২০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৩৪

শৈশবে বেসরকারি স্কুলে পড়েছেন এমবাপ্পে, মেধাবী হলেও ছিলেন উচ্ছৃঙ্খল

কিলিয়ান এমবাপ্পে  © সংগৃহীত

কিলিয়ান এমবাপ্পে একজন ফরাসি পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। ২০১৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্সের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত পেয়েছিলেন। বিশ্বকাপে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফরাসি হয়েছিলেন তিনি। চার গোল করে তার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছিলেন। বিশ্বকাপে সেরা তরুণ খেলোয়ার এর পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। শৈশবে এমবাপ্পে বন্দির একটি বেসরকারি ক্যাথলিক স্কুলে পড়াশুনা করেছেন। যেখানে তাকে মেধাবী শিক্ষার্থী মনে করা হতো। তবে তিনি বেশ উচ্ছৃঙ্খল ছিলেন। 

আজ সোমবার (২০ ডিসেম্বর) এমবাপ্পের জন্মদিন। কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্ম প্যারিসে। ১৯৯৮ সালের ২০ ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেন সাধনের বন্দিতে তার শৈশব অতিবাহিত করেছেন। তাঁর বাবা ক্যামেরুনের মানুষ, পেশায় ফুটবল কোচ। আর মা আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত সাবেক হ্যান্ডবল খেলোয়াড়। তার ইথান নামে একজন ছোট ভাই রয়েছে। শৈশবে বন্দি নামের এলাকায় বেড়ে ওঠেন এমবাপ্পে। সেখানে একটি বেসরকারি ক্যাথলিক স্কুলে পড়তেন তিনি। 

বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, এমবাপ্পে মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন, কিন্তু নিয়ম মানতে চাইতেন না। স্কুলে পড়ার সময়  জিনেদিন জিদান, রোনালদো নাজারিও আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে আইডল মানতেন এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদে ফুটবল খেলার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ১১ বছর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদের অনুর্ধ্ব ১২ দলে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান।

ফুটবল খুব ভালোবাসে এমবাপ্পে। লোকজনকে সম্মান করে। সে তার নিজের শহরকেও খুব ভালোবাসে। যখনই সে সুযোগ পায় তখনই সে ক্ষুদে ফুটবলারদের দেখতে চলে আসে। সে খুব শাদামাটা আর সহজ সরল। এজন্যে সবাই তাকে খুব ভালোবাসে।

এমবাপ্পে বল দখলে থাকা কালিন তার তৎপরতা সৃজনশীলতা এবং  ত্বরণের জন্য বিখ্যাত। ২০১৭ সালে এমবাপ্পে বিশ্বের দ্বিতীয় সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন কারণ তিনি ফরাসি ফুটবল ক্লাব প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন এর সাথে ১৮০ মিলিয়ন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

কর্মজীবন

এমবাপ্পে ২ ডিসেম্বর ২০১৫ এ  অভিষেক হয়েছিল। মোনাকো এর হয়ে  এস এম কেনের বিরুদ্ধে লিগ ওয়ান খেলেছিলেন। ১৬ বছর বয়সে আত্মপ্রকাশ করে তিনি থিয়েরি রেকর্ড ভেঙে দেন এবং মোনাকোর সর্বকনিষ্ঠ প্রথম দলের খেলোয়াড় হন। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ প্রথম গোল করেন। মোনাকোর হয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন। ৬ মার্চ এমবাপ্পে মোনাকোর সাথে তিন বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭সালে তিনি লীগ ১ এ প্রথম হ্যাটট্রিক করেন। 

২১ ফেব্রুয়ারি তিনি ইউএফা চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল করার জন্য দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফরাসি ফুটবল খেলোয়াড় হন। ৫ মার্চ তিনি এফসি নেন্টিসে্র বিরুদ্ধে তাঁর দলকে জয় করতে দুটি গোল করেন। 

১৫ মার্চ তিনি মোনাকো ইউএফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে সাহায্য করেছিলেন এরপর তিনি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় লেগে একটি গোল করেন তাঁর দলকে সেমিফাইনালে উঠতে সাহায্য করেন শেষ পর্যন্ত উয়েফা চ্যাম্পিয়ন লীগ থেকে বাদ পড়ে জুভেন্টাস। এমবাপ্পে ২৬ গোল করে মৌসুম শেষ করার কারণে তার দল লীগ শিরোপা জিতেছে।

৩১ আগস্ট প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন ঘোষণা করে যে এমবাপ্পেকে স্বাক্ষর করেছে। তিনি ৪ এ সেপ্টেম্বর প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনের হয় অভিষেক করেন। মেটসের বিরুদ্ধে তার দলকে জয় করতে একটি গোল করেন। ৬ ডিসেম্বর তিনি বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গোল করার সময় তার দশম চ্যাম্পিয়ন লিগ গোল করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হন।

১৭ মে ২০১৮ সালে এমবাপ্পে ফিফা বিশ্বকাপে এর জন্য জাতীয় দলের নাম লেখান। তিনি ২১শে জুন প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন। ফ্রান্সকে গ্রুপ-সি ম্যাচে পেরু কে হারাতে সাহায্য করে। ৩০ শে জুন তিনি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফ্রান্সকে জয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করার জন্য ম্যাচের সেরা পুরস্কার জিতেছিলেন। খেলা চলাকালীন তিনি কিংবদন্তি পেলের পর দ্বিতীয় কিশোর হিসেবে বিশ্বকাপ ম্যাচে দুবার গোল করেন।

১৫ জুলাই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি গোল করেন। যাতে ফ্রান্সকে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট জিততে সাহায্য করে। দ্বিতীয় কিশোর হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য এমবাপে সেরা তরুণ খেলোয়ার এর পুরস্কার জিতেছেন ।

১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ নিনস অলিম্পিক এর বিরুদ্ধে একটি খেলায় তাকে মাঠের বাইরে পাঠানো হয়েছিল কারণ তাকে তার ক্যারিয়ারে প্রথমবার  লাল কার্ড দেওয়া হয়েছিল। ৪ এ  অক্টোবর তিনি অলিম্পিক লায়ন্সের বিপক্ষে চারটি গোল করেন। একটি লিগ ওয়ান খেলায় চারটি গোল করে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হন। 

২০২২ বিশ্বকাপে ৮টি গোল, ৩টা এসিস্ট এবং ৩টা গোলে হ্যাট্রিক করে গোল্ডেন বুট ছিনিয়ে নিলেন এমবাপ্পে। সবাইকে তাক লাগিয়ে এমবাপ্পে এগিয়ে গেলেন, ছিনিয়ে নিলেন গোল্ডেন বুট৷ গোল্ডেন বুট দেওয়া হয় সর্বোচ্চ গোলদাতাকে।

মাত্র ২৩ বছর বয়সে ১টি বিশ্বকাপ, ২টি বিশ্বকাপ খেলেই মোট ১২ টি গোল, গোল্ডেন বল, ফাইনালে হ্যাট্রিক এমন কিছু নেই যে ছেলেটা অর্জন করেনি।