২৪ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:২৯

পরবাসে উচ্চশিক্ষা: প্রথম পছন্দ কানাডা

উন্নত জীবনব্যবস্থা, সুশৃঙ্খল পরিবেশ, বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা-জনশক্তি উন্নয়ন ইন্ডেক্সের বার্ষিক সার্ভেতে কানাডার অবস্থান চার নম্বরে। তাই উচ্চশিক্ষার প্রথম পছন্দের একটি দেশ কানাডা। লিখেছেন- রীমা বড়ুয়া

ইদানিং প্রচুর সংখ্যক লোক নিচ্ছে কানাডা। বাংলাদেশের প্রায় ৬৭ গুণ বড় এ দেশের জনসংখ্যা ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাত্র সাড়ে তিন কোটির সামান্য উপরে। কানাডাকে বলা হয় অভিবাসীদের দেশ। এক নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান জানাচ্ছে যে ২০৩৬ সালের মধ্যে কানাডার প্রতি দুইজনের একজন হবে অভিবাসী তথা ৫০% অধিবাসী হবে বিদেশ থেকে যাওয়া। বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার জন্য যারা বিদেশ যেতে চান তাদের অনেকেই বেছে নেন উত্তর আমেরিকার উন্নত দেশ কানাডাকে কারণ কানাডায় পড়াশোনা শেষে পছন্দনীয় পেশায় যোগ দেয়ার পাশাপাশি রয়েছে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মতো কানাডার শিক্ষাব্যবস্থাও বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। তাই কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে নিশ্চয়তা রয়েছে উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের।

শিক্ষাব্যবস্থা ও সেশন : কানাডার শিক্ষা ব্যবস্থায় মূলত চার ধরনের ডিগ্রি দেয়া হয়-স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডক্টরেট ও ডিপ্লোমা। নিয়মিত শিক্ষার পাশাপাশি কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আছে কো-অপারেটিভ অ্যাডুকেশন, ডিস্ট্যান্স লার্নিং, কন্টিনিউয়িং অ্যাডুকেশন কোর্স। তিন সেমিস্টারে কানাডাতে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারেন। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল-উইন্টার সেমিস্টার, মে থেকে আগস্ট-সামার সেমিস্টার এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর-ফল সেমিস্টার। যেহেতু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ফল সেমিস্টারে শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় তাই এই সেমিস্টারে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ থাকে বেশি।

যেসব বিষয়ে পড়া যাবে : কানাডাতে উচ্চশিক্ষা নেয়ার জন্য স্নাতক পর্যায়ে রয়েছে প্রায় দশ হাজার এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় তিন হাজার বিষয়। বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, ফার্মেসি, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, অর্থনীতি, ইতিহাস, ইংরেজি, কম্পিউটার সায়েন্স, খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, ইলেক্ট্রনিঙ, মেডিক্যাল সায়েন্স, মেরিন অ্যাফেয়ার্স, আইন ও ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি।

পড়াশোনার মাধ্যম : ইংরেজি ও ফরাসি দুই ভাষাতেই পড়াশোনা করা যায় কানাডাতে। তাই প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই এ দুই ভাষাতেই পড়াশোনার করার সুযোগ আছে। তবে শিক্ষার্থী কোন ভাষায় পড়তে ইচ্ছুক তা আগেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অধিকাংশ হাই রেংক্‌ড বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি ভাষায় পড়তে হলে পিয়ারসন টেস্ট অব ইংলিস (পিটিই), আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর থাকতে হবে । তবে শিক্ষার্থীর বর্তমান যোগ্যতার নিরিখে পিটিই, আইইএলটিএস বা টোফেল ছাড়াও লেখাপড়া করা যেতে পারে।

ভর্তির যোগ্যতা : স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীকে অবশ্যই কমপক্ষে ১২ বৎসর মেয়াদী শিক্ষা সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। এই ডিগ্রি পেতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ বছর। তাছাড়া স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীকে দেখাতে হবে কমপক্ষে ১৫-১৬ বৎসর মেয়াদী শিক্ষা সার্টিফিকেট। এই ডিগ্রি ১-২ বৎসর মেয়াদী। পিএইচডি ডিগ্রির জন্য ৩-৪ বৎসর পূর্ণকালীন গবেষণা করার সুযোগ আছে কানাডায়।

দেশের অন্যতম প্রাচীন সৎ ও নির্ভরযোগ্য ইমিগ্রেশন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী ‘কাজী ইমিগ্রেশন এন্ড এডুকেশন’ কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহীদের ফাইল প্রসেস করে থাকে। কাজী ইমিগ্রেশন এন্ড এডুকেশন এবং ল্যাংগুয়েজ ভার্সিটি-এর চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ইমিগ্রেশন এক্সপার্ট কাজী মোঃ আবদুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে কানাডায় এবং লেখাপড়া শেষে বা শেষ না করেও অতি সহজেই কানাডায় বৈধ উপায়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করা যায়। সুবিধামতো কাজ করতে পারলে কানাডাতে পড়াশোনাকালীন কাজ থেকে আয় করে থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার খরচ মিটানো সম্ভব।’

যেভাবে আবেদন করতে হবে : কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হলে প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিষয় পছন্দ করতে হবে। ভাষার ওপর দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা শেষে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অফিসে। সেখান থেকে আবেদন পত্র সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরীক্ষার ফলাফলসহ যাবতীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। পরবর্তীতে সেখান থেকে আপনাকে আহ্বান জানালে, কানাডা হাইকমিশনে যোগাযোগ করে ইন্টারভিউ দিয়ে ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। কানাডিয়ান হাই কমিশনের ঠিকানা-


High Commission of Canada
United Nations Road
Baridhara, Dhaka-1212
Bangladesh
Telephone: +880 2 988 7091 to 988 7097
Fax: +880 2 882 3043 & +880 2 882 6585
Email: dhaka@international.gc.ca
www.vfs-canada.com.bd


স্কলারশিপ: অনেকে পড়াশোনার জন্য উন্নত দেশগুলোতে পাড়ি জমান। কিন্তু টিউশন ফির জন্য চিন্তিত হয়ে পড়েন, এক্ষেত্রে কানাডায় প্রাতিষ্ঠানিক বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। www.scholarshipscanada.com
এছাড়া, কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়েও কানাডায় যাওয়া যায়। উল্লেখ্য, প্রতিবছর আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন দেশে স্কলারশিপ দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে তথ্য পেতে ভিজিট করতে পারেন-www.moedu.gov.bd.

কানাডার প্রধান কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
University of Torento
১৮২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে পৃথিবীর বিখ্যাত লেখকদের বইয়ের সর্ববৃহৎ সংগ্রহশালা The Thomdas Fisher Rare Book লাইব্রেরি। এখানে আর্টস ও সায়েন্সে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রায় দুই হাজার কোর্স, ১৪টি প্রফেশনাল ফ্যাকাল্টিতে ১০০টি কোর্স এবং ৮১টি ডক্টরাল প্রোগ্রাম রয়েছে।
এখানে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শীতকালীন সেশন এবং মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন সেশন চালু রয়েছে।
Web : www. utoronto.ca
University of Victoria
মনোরম সমুদ্র সৈকত আর পৃথিবী-বিখ্যাত রডোডেনড্রন অরণ্য সমৃদ্ধ ইকোপার্কের পাশে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের প্রায় ১৮,০০০ ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে।
প্রথম টার্ম সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর, দ্বিতীয় টার্ম জানুয়ারি থেকে এপ্রিল এবং তৃতীয় টার্ম মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত।
Web : www.uvic.ca
University of Ottawa
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৮ সালে।
Web : www.uottawa.ca