৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৬

ভারতে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সংশয়ে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া

ইংল্যান্ড দল ও অস্ট্রেলিয়া দল  © সংগৃহীত

নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আপত্তি জানিয়েছে ইংল্যান্ড, উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়াও। পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিএনএন এইচডির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউরোপের দেশগুলো ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে চাচ্ছে না এবং ইংল্যান্ড ইতিমধ্যে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। 

এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার ঘোষণা দিয়েছেন যে, ভারতে ছড়িয়ে পড়া এই মারাত্মক ও প্রাণঘাতী ভাইরাস-কাণ্ডের গতিবিধি তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। 

বাটলার জানান, 'নিপা ভাইরাস নিয়ে আমরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।' তিনি আরও বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ায় আসা অসুস্থ যাত্রীদের জন্য আমাদের প্রোটকল পরিবর্তন করার পরামর্শ আপাতত নেই। ইতোমধ্যে এ সম্পর্কিত প্রোটকল রয়েছে। তবে আমরা এটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব।'

জিএনএন-এর খবরে বলা হয়েছে, 'ভারত একটি ভাইরাসে আক্রান্ত। তারা যেখানে খেলতে যাচ্ছে সেখানকার অবস্থা ভালো নয়। ইংল্যান্ড খেলতে আপত্তি জানিয়েছে।' ওই প্রোগ্রামের আলোচক ও সাংবাদিক বলেছেন, 'নিয়তে বরকত। ভারতের শুরুতেই নিয়ত ভালো ছিল না। 

ভাইরাস এসেছে বেঙ্গলে, ঠিক বাংলাদেশেরই কাছে। এখন মনে হচ্ছে ঠিকই পুরো টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় চলে যাবে।' প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০ দলের এই টি-২০ বিশ্বকাপের ৫৫টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২০টি শ্রীলঙ্কায় এবং বাকি সব ভারতে হওয়ার কথা। তবে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা কঠিন, কারণ কয়দিন আগে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে আইসিসি বাদ দিয়েছে এই যুক্তিতে যে বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয়।

ভারতে এই প্রাণ হরণের মতো মারাত্মক ভাইরাসের ভয়াবহতা এখন বিশ্ব মিডিয়াতেও ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাস্ক, গগলস ও পিপিই পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে এই ভাইরাস করোনার চেয়েও মারাত্মক। আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, 'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই ভাইরাসের প্রাণ হারানোর হার ৪০-৭৫ শতাংশের মধ্যে, যা এটিকে করোনাভাইরাসের চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক করে তোলে।' এই পরিস্থিতিতে এত কড়াকড়ি মেনে বিশ্বকাপ খেলা সম্ভব কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া এই পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সাথে নিলেও জানিয়েছে যে ভারত ফেরত যাত্রীদের নিয়ে এখনই এয়ারপোর্টে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপের কিছু নেই, যদিও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাটলার এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন।