স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে তরুণদের আগামীর ভাবনা

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে তরুণদের আগামীর ভাবনা
  © টিডিসি ফটো

আজ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশ স্বাধীনতার আজ ৫০ বছর পূর্ণ করলো। ১৯৭১ সালে এই দিনেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশকে দখলদারমুক্ত করার সংগ্রামে নামার আহবান জানিয়েছিলেন।

বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসে তরুণ-যুবার দ্রোহ আর আত্মত্যাগই গড়ে দিয়েছিল স্বাধীনতার পথ; স্বাধীন বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে আগামীর দিকে তাকিয়ে কী ভাবছে আজকের তরুণরা?  তাদের ভাবনা তুলে ধরেছেন মুমতা হেনা মীম—

চেতনা জুড়ে থাকুক স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বঙ্গবন্ধু
জাতি হিসেবে বাঙ্গালীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। যা প্রতিনিয়ত আমাদের পথচলার পাথেয় হিসেবে কাজ করে। মূলত এ শক্তিতে বলিয়ান হয়েই বাংলাদেশ একদিন বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। মোটাদাগে বললে, যেখানে থাকবে না চিন্তার আড়ষ্টতা। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি অথবা ধর্মান্ধতা থাকবে না। ধনী, গরীব কিংবা বর্ণের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। চলার পথ হবে ভয়-ডরহীন, নিষ্কন্টক। কথা বলা কিংবা চলায় মানুষের জীবন হবে মুক্ত বিহঙ্গ পাখির ন্যায়।

যেখানে তনু-রুপাদের জীবন দিতে হবে না। মা-বোনেরা তাদের প্রাপ্য সম্মান পাবে। স্ব স্ব ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি ও মতের অমিল থাকলেও দেশ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে কোনো দ্বিমত থাকবে না। দেশমাতৃকার প্রতি সবার থাকবে অকৃত্রিম ভালোবাসা। যেখানে মানুষকে রাস্তায় ঘুমাতে হবে না। সবার জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা থাকবে। বেকার সমস্যা দূরীভূত হবে। মানুষ পাবে অর্থনৈতিক মুক্তি।

সর্বপরি তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ বিনির্মানে নেতৃত্ব দিতে হবে। বিভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ক্ষুধা, দারিদ্র্য মুক্ত দেশ গড়ার শপথ নিতে হবে। মোদ্দা কথা হলো, সবার সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমেই জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

মোস্তাফিজুর রহমান রাকিব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস যা ২৬ মার্চ তারিখে পালিত বাংলাদেশের জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে (কাল রাত) তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রা তাদের বর্বরতা অত্যাচার শুরু করে! ঘুমন্ত বাঙালির উপর ঝাপিয়ে পড়ে! নিরীহ বাঙালির ওপর চালিয়েছিল নির্মম হত্যাযজ্ঞ। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তারের আগমুহূর্তে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সেই রাতের পর বাঙালি নতুন প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়!
তারপর ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল বাঙালির দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি!
বিশ্ব ভূখন্ডে স্বাধীন দেশের খেতাব পেয়েছি! বাংলাদেশের পূর্বের সব ইতিহাস আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়েছে! আমাদের সেই বার্তা ধরে রাখতে হবে আমাদের প্রতিটা সমস্যা ঐক্যবদ্ধতার সহিত মোকাবিলা করতে হবে!

সাদিয়া আফরিন মৌরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী: ধর্ষণমুক্ত হোক বাংলাদেশ
সম্প্রতি ধর্ষণের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে, আমরা দৈনিক পত্র-পত্রিকার দিকে একটু নজর দিলে তা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি। হাটে-মাঠে, রাস্তাঘাটে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বত্রই যেন আজ ধর্ষণের অভয়ারণ্য। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২০ সালে প্রতিমাসে গড়ে ১১১ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের।

সমাজ থেকে ধর্ষণ নামক এই ক্যান্সার পুরোপুরি নির্মূল করতে চাইলে সামাজিক জনসচেতনতা জরুরি। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া আমাদের দেশে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই বললেই চলে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ধর্ষণ নির্মূল করা একান্ত অপরিহার্য। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এটাই হোক আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।

ইমরান আজিম, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী
হঠাৎ ঘনিয়ে আসা করোনা মহামারীর সাল ২০২০-কে বিদায় দিয়ে আমরা ২০২১ সালে প্রবেশ করেছি। এরই মধ্যে দিয়ে পদার্পন করেছি বহুল প্রতীক্ষিত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে। স্বাধীনতা পরবর্তী এই পঞ্চাশ বছরে অনেক দুর্যোগ উপেক্ষা করেও প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়েছে স্বল্প উন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণ, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন, পদ্মাসেতুর মত অভাবনীয় সাফল্যগুলো। যা সুবর্ণজয়ন্তীর তাৎপর্যে যোগ করেছে নতুন এক মাত্রা। আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের প্রেরণা যোগায়। শক্তি দেয় নিষ্ঠার পথে নির্ভীক যোদ্ধা হওয়ার। এই অর্জনের জন্য বাঙালিকে পাড়ি দিতে হয়েছিল এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। যার ফলশ্রুতিতে বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয়েছিল বাংলাদেশ নামক এক নতুন ভূখণ্ডের। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর এসেও কোটি প্রানে লালিত হোক সেই সংগ্রামী মনোভাব। বাংলার মাটিতে আরও তিতুমীর, সূর্যসেন কিংবা প্রীতিতারা বেড়ে উঠুক।

সুবর্ণজয়ন্তীর এই মহোৎসব তৈরি করুক হাজার প্রাণে শত বাধা পেরিয়ে লাখো প্রেরণার গল্প। দেশ এগিয়ে যাক তার নিজ গতিতে। স্বপ্ন দেখি একটি ক্ষুধা, বেকারত্ব, দারিদ্র্যমুক্ত সুস্থ বাংলাদেশের। স্বপ্ন দেখি বঙ্গবন্ধুর সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশের। গুণীজনরা বলে গেছেন, ‘স্বাধীনতা অর্জনের থেকে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন’। তাই হয়ত এখনও স্বাধীন দেশের মাটিতে ‘ফেলানিদের’ লাশ দেখা যায়। আমাদের স্বাধীনতা যেন প্রশ্ববিদ্ধ না হয়, সে লক্ষে আরও একবার দৃঢ়প্রতৃজ্ঞ হতে হবে তরুণ প্রজন্মকে। আশা রাখি স্বাধীনতার এই সুবর্ণজয়ন্তী এনে দিবে সকল স্বপ্নের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন।

শাহিদা আরবী, শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ