০১ মার্চ ২০২৩, ০৮:৪০

‘ছাত্রলীগের বড় ভাইদের মিষ্টি ও ডাইল খেতে ২০ হাজার টাকা দিও’

অভিযুক্ত নাচোল উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হাসান তারিফ  © সংগৃহীত

ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একটি কমিটিতে পদ দেওয়ার নামে ফেনসিডিল কেনার কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হাসান তারিফের বিরুদ্ধে। তার কথোপকথনের এরকম একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অডিও রেকর্ডে তিনি নেজামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ-প্রত্যাশী ছাত্রলীগ কর্মীর কাছে ফেনসিডিল ও মিষ্টি খাওয়া বাবদ টাকা দাবি করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা কমিটি।

ছাত্রলীগের নেতারা বলছেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়ার কথা বলে আসিফ আলী নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীর কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ সময় টাকা না দিলে সিফাত উদ্দিন নামে আরেকজনকে সাধারণ সম্পাদক করে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দকে মিষ্টি ও ফেনসিডিল খাওয়া বাবদ টাকাগুলো দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে ওই দাবিতে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয় উপজেলা ছাত্রলীগ। সেখানে এক বছরের জন্য সভাপতি হিসেবে মো. শামীম সারোয়ার, সহ-সভাপতি পদে মো. নাইম ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. সিফাত উদ্দিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয় মো. আসিফ আলীকে। কমিটির অনুমোদন দেন নাচোল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আলসাবা ও সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হাসান তারিফ।

কমিটি অনুমোদনের আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি হওয়া ওই অডিও রেকর্ডে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হাসান তারিফ নেজামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসিফ আলীকে বলেন, নতুন কমিটিতে তোমাকে সাধারণ সম্পাদক করে দেবো। যদিও ওপর থেকে সিফাত উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করতে নানারকম চাপ আছে। তবুও আমি তোমাকেই করতে চাই। কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের বড় ভাইদেরও একটা আশা থাকে, তাদেরকে মিষ্টি ও ডাইল (ফেনসিডিল) খাওয়া বাবদ বেশি না ২০ হাজার টাকা দিও।

ভাইরাল হওয়া কথোপকথনে পদপ্রার্থী আসিফ আলী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফিরোজ হাসান তারিফ বলেন, কমিটিতে পদে আসতে গেলে এমন খরচ লাগে। শিবগঞ্জের দিকে খোঁজ নিয়ে দেখো। একেকটা ইউনিয়ন কমিটির জন্য লাখ লাখ টাকা লেনদেন হয়। ওদের ওখানে ইনকাম আছে, তাই লেনদেনও বেশি। আমাদের এখানেও ইনকাম শুরু হয়ে যাবে। এতদিন দলীয় এমপি ছিল না, তাও এখন হয়ে গেছে। আগামী ছয় বছরের জন্য দলীয় এমপি থাকবে ধরে নাও।

অডিও রেকর্ডে পদপ্রার্থী আসিফ আলী বলেন, আমি দলকে ভালোবাসি, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে আমাকে পদ দেন। কিন্তু আমি এতো টাকা ম্যানেজ করতে পারবো না। এ সময় ফিরোজ হাসান তারিফ বলেন, ভেবে দেখে  সিদ্ধান্ত নাও। অনেকেই এই পদ নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করছে।

ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ-প্রত্যাশী ও নেজামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক আসিফ আলী জানান, কমিটি দেওয়ার দুই দিন আগে আমাকে ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের নামে মিষ্টি ও ফেনসিডিল খাওয়ার টাকা দাবি করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হাসান তারিফ। পরে আমি টাকা দিতে না পারায় আরেকজনকে কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে এবং সেই কমিটিতে আমাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফিরোজ হাসান তারিফ জানান, তাকে ফাঁসানোর জন্য এডিটিং করে এসব অডিও রেকর্ড ফাঁস করা হয়েছে। যেই ছাত্রলীগ কর্মী এই কাজটি করেছে, তাকেও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে আবেগে এসব অডিও রেকর্ড ছড়িয়েছে। সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আর নেজামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়া সিফাত উদ্দিন বলেন, আমিও অডিও রেকর্ডটি শুনেছি। আমার ধারণা, কমিটিতে পদ না পেয়ে এসব করা হয়েছে। আমিও তো ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছি। আমাকে এমন টাকা-পয়সার কোনও প্রস্তাব কেউ দেয়নি।

এ নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুজ্জামান আশিক বলেন, বিষয়টি আমাদেরও দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ফলে মঙ্গলবার সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাকে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।