জাবি ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে ফের শিফট বৈষম্যের অভিযোগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিফট পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক পরীক্ষার্থী। তাদের দাবি, শিফট ভিত্তিক আলাদা ফলাফল না দেওয়ায় এ বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। আজ সোমবার জাবি ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের (সমাজবিজ্ঞান অনুষদের) ফলাফলে মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া ৩২৬ জনের মধ্যে ২১৭ জনই পঞ্চম শিফটের পরীক্ষার্থী। যা মোট আসনের ৬৭ শতাংশ।
এর আগে ‘ডি’ ইউনিটের ফলাফল বিশ্লেষণেও একই চিত্র উঠে আসে। সেখানেও ৩২০টি আসনের মধ্যে পঞ্চম শিফটের পরীক্ষা থেকেই ১০৪ জন পরীক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান পান।
আজ প্রকাশিত ‘বি’ ইউনিটের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বমোট ৫টি শিফটে অনুষ্ঠিত ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় ৩২৬টি আসনের মধ্যে পঞ্চম শিফটে মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে সর্বোচ্চ ২১৭ জন, যা মোট আসনের ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে দ্বিতীয় শিফটে সর্বনিম্ন মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে মাত্র ১২ জন, যা মোট আসনের ৪ শতাংশ।
এছাড়া প্রথম শিফটে ৩৩ জন, তৃতীয় শিফটে ৩৫ জন ও চতুর্থ শিফটে ২৯ জন। এর মধ্যে, ছেলে ও মেয়েদের মেধা তালিকায় শুধুমাত্র ৫ম শিফটে শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্যে করা গেছে। সেখানে প্রথম দশজনের মধ্যে মেয়েদের তালিকায় ৯ জন এবং ছেলেদের তালিকায়ও ৯ জন রয়েছে।
‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী বৃষ্টি বলেন, একাধিক শিফট থাকায় প্রশ্নপত্রের মান একই রাখা সম্ভব নয়। আর প্রশ্নপত্র ভিন্ন হওয়ায় কারও কাছে তুলনামূলক সহজ, আবার কারও কাছে তুলনামূলক কঠিন। এতে প্রকৃত মেধাবীদের ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জাবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শিফটে পরীক্ষা দেওয়ায় এমন বৈষম্য হতে পারে। আমরা নিজেরাও চাচ্ছি শিফট পদ্ধতি বাদ দিয়ে পরীক্ষা নিতে। তবে এ বছর করোনার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে আলোচনা করবো, কীভাবে এ সমস্যা থেকে উত্তরণ করা যায় সেটা আগামী বছর দেখব।