীড়কদের লালকার্ড দেখাবে: সিবগাতুল্লাহ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেছেন, বিএনপি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিগত স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা জুলাই আন্দোলনে নারীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল, যা আন্দোলন দমনের পরিবর্তে উল্টো আরও বেগবান করেছিল। আগামী ১২ তারিখ বাংলাদেশে এক নতুন সূর্যের উদয় হবে। সেদিন এ দেশের সচেতন জনগণ সকল প্রকার চাঁদাবাজ ও নারী নিপীড়কদের চূড়ান্তভাবে ‘লালকার্ড’ দেখিয়ে দিবে।
আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত নারী হত্যা এবং দেশব্যাপী অব্যাহত নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
গতকাল ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গাজীপুরে ছাত্রদল কর্তৃক নারী হত্যা এবং দেশব্যাপী বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের অব্যাহত নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর এই কর্মসূচির আয়োজন করে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
ঢাকা মহানগর পূর্ব সভাপতি ও ডাকসুর পরিবহণ সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহর সঞ্চালনায় বিক্ষোভ-উত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবাগাতুল্লাহ সিবগাহ। তিনি বক্তব্যে বলেন, "শত-সহস্র শহীদের জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। যখন অতীতের কলুষিত রাজনীতিকে পেছনে ফেলে দেশে এক নতুন ধারার রাজনীতির সূচনালগ্ন উপস্থিত, ঠিক তখনই একটি দল বাংলাদেশকে নিয়ে পুনরায় গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এ দেশের মানুষ যখন নিজেদের পছন্দের সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে, তখন সেই বিশেষ দলটি দেশজুড়ে হত্যা, নারী নির্যাতন ও পৈশাচিক অত্যাচারে লিপ্ত হয়েছে। তারা আজ দেশের প্রতিটি জনপদে নারীদের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছে।"
তিনি অভিযোগ করেন, গতকাল ছাত্রদল নেতা কর্তৃক গাজীপুরে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে হত্যা এবং আজ চট্টগ্রামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রদলের সম্পৃক্ততা খবর পাওয়া গেছে। এমনকি ২০১৮ সালে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে ধর্ষণের শিকার নারীর মামলার আসামিরাও এখন বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
তিনি বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নারীরা ছাত্রশিবিরকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করায় এখন তারা নারীদের ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে যেন আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে না যায়। সাইবার আক্রমণ ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন তাদের নেতাকর্মীদের নির্বাচনের জন্য সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিকে ব্যবহার করার যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক! আমরা সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর কাছে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাই। অন্যথায় ধরে নেওয়া হবে আপনারা ফ্যাসিস্টদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেননি।
সমাবেশ শেষে ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত সকলকে সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি সফল করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।