তিন ঘণ্টা বিয়ার পান না করেও বেঁচে থাকা যায়: ফিফা প্রেসিডেন্ট
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার দুই দিন আগে স্টেডিয়ামগুলো ‘বিয়ার’ বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে আয়োজক দেশ কাতার। তাদের ‘ইউটার্ন’ মেনে নিতে পারেননি ইউরোপিয়ানরা।
তাই কাতারসহ তোপের মুখে পড়তে হয় ফিফাকেও। তবে সেই সব সমালোচকদের একহাত নিয়েছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
বিশ্ব নানা প্রান্ত থেকে মানুষ দলে দলে পা রাখছেন কাতারে। ‘ফ্যান জোনে’ যদিও বিয়ার কিনতে পারবেন তারা। অবশ্য বিয়ার হাতে নিয়ে সমর্থকদের খেলা উপভোগ করার চিত্রটা দেখা যাবে না এবারের বিশ্বকাপে। তবে সেজন্য কেউ মারা যাবে না বলছেন ইনফান্তিনো।
বিয়ার বা অ্যালকোহল শুধু কাতার নয় ইউরোপেও নিষিদ্ধ এমন উদাহরণ দিয়ে ইনফান্তিনো বলেন,‘ফ্রান্স, স্পেন ও স্কটল্যান্ডেও স্টেডিয়ামে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ। এ রকম বিষয় নতুন কিছু নয়।’
ফিফার অন্যতম স্পন্সর একটি বিয়ার কোম্পানি। সেই বিয়ার কোম্পানির অসংখ্য বিয়ার ইতোমধ্যে কাতার এসেছে। কাতারের সিদ্ধান্তের কারণে সেই কোম্পানির ব্যবসায়ে প্রভাব পড়লেও ফিফার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট আছে বলে জানান তিনি, ‘আমাদের সঙ্গে যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক রয়েছে স্পন্সরের। এটি ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। কোনো সমস্যা হবে না।’
কাতারের মূল্যবোধ ও নিয়মের প্রতি অন্যদের শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সবাইকে সব পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। একেক জনের একেক মত থাকতে পারে। আমার এক মত, আমার বাবা এখানে নেই, থাকলে তার আরেক মত থাকতে পারত। আমার সন্তানের আরেকমত হতে পারে।’
আজ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, দিনে তিন ঘণ্টা বিয়ার পান না করেও বেঁচে থাকা যায়। একই (স্টেডিয়ামে বিয়ার নিষিদ্ধ) নিয়ম ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও স্কটল্যান্ডেও আছে। কাতার মুসলিম দেশ বলেই কি বিষয়টা বড় হয়ে গেল? আমি জানি না কেন। আমরা চেষ্টা করেছি এবং সে কারণেই শেষ মুহূর্তে নিয়মে পরিবর্তন এনেছি। ’
‘বিয়ার’ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ফিফা ও কাতারের যৌথভাবে নেওয়া। এমনটাই জানান ইনফান্তিনো, ‘একটা বিষয় প্রথমে নিশ্চিত করতে চাই, এই বিশ্বকাপের সবগুলো সিদ্ধান্ত কাতার ও ফিফা যুগ্মভাবে নিয়েছে। কাতারে অনেক ফ্যান জোন থাকবে যেখানে আপনি অ্যালকোহল কিনতে এবং পান করতে পারবেন। যদি এটি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়, তাহলে তৎক্ষণাৎ পদত্যাগ করে সমুদ্র-সৈকতে আরামে দিন কাটাব আমি। ’