১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেল স্পেন
দেশের হয়ে শিরোপা জয় হলো না লুকা মদ্রিচের। ক্লাব ফুটবলে সম্ভাব্য সব কিছু জিতলেও জাতীয় দলকে কিছুই এনে দিতে পারেননি ৩৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু লড়াইয়ের ধরনে তেমন কোনো পরিবর্তন এলো না। ১২০ মিনিটের লড়াই গোলশূণ্যভাবে শেষ হওয়ার পর গড়ায় পেনাল্টি শুট আউটে। আর এই পেনাল্টি শ্যুটআউটেই ক্রোয়েশিয়ার হৃদয় ভেঙে নিজদের দীর্ঘ ১১ বছরের শিরোপার আক্ষেপ ঘুচিয়েছে স্পেন। সেখানে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
রোববার (১৮ জুন) রটারডামে টাইব্রেকারে বাজিমাত করল স্পেন। উনাই সিমোনের অসাধারণ নৈপুণ্যে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নেশন্স লিগের শিরোপা জিতল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
শ্বাসরুদ্ধকর এক ফাইনাল। যেখানে ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলের দেখা পায়নি দুই দলের কেউই। এতে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সেখানেও গোলের দেখা পায়নি স্পেন-ক্রোয়েশিয়ার কেউইই। দুই দলই প্রথম তিন শটে জালের দেখা পায়। ক্রোয়েশিয়ার চতুর্থ শট নিতে এসে ব্যর্থ হন লভরো মাইয়ের, তার শট ঝাঁপিয়ে পড়া অবস্থায় পা দিয়ে আটকান সিমোন। এরপর মার্কো আসেনসিও জালে বল পাঠালে এগিয়ে যায় স্পেন।
ক্রোয়েশিয়ার চতুর্থ শট নেওয়া ইভান পেরিসিচ সফল হলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-৪, কিন্তু একটি শট তখন হাতে ছিল স্পেনের। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ট্রেবল জয়ী সফল হলে শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যেত তাদের, কিন্তু ক্রসবারে মেরে বসেন তিনি। নতুন করে আশা জাগে কাতার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালিস্টদের।
তবে আবারও সিমোনের দৃঢ়তা এবং ব্রুনো পেতকোভিচের ব্যর্থতায় ভেস্তে যায় তাদের সব আশা। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে তার শট ঠেকিয়ে দেন আথলেতিক বিলবাওয়ের গোলরক্ষক। এরপর দানি কারভাহাল লক্ষ্যভেদ করতেই উল্লাসে ফেটে পরে স্পেনের সবাই।
আরও পড়ুন: একজন কোলে তুললেন, আরেকজন রোনালদোকে পেয়ে কাঁদলেন
ম্যাচ জুড়ে বল দখলের লড়াই থেকে শুরু করে গোল মুখে আক্রমণেও এগিয়ে ছিল স্পেন। তবে ২১টি শট নিয়ে স্পেনের শট লক্ষ্যে ছিল মাত্র দুইটি, বিপরীতে ১২টি শট নিয়ে পাঁচটিই লক্ষ্যে রাখে ক্রোয়েশিয়া। বল দখলের লড়াইয়ে স্পেন এগিয়ে ছিল ৫৫ শতাংশ সময়।
২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয়ী স্পেন তিনবার জিতেছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। তাদের সবশেষ শিরোপা সাফল্য ধরা দেয় ২০১২ সালে, ইউরো। ১১ বছর বাদে ফের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মিষ্টি স্বাদ পেল তারা। ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সম্ভাব্য সব শিরোপা ঘরে তোলা মদ্রিচ পারলেন না দেশের হয়ে অর্জনের সাক্ষী হতে।