করোনায় স্কুলছাত্র এখন সবজি বিক্রেতা

করোনা ভাইরাস
কাজের মাঝেও নাহিদুল কিন্তু পড়ালেখা থেকে এখনো দমে যায়নি  © টিডিসি ফটো

তেজদীপ্ত রৌদ্রজ্জ্বল সবেমাত্র পশ্চিম আকাশে হেলে পরেছে। বাজারে মানুষের আনাগোনা আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করেছে। টাটকা শাকসবজি নিয়ে সারিসারি বসে আছে কাঁচামাল ব্যবসায়ী, গৃহস্তরা; অপেক্ষা ক্রেতার। এরই মধ্যে চোখ যায় বাজারের এক কোণে বটতলায় কচুর পশরা সাজিয়ে বসা এক বালকের ওপর। কচু, কচুর লতি, কচু ফুলের ডালি সামনে নিয়ে বসে আছে ও। বয়স ১৩ কি ১৪ বছর হবে। গায়ে স্কুল ড্রেজ, পরনে লুঙ্গি, মাজায় গামজা। বাহ! একদম পেশাদার ব্যবসায়ী। ওর নাম নাহিদুল ইসলাম হেলাল৷ বাড়ি বাজারের পাশেই পিরোজপুরের মটবাড়িয়া গ্রামে। পড়ালেখা করে স্থানীয় গ্রামের একটি স্কুল, বাওনাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে।

নাহিদুলের বাবা কৃষক, মা গৃহিনী। ওরা চার ভাই বোন। দুই ভাই, দুই বোন। ও ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয়। বড় ভাই বিয়ে করে সংসার শুরু করছে। বোনেরও বিয়ে হয়েগেছে। আরেকটা বোন ছোট। মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় ও এখন কাঁচামাল ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছে। কখনো নিজেদের জমিতে ফলানো শাকসবজি বিক্রি করে, কখনো বা অন্যের কাছ থেকে কিনে বিক্রি করে। কাঁচামাল কবে থেকে বিক্রি করছো জিজ্ঞেস করতেই নাহিদুল বলে, স্কুল বন্ধের পর থেকেই এগুলো শুরু করেছি। স্কুল খোলা থাকলে তো আমাকে কোন কাজই করতে হতো না। এখন তো স্কুল বন্ধ, তাই এ কাজ করছি। আব্বার একটু সহায়তা করি।

এতো কাজের মাঝেও নাহিদুল কিন্তু পড়ালেখা থেকে এখনো দমে যায়নি। নাহিদুল বিস্ময়ের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, আমি এখন ক্লাস এইটের (৮ম) শ্রেণির বই পড়ি। নিয়মিত প্রাইভেটে যায়। প্রাইভেটে সপ্তম শ্রেণি বই পড়া শেষ। এবার পরীক্ষা হবে না তো এজন্য অষ্টম শ্রেণির বই পড়ি। নাহিদুলের সাথে কথা শেষ হতে না হতেই ওর দোকানে ক্রেতার আগমন।  সে জানায় কচুর ফুল ৫ টাকা আটি, কচুর লতি ৩০ টাকা আটি, কচু ৫০ টাকা পিচ।

প্রতিটি গ্রামে এমন হাজারো নাহিদুলের দেখা মেলে। ওরা জীবন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়বে তবুও মটকাবেনা। জয় হোক নাহিদুলদের, পরাজিত হোক মহামারির।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ