বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ, তাই বন্ধ পাঠদান

হোসেনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
হোসেনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের অংশ  © সংগৃহীত

একাডেমিক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ হওয়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

অন্যদিকে বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে না পারায় সেখানেও ক্লাস করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। কবে নাগাদ ওই কাজ শেষ হবে তাও জানেন না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় অবস্থিত হোসেনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল এই ভবনটি ১৯৮৫ সালে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় ভবনটিতে তৈরি হয়েছে বেশ কিছু ফাটল, ছাদ আর দেয়ালের আস্তরণ খসে পড়ে বেরিয়ে গেছে লোহার রড। ফলে এখন তা একদমই শ্রেণি কার্যক্রম চালানোর অনুপযোগী হয়ে গেছে।

এর মধ্যে করোনা মহামারির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ওই ভবনটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সর্দার মোহাম্মদ আবু সালেক সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ওই ভবনটিতে পাঠদান বন্ধ করে দিয়েছেন।

কিন্তু পাঠদানের জন্য অন্য কোন ভবন না থাকায় কার্যত পুরো শিক্ষাকার্যক্রমই এখন বন্ধ রয়েছে।   

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জরাজীর্ণ ওই ভবনটির নিচতলায় রয়েছে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের কক্ষ আর শিক্ষক মিলনায়তন। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে লাইব্রেরি, বিজ্ঞান ল্যাব, স্পোর্টস অফিস ও বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস রুম। বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ৭০০। এর মধ্যে পুরোনো ভবনটিতে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালনা করে।

ভবনটিতে বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ১৩-১৪টি বড় ফাটল। বিভিন্ন সময় ছাদের অংশ খসে পড়ে শিক্ষার্থী- শিক্ষকসহ অনেকে আহতও হয়েছেন। এরকম পরিস্থিতিতে স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্পে যে কোনো মুহুর্তে শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির আশঙ্কা করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। আর তাই সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আপাতত সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।  

দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সর্দার মোহাম্মদ আবু সালেক বলেন, আমি গত কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়টিতে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। বিদ্যালয়ের দ্বিতল বিশিষ্ট একটি ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে দেখে, আমি তা বন্ধ করে দিয়েছি।

একই সাথে শিক্ষার্থীদের গ্রুপ করে ভালো রুমে ক্লাস করানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান এই শিক্ষা কর্মকর্তা।

হোসেনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে ক্লাস নিতে শিক্ষার্থীদের সাথে সাথে আমরাও শঙ্কায় থাকি। নতুন ভবনে উঠতে পারলে এ সমস্যা আর থাকতো না।

রেজাইল করিম জানান, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনটি ছিল একতলা। শ্রেণিকক্ষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পরে সেটাকে দ্বিতলে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। আরও এক বছর আগেই কাজ শেষ করার কথা ছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু সেই কাজ এখনও শেষ হয়নি। কবে নাগাদ শেষ হবে তাও আমরা জানিনা।

দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ আহম্মেদ মামুন জানান, তারা বিদ্যালয়ের এই সংকট নিয়ে কাজ করছেন।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যাতে দ্রুত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে ভবনটি হস্তান্তর করে সেই বিষয়ে দ্রুত কথা বলা হবে, বলেন চেয়ারম্যান মামুন।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ