চোখের অস্ত্রোপচার হলো গণঅভ্যুত্থানে চোখে গুলিবিদ্ধ আলিফের
জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকালে গত ৪ আগস্ট মিরপুর ১০ নম্বরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নির্বিচার গুলিবর্ষণের মধ্যে অনেকের সাথে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন মিরপুর ইউসেপ ইনস্টিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. আলিফ হোসেন। এসময় দুই চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পরে অজ্ঞান হয়ে যায় আলিফ।
আলিফের সাথে কথা বলে জানা যায়, আহত হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে নিলে পুলিশের কারণে হাসপাতালেও থাকতে পারেনি আলিফ। তবে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে কিছুটা চিকিৎসা পান তিনি, তবে তার চোখসহ শরীরের প্রায় সব গুলিই রয়ে যায়।
আলিফ জানান, চিকিৎসাসেবা না পেয়ে যখন চোখের আলো কমে আসছিল তখনই পরিচয় হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক তারেক হাসান মামুনের সাথে। তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তার চোখের অপারেশনসহ যাবতীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক তারেক হাসান মামুন বলেন, নীলফামারী জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সম্পাদক জীবন আমাকে কল দিয়ে জানায় তার এলাকার একজন সাধারণ ছাত্র চোখের অস্ত্রোপচারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু চিকিৎসা পাচ্ছে না, দিনকে দিন চোখের দৃষ্টিশক্তি লোপ পাচ্ছে।
‘‘সে আমাকে বলল, আপনিতো অভ্যুত্থানে আহত অনেককেই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, আমার এলাকার এই ছেলেটার দ্বায়িত্ব যদি নিতেন তাহলে ছেলেটার চোখটা হয়তো বেঁচে যাবে। তার কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে আমি আলিফের সাথে যোগাযোগ করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের রিহ্যাবিলিটিশন কমিটির আহ্বায়ক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ সাহেবের কাছে নিয়ে গেলে তিনি আলিফের চোখের চিকিৎসার জন্য বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মেহবুব উল কাদির এবং শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে গুলি বের করার জন্য ডা. কামরুজ্জামান এবং ডা. মো. হাসান সাহেবকে দ্বায়িত্ব দেন।’’
তারেক হাসান মামুন আরও জানান, সম্প্রতি ডা. মেহবুব উল কাদির সাহেব আলিফের চোখের সফল অস্ত্রোপচার করেন। বর্তমানে আলিফের দুই চোখেরই সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। কয়েকদিন পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানের গুলিও বের করা শুরু হবে।