২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৬

তারেক রহমানের ‘ইউথ পলিসি টকে’ আমন্ত্রণ পেলেন না চবি ছাত্রদল নেতারা, বাদ চাকসু এজিএসও

চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক  © সংগৃহীত

দীর্ঘ দুই দশক পর গতকাল বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে সকালে হোটেল রেডিসন ব্লুতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের ৩০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘ইউথ পলিসি টক’ অনুষ্ঠিত হয়। এই পলিসি টকে তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির পলিসি নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন। তবে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি ছাত্রদলের প্যানেল থেকে নির্বাচিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতারাও এতে আমন্ত্রিত ছিলেন না।

জানা গেছে, তারেক রহমানের এটি কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম ছিল না। যদিও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের অধিকাংশই ছিল রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। ফলে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে চবি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় জানিয়েছেন, এখানে আমাদের আমন্ত্রণ পাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না, কারণ এটি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ছিল না। যদি তারেক রহমান প্রতিটি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে আলোচনা করেন, তাহলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলীয়করণে পরিণত হয়ে যায়। তবে তারেক রহমান সবার নেতা। তাই তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আর এই প্রোগ্রামের আমন্ত্রণের বিষয়টি চেয়ারম্যানের একান্ত কোনো ব্যক্তি দেখভাল করেছেন বলে জেনেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, গতকালকের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আমি আগে থেকে কিছু জানতাম না। পরবর্তীতে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি। আমার নেতাকর্মী এবং শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে আমার কাছে জিজ্ঞেস করলে আমি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারিনি। পরে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তারা জানালেন যে অনুষ্ঠানটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। পরবর্তীতে আমি লক্ষ্য করলাম যে নেতা-কর্মীদের শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব বলয়ের বাইরে তেমন কেউ আমন্ত্রণ পায়নি।

তিনি বলেন, আমার মনে হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী-নেতাকর্মীদের এই অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত, কারণ এরা ভবিষ্যতের নীতি-নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে যারা দায়িত্বশীল তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। এখন মানুষ যখন এই বিষয় নিয়ে আমার কাছে প্রশ্ন করছে, আমি বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছি।

পলিসি ডায়ালগে তরুণদের নানা প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির নীতি, পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। আলোচনায় পরিবেশ সুরক্ষা, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি, অভিবাসী শ্রমিকের দক্ষতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সংস্কার, পাহাড়-সমতল বৈষম্য, ব্লু ইকোনমি, কৃষি সিন্ডিকেট, এনআইডি-পাসপোর্টের হয়রানিসহ বহু ইস্যুতে প্রশ্ন আসে।

এ বিষয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতদের স্থানীয়ভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমার জানা নেই।