২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:৫২

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: স্কলারশিপ পেতে যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন

স্কলারশিপ  © সংগৃহীত

বর্তমানে প্রায় সকল শিক্ষার্থীই স্বপ্ন দেখে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পড়তে যাওয়ার। এর মধ্যে কেউ কেউ চায় দেশের বাইরে গিয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা সরাসরি পি এইচ ডি বা ডক্টরেট ডিগ্রী গ্রহণ করতে। বর্তমানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নজরকাড়া সব স্কলারশিপের সুযোগ প্রদান করে থাকে। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফুল-ফ্রিতে বা আংশিক অর্থ প্রদানের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে সক্ষম হয়ে থাকে। যা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাদের বাহিরে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য পরিমাণমত অর্থ নেই তারা এই স্কলারশিপগুলোর সাহায্যে উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেয়ে থাকে। আজকে আমরা জানবো বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে স্কলারশিপ পেতে যে বিষয়গুলো জানা খুবই দরকারি।
  
উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ প্রদানকারী দেশসমূহঃ 
প্রথমত আপনাকে উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ প্রদানকারী দেশ সম্পর্কে জানতে হবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা এর জন্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে পছন্দের তালিকায় উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দেশ হল,
• যুক্তরাষ্ট্র
• যুক্তরাজ্য
• জার্মানি
• কানাডা
• অস্ট্রেলিয়া
• স্পেন
• ইতালি
• আয়ারল্যান্ড
• জাপান
• রাশিয়া
• মালয়েশিয়া

উক্ত দেশগুলো ছাড়াও বিশ্বের অনেক দেশ রয়েছে যারা উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ও মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে। যেমন, হাঙ্গেরী, চীন, লিথুনিয়া, তুরস্ক, ভারত, সৌদি আরব, মিসর। এই সব দেশের প্রকাশিত বৃত্তিতে আবেদন করা যায় বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রনালয় এর মাধ্যমে।

আরও পড়ুন: ঢাবির প্রযুক্তি ইউনিটের সাক্ষাৎকার ২৪ সেপ্টেম্বর

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তির খোঁজঃ 
স্কলারশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে প্রদান করা হয়। দেশ ভেদে স্কলারশিপের জন্য যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।তাই আপনাকে আগে থেকেই ঠিক করে নিতে হবে কোন দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তির জন্য আপনি আবেদন করতে চান? এ ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করবে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট। নিচে কয়েকটি দেশের ওয়েবসাইট দেয়া হলো-
যুক্তরাজ্য- https://www.gov.uk/student-visa
অস্ট্রেলিয়া- http://studyinaustralia.gov.au
কানাডা- https://www.canada.ca/en/immigration-refugees-citizenship/services/study-canada.html
জার্মানি- https://www.daad.de/en/
এছাড়াও আপনারা নানা দেশের দূতাবাস গুলোর ওয়েবসাইটে গেলে বিভিন্ন রকমের বিদেশে উচ্চশিক্ষা এর বৃত্তির তথ্য পেতে পারেন। এখানে প্রতি বছরের বৃত্তি তথ্য দেয়া থাকে। আপনি চাইলে সরাসরি এই সব দেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করেও বৃত্তি তথ্য নিতে পারেন। এছাড়াও আপনি এই বৃত্তি তথ্যের বিশাল সংগ্রহ পাবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে। 

প্রয়োজনীয় নথিপত্রঃ 
প্রত্যেকটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই তাদের স্কলারশিপগুলোতে আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেধে দেয়। আপনাকে ওই সময়ের মধ্যেই স্কালারশিপের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রদান করে অনলাইন আবেদন করতে হবে। তবে সময় সীমা পার হয়ে গেলে আবেদন গ্রহণ করা হয় না। এই জন্য আপনাকে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্র প্রস্তুত করে রাখতে হবে। যেমনঃ- 

• পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।
• স্নাতকের সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্ট। 
• স্নাতকোত্তরের সার্টিফিকেট এবং ট্রান্সক্রিপ্ট। 
• রেফারেন্স লেটার । 
• ভাষাগত যোগ্যতার সনদ। 
• সুপারিশ পত্র। 

ভাষার দক্ষতা পরীক্ষা 
বাহিরের দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকাংশ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে  ইংরেজী ভাষার দক্ষতার প্রমাণ দেখাতে হয়। এটাকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা প্রমাণের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়াও ম্যান্ডারিন চাইনিজ, জার্মান, ফরাসি, আরবি, জাপানিজ ইত্যাদি ভাষাতে দক্ষ হতে হয় 
এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য। ইংরেজি ভাষার প্রশংসাপত্রগুলোর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো IELTS, GRE বা GMAT গ্রহণ করে থাকে। আপনার ইংরেজির দক্ষতা বাড়াতে আপনাকে নিয়মিত ইংলিশ স্পিকিং রাইটিং ও রিডিং এর প্র্যাকটিস করতে হবে। সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ শেষে পরীক্ষা দিয়ে ভাষা দক্ষতার সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি (ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউট সেরা মাধ্যম। IELTS এর স্কোর ৭, GRE ও GMAT এ ৩২০ এবং ৪০০ এর মধ্যে স্টান্ডার্ড স্কোর ধরা হয়। ইংরেজির দক্ষতার কারণেই আপনি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে যাবেন। যা আপনার বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ আরো সহজ করবে।

একাডেমিক ফলাফলঃ 
বাহিরের দেশে স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে একাডেমিক ফলাফল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মোটামুটি ভাল একটা সিজিপিএ থাকলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

SOP: 
অনেকেই বলে থাকে সব কিছুর উর্ধ্বে থাকে SOP বা Statement of Purpose. এমন অনেকেই আছে সিজিপিএ ভালো না, IELTS ভালো না কিন্তু শুধু মাত্র অসাধারণ SOP লিখে বাজিমাত করেছে। তাই কিভাবে একটি ভালো SOP তৈরি করা যায় তা নিয়ে আগে থেকেই ভাবনা চিন্তা করুন। নিজের জানাশোনা বাড়ান, যারা ইতিপূর্বে বিদেশ গমন করেছেন উচ্চশিক্ষার জন্যে তাদের কাছে তাদের SOP নিয়ে জিজ্ঞেস করুন।

রিকমেন্ডেশন লেটারঃ 
স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য রিকমেন্ডেশন একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সব ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটেই এই ফরম আপলোড করা থাকে। এই ফরমের সঙ্গে ইচ্ছে করলে নিজের লেখা পেপারও যুক্ত করতে পারবে। তবে কার কাছ থেকে রিকমেন্ডেশন নিতে হবে সেইটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ইউনিভার্সিটির রিকমেন্ডেশন লেটারে বলা হয়ে থাকে, ডিন বা প্রফেসর সমপর্যায়ের ব্যক্তি হতে হবে এবং রিকমেন্ডেশন লেটার লিখতে হয় ‘বরাবর প্রেসিডেন্ট ( বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম)। তবে কিছু কিছু ভার্সিটির ক্ষেত্রে ভিন্ন। তাই আপনাকে ডিন বা প্রফেসর হতে সব সময় রিকমেন্ডেশন লেটার সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া, আপনার রেস্পেক্টিভ সুপারভাইজার ও আপনার জন্য অ্যাডমিশন কমিটির কাছে আপনার জন্য রিকমেন্ডেশন লেটার লিখবে। এই দুই রিকমেন্ডেশন লেটার এপ্লিকেন্ট সিলেকশনের জন্য খুব বড় ফ্যাক্টর।

প্রকাশনাঃ  
যদি আপনি রিসার্চ বেইজদ মাস্টার্স কিংবা PHD করতে চান, তবে আপনার রিসার্চ দক্ষতার প্রমান স্বরূপ আপনার কমপক্ষে একটি আর্টিকেল পাবলিশ থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখবেন, রিসার্চ পাবলিকেশন জার্নালটি যেন মান সম্মত হয়। কোন অপরিচিত জার্নাল কিংবা টাকার মাধ্যমে যে সমস্তু জার্নাল আর্টিকেল পাবলিশ করে তাদের দারস্ত হওয়া যাবে না। কারণ আন্তর্জাতিক ইউনিভার্সিটিগুলোতে ইহার গ্রহণযোগ্যতা খুবই কম । তাহলে আপনার চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।