২১ অক্টোবর ২০২৩, ১৩:১৪

বিশ্বকাপ ক্রিকেট উন্মাদনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৩ উপলক্ষে ঢাবির টিএসসিতে খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়  © সংগৃহীত

ভারতে চলছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১৩তম আসর। বিদেশের মাটিতে বিশ্বকাপের আসর বসলেও উন্মাদনায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীরা। এখন সব আড্ডার মূল বিষয়বস্তু ক্রিকেট। আগমন ঘটেছে মৌসুমি খেলোয়াড়েরও। গলির মুখে কিংবা মাঠে, সর্বত্র এখন ক্রিকেটের জোয়ার। স্ট্যাম্প আর ব্যাট-বল নিয়ে ক্রিকেটার বনে যাওয়ার সে কী চেষ্টা! যেন পুরো দেশেই বিশ্বকাপের ঢেউ। যার আঁচ লেগেছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে উঠেছে। ক্লাস-পরীক্ষার ফাঁকে ক্যাম্পাস চত্বর কিংবা ক্যাফেটেরিয়ায় আড্ডায় বারবার উঠে আসছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ। সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে 'বাংলাদেশ, বাংলাদেশ' জয়গান। বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের দলকে সমর্থন জানিয়ে পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, স্টিকার ইত্যাদি লাগিয়ে দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা হলের ক্যান্টিন, টিভি রুম, বাগানে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়ানৈতিক মনোভাব গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন  ক্যাম্পাসে বড় পর্দায় ম্যাচ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিনিয়র-জুনিয়র, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে একসাথে খেলা দেখা যেনো আনন্দ বহুগুণে দেয়। এছাড়াও কিছু ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে ক্রিটেক টুর্নামেন্টেরও।

এবারের বিশ্বকাপ যেন জমে ক্ষীর। বিশ্বকাপকে জমানোর কাজটা করে যাচ্ছেন তথাকথিত ছোট দলগুলোই। রোববার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছে ‘পুঁচকে’ আফগানিস্তান। আবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে নেদারল্যান্ড। তবে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ক্যাম্পাসের ক্রীড়া প্রেমীরা। গত ৪ ম্যাচের ৩টা ম্যাচেই হেরে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে নিউজিল্যান্ড ও ভারত।

সমর্থকদের বাংলাদেশ ছাড়াও অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশকে সমর্থন করতে দেখা যায় অনেককে। এবারের বিশ্বকাপে ভারতকে টপ ফেভারিট দল মনে করছেন হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের চাইতে বেশি এক্সপেরিয়েন্সড প্লেয়ার অন্য কোনো দলে ছিলো না। বিশ্বকাপের শুরুতে স্বপ্ন দেখেছিলাম টাইগার বাহিনী এবার শিরোপা খরা কাটাবে। তারা বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করে সকল স্বপ্নকে সত্যি করে তুলবে। কিন্তু কনফ্লিক্ট, কন্ট্রোভার্সি এবং অফ ফর্ম যেনো পিছুই ছাড়ছে না তাদের।

তরুণরা বারবার সুযোগ পেয়েও নিজেকে প্রমাণ করতে পারছে না বিশ্ব মঞ্চে। বাংলাদেশকে সেমিতে দেখার মতো কোনো সমীকরণ আপাতত মিলাতে পারছি না কোনোভাবেই। ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের পরে আমি নিউজিল্যান্ড এবং সাউথ আফ্রিকার খেলা পছন্দ করি। তবে প্লেয়ারদের পার্ফরমেন্স, হোম গ্রাউন্ড এডভান্টেজ, ম্যাচ প্ল্যান—সবমিলিয়ে ভারতকেই টপ ফেবারিট মনে হচ্ছে। ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এই চারদলকে সেমিফাইনালের জন্য এগিয়ে রাখছি—বলেন এই ক্রিকেটপ্রেমী।

শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী জুবায়েদুল হক রবিন বলেন, এবারের আসরে তুলনামূলক কম শক্তিশালী দলগুলোও দেখাচ্ছে তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ। গত আসরের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে প্রথম অঘটন ঘটায় আফগানিস্তানের মতো তুলনামূলক দুর্বল দল। এরপর উড়তে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকাকে মাটিতে নামিয়ে দ্বিতীয় অঘটন ঘটায় নেদারল্যান্ডস। প্রায় সব বিশ্বকাপেই এমন অঘটনের স্বাক্ষী হয় ক্রিকেট বিশ্ব। আমি মনে করি তুলনামূলক কম শক্তিশালী দলগুলোর প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসই তাদের এ সাফল্যের পেছনের গল্প।

তিনি বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের আশা নিয়ে বিশ্বকাপে গিয়ে তেমন সুবিধা করতে পারছে না বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ জয়ের পর টানা তিন ম্যাচ বড় ব্যবধানে হারের পর পয়েন্ট টেবিলে নেট রানরেটেও অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে দলটিকে। তবে এ দলটাও সেমিফাইনাল খেলার যোগ্যতা রাখে। যদি তারা পরের ম্যাচগুলোতে তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারে। ভারতের মাটিতে ভারত সবসময়ই ফেভারিট। তাছাড়া তাদের সব খেলোয়ারই ফর্মে রয়েছেন। এবারের আসরে আমি ভারতকেই এগিয়ে রাখবো সবার আগে।