০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২১:৪০

আটকে গেলো হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের কমিটি— নেপথ্যে লোকাল পলিটিক্স

ছাত্রলীগ  © লোগো

প্রায় একযুগ পার হলেও নতুন কমিটি পায়নি দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগ। সর্বশেষ ২০১০ সালে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের শিক্ষার্থী ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলকে সভাপতি ও কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী অরুণ কান্তি রায় সিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর পর গত বছরের ২৭ নভেম্বর হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

সর্বশেষ, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা নেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক আব্দুল্লাহ হীল বারী ও উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান। জীবনবৃত্তান্ত নেয়ার এক বছর পেরোলেও কমিটি পায়নি হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগ। এর আগেও আরেকবার জীবনবৃত্তান্ত জমা নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। 

আরও পড়ুন: ‘ব্যাকডেট’ দিয়ে শেষবেলায় গণহারে পদ দিচ্ছে ছাত্রলীগ

এদিকে, মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর ) ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়হীনতাকে অন্যতম কারণ হিসাবে দায়ী করে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক আব্দুল্লাহ হীল বারী।

তিনি বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি হাবিপ্রবির কমিটি দেয়ার ব্যাপারে। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় আমরা কমিটি দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছি। তবে এছাড়াও কিছু কারণ রয়েছে যা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলতে পারেন। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টির জন্য হতাশ। আশা করি নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করলে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটির ব্যাপারে দৃষ্টি রাখবে।

এ দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটির সহ-সভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ বলেন, দীর্ঘ সময় থেকে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি দিতে না পারা সত্যিই অনেক দুঃখজনক। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোনো ভাবেই এর দায় এড়াতে পারেন না । কারণ তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। প্রত্যাশা করি নতুন যারা দায়িত্বে আসবে তারা যেনো এসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ছাত্রলীগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। 

আরও পড়ুন: ‘বিশাল’ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ফখরুল বলে ‘খাঁচা’: কাদের

এদিকে গত ১৪ মে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের বক্তব্যে আশাবাদী হন নেতাকর্মীরা। ঐ ভিডিও সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে জয় বলেন, হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কিছু ইউনিটে ছাত্রলীগ কমিটি করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতার এমন বক্তব্যে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ  উচ্ছ্বসিত হলেও এখনও কমিটি না হওয়ায় সেই উচ্ছ্বাস হতাশায় পরিণত হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করার পরেও সাংগঠনিক পরিচয় না নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি ঘটাতে হচ্ছে। এদিকে চাকরির বয়স শেষ হওয়াতেও হতাশা গ্রাস করে বসেছে আমাদেরকে। এছাড়াও একাডেমিক ক্ষেত্রেও আমাদের ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পরেছে। বিষয়গুলি সত্যিই অরেক দুঃখজনক এবং হতাশার। 

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা সাঁড়া দেননি।