তামিম-সাকিব নৈপুন্যে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে

ক্রিকেট
তামিম-সাকিব নৈপুন্যে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে  © সংগৃহীত

সিরিজ নিশ্চিত হয়েছিল আগের ম্যাচেই। তবে আরেকটা উপলক্ষ ছিল শেষ ওয়ানডেতে। তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ২৯৯ রানের বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে জয়ের স্বপ্নই দেখছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জিম্বাবুয়েকে স্বান্ত্বনার জয়ও পেতে দিল না টাইগাররা। তামিম ইকবাল দারুণ সেঞ্চুরি করে পথ পরিস্কার করে রেখেছিলেন। মিডল অর্ডারে নেমে মিঠুন-আফিফদের নিয়ে ফিনিশিং দিলেন সোহান আর আফিফ। শেষের দিকে এই দুজনের দারুণ ব্যাটিংয়ে ১২ বল বাকি রেখেই বাংলাদেশ জয় পেল ৫ উইকেটে। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলো জিম্বাবুয়ে। হারারেতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বড় লক্ষ্য হেসেখেলেই পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশ, জিতেছে ৫ উইকেট আর ২ ওভার হাতে রেখে।

এই জয়ে ‘মিশন হোয়াইটওয়াশ’ও পূর্ণ করেছে টাইগাররা। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাঠে হারানোর এক যুগ পর আবারও বিদেশের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব দেখাল তারা।

সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের দেওয়া বড় টার্গেট তাড়ায় বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। তাদের সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৪৮ বলেই পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলে টাইগারদের ইনিংস। ৫৯ বলে পঞ্চাশ পূরণ করেন তামিম ইকবাল। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল ওপেনিং জুটি তিন অংক ছুঁয়ে ফেলবে। তবে দলীয় ৮৮ রানে মাধভেরের বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন লিটন দাস (৩২)। উইকেটে আসেন সাকিব। লিটনের আউটেও রানের গতি কমেনি। এই জুটির অবসান হয় ৫৯ রানে। লুক জঙ্গুইয়ের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন সাকিব (৩০)।

তামিম ইকবাল খেলছিলেন দারুণ। রীতিমতো ব্যাট চালিয়ে। ৩০তম ওভারের প্রথম বলে টেন্ডাই চাতারাকে বাউন্ডারি মেরে তিনি পৌঁছে যান কাঙ্ক্ষিত ম্যাজিক ফিগারে। ক্যারিয়ারের ১৪ নম্বর সেঞ্চুরি করতে তামিম সময় নেন মাত্র ৮৭ বল। হাঁকান ৭টি চার এবং ৩টি ছক্কা। মিঠুনের সঙ্গে জুটি যখন জমে উঠেছে; তখনই ছন্দপতন। ডোনাল্ড ত্রিপানোর করা ৩৫তম ওভারের পরপর দুই বলে ফিরে যান সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল এবং বিপদের ত্রাতা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৯৭ বলে ৮ চার আর ৩ ছক্কায় ১১২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা তামিম উইকেটরক্ষকের ক্যাচ হওয়ার পর প্রায় একইভাবে আউট হন মাহমুদউল্লাহ (০)। হ্যাটট্রিক বল খেলতে উইকেটে আসেন সিরিজে প্রথমবারের মতো একাদশে সুযোগ পাওয়া নুরুল হাসান সোহান।

সোহান অবশ্য ওই বলটিতে একটুও নার্ভাস হননি। বরং বাউন্ডারিতে দূর করেন হ্যাটট্রিকের শঙ্কা। চোখ ধাঁধানো কিছু শট খেলে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন এরপরও। পঞ্চম উইকেটে মিঠুনের সঙ্গে গড়েন ৫৪ বলে ৬৪ রানের জুটি। যাতে মূল অবদান সোহানেরই (৩৯)। মিঠুন খেলেছেন ভীষণ ধীরগতিতে। একের পর এক শট খেলতে গিয়ে মিস করেছেন। একদমই আত্মবিশ্বাসহীন মনে হচ্ছিল তাকে। শেষ পর্যন্ত নিজেই যেন নিজের ওপর বিরক্ত হয়ে যান মিঠুন। জিম্বাবুইয়ান স্পিনার মাদভেরেকে বড় শট খেলতে ডাউন দ্য উইকেটে এসেছিলেন, এবারও ঠিকমত ব্যাটে বলে করতে পারেননি। লংঅফে ক্যাচ হয়েছেন চাতারার। তবে এরপর আর দলকে কোনো বিপদে পড়তে দেননি সোহান-আফিফ। ৩৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বিজয়ীর বেশেই মাঠ ছেড়েছেন তারা। সোহান ৩৯ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৪৫ আর আফিফ হোসেন ধ্রুব ১৭ বলে ৩ চার, এক ছক্কায় ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন।


মন্তব্য