ফেসবুকে পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার ভিডিও দেখে পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ

পুলিশ
বাগদির বাজারের নিরীহ বেওয়ারিশ কুকুর  © ফাইল ছবি

লালমনিরহাটের আদিতমারি থানার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদির বাজারের একটি নিরীহ বেওয়ারিশ কুকুর। কুকুরটি বাজারেই থাকতো, ঘুড়ে বেড়াতো। যারা নিয়মিত বাজারে যাওয়া-আসা করতো তারা প্রায় সকলেই চিনতো কুকুরটিকে। কখনো কাউকে কামড় দেয়নি বা কাউকে কোনো ক্ষতিও করেনি। 

কিন্তু একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে ওই বাজারের এক কসাইয়ের নির্মম আচরণের শিকার হয় কুকুরটি। কসাই আনারুল (গরুর মাংস বিক্রেতা) কুকুরটিকে ছুরি মারেন। অসহ্য যন্ত্রণায় সারাদিন কোঁকাতে থাকে। কুকুরটির ওই অসহায় অবস্থার ভিডিও ধারণ করে স্থানীয় এক পশু প্রেমিক তার ফেসবুক টাইমলাইনে শেয়ার করেন এবং পশুর প্রতি এধরণের নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে মানুষকে সচেতন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারপর সেখান থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকের হাজারো একাউন্টে।

এভাবেই বিষয়টি নজরে আসে মিসেস জীশান মীর্জার। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) সভানেত্রী এবং আইজিপি মহোদয়ের সহধর্মিণী। নিরীহ একটি প্রাণীর প্রতি এমন অমানবিক নিষ্ঠুরতার বিষয়টি তিনি পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবগত করেন। পরে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত কসাইকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে একটি পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ সুপার লালমনিরহাট এর নির্দেশে আদিতমারি থানা পুলিশ উক্ত কসাইকে (আনারুল কসাই) খুঁজে বের করতে সক্ষম হয় এবং আটক করে আইনের আওতায় এনেছে। সেই সাথে আহত কুকুরটির উন্নত চিকিৎসার জন্য 'এনিমেল রেসকিউয়ার অফ বাংলাদেশ' এর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। সংবাদ পেয়ে সংগঠনটির প্রধান জনাব কেয়া চৌধুরী ও রূকসাৎ হক কুকুরটির উন্নত চিকিৎসার উদ্দ্যোগ নেন। পরবর্তিতে তাদের পাঠানো প্রতিনিধিরা আহত কুকুরটিকে উদ্ধার করে ঢাকার উদ্দেশ্য নিয়ে যায়।


মন্তব্য