১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৪

২০২৬ সাল বদলে দেবে যেসব প্রযুক্তি

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

এক সময় ছিল, প্রযুক্তি মানে শুধু যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ। এখন তা বদলে গেছে। প্রযুক্তি এখন আমাদের সঙ্গী, সহকর্মী, এমনকি কখনো কখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীও। ঘুম থেকে শুরু করে অফিসের কাজ, চিকিৎসা, পড়াশোনা বা কেনাকাটা—প্রতিটি মুহূর্তে প্রযুক্তির ছোঁয়া। আর এই পরিবর্তন আর ধীরে আসছে না; বরং ঝড়ের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরে এমন কিছু প্রযুক্তি আমাদের জীবন, কাজের ধরন, এমনকি চিন্তাভাবনাকেও নতুন রূপ দেবে। কেমব্রিজ ওপেন একাডেমির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই আটটি প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

২০২৫ সালে এআইএর ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও উদ্যোগ দেখা গেছে। এবার ২০২৬ সালে এআই আরও ব্যক্তিগত হয়ে উঠছে। এই ব্যক্তিগত এআই সহকারী আমাদের অভ্যাস বুঝে আগেভাগে প্রয়োজন আন্দাজ করতে পারবে, কাজকে সহজ ও দ্রুত করবে। অফিসে, ঘরে, পড়াশোনায়—সবক্ষেত্রেই এআই এখন শুধু সাহায্য নয়, আমাদের কার্যপ্রণালীর অংশ হয়ে উঠছে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং

সাধারণ কম্পিউটার ‘বিট’এর মাধ্যমে কাজ করে—শূন্য বা ১। কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে ‘কিউবিট’, যা একসঙ্গে একাধিক অবস্থায় থাকতে পারে। এই ‘সুপার পজিশন’ কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে দেয় অসাধারণ গতি ও ক্ষমতা। জটিল হিসাব বা বড় ডেটা বিশ্লেষণ মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে। যদিও প্রযুক্তি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করবে ওষুধ আবিষ্কার, উপাদান বিজ্ঞান, আর্থিক মডেলিংসহ নানা ক্ষেত্রে।

এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি

এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি বা এক্সআর বাস্তব এবং কল্পনার মাঝে যে প্রাচীর ছিল, তা ভেঙে দিচ্ছে। অগমেন্টেড রিয়েলিটি বাস্তব জগতে ডিজিটাল তথ্য যোগ করে, আর ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম ও নিমগ্ন এক জগৎ তৈরি করে। ২০২৬ সালে এক্সআর শুধু প্রযুক্তি নয়, দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে—বসার ঘরে বসেই লাইভ কনসার্ট বা ভার্চুয়াল শপিং সম্ভব হবে।

বায়োপ্রিন্টিং

ত্রিমাত্রিক মানব টিস্যু ও অঙ্গ তৈরি সম্ভব করছে থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং। জীবন্ত কোষ ও বিশেষ বায়োম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করে ‘প্রিন্ট’ করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু বা অঙ্গ। ২০২৬ সালে এই প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে অঙ্গদানের দীর্ঘ অপেক্ষার দিন হয়তো ইতিহাস হয়ে যাবে।

সাইবার নিরাপত্তা: হুমকি ও প্রতিরোধের নতুন দিগন্ত

প্রযুক্তিতে নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সাইবার হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং, বড় সংস্থা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত তথ্য—সবই হ্যাকারদের লক্ষ্য। তাই সাইবার নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এখন জাতীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ।

ইন্টারনেট অব থিংস (IoT)

ইন্টারনেট অব থিংস বলতে বোঝায়, দৈনন্দিন যন্ত্র ও ডিভাইস ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। স্মার্ট ফ্রিজ, ফিটনেস ব্যান্ড, সংযুক্ত গাড়ি বা শিল্পকারখানার যন্ত্র—সবই এই নেটওয়ার্কের অংশ। ২০২৬ সালে এই সংযুক্ত ডিভাইসের সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে বেড়ে যাবে, যা আরও বুদ্ধিমান ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা তৈরি করবে।

স্মার্ট সিটি

স্মার্ট সিটি এমন শহর, যেখানে প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে। ট্রাফিক, আবর্জনা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ—সবকিছু বুদ্ধিমান ব্যবস্থার আওতায়। হঠাৎ যানজট হলে সিগন্যাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সময় বদলাবে, আবর্জনা জমে গেলে গাড়ি নিজে পথ বদলাবে। পরিবেশ সুরক্ষা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বসবাস উপযোগী শহর গঠনের লক্ষ্যেই স্মার্ট সিটি।

হাইপার অটোমেশন

হাইপার অটোমেশন শুধু কাজের দায়িত্ব না নিয়ে পুরো ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করছে। রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন, এআই ও মেশিন লার্নিং একত্রে কাজ করে, যা কাজকে দ্রুত, নিখুঁত ও বিস্তৃত করে। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রযুক্তি গবেষকরা এটিকে ভবিষ্যতের করপোরেট রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি, এটি নতুন ধরনের কর্মসংস্থানও তৈরি করছে।