‘পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নফাঁস হওয়া’ স্কুলের ফলে যা জানা গেলো

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়  © ফাইল ছবি

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্ন ফাঁস হওয়া কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সোমবার (২৮ নভেম্বর) এসএসসি ও সমমানের প্রকাশিত ফলে এ তথ্য জানা গেছে।

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এটিএম খলিলুর রহমান জানান, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ভূরুঙ্গামারীর নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৮০ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ জন জিপিএ-৫ (এ প্লাস) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৪ জন এবং বাণিজ্য বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এর আগে, চলমান এসএসসি পরীক্ষায় গত ২০ সেপ্টেম্বর ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার দিন নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রের সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমানের কক্ষ থেকে ছয় বিষয়ের প্রশ্নপত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: পা দিয়ে লিখে এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেলেন মানিক

পরে প্রশ্নফাঁসের জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হন ভূরুঙ্গামারীর নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানসহ পাঁচ শিক্ষক এবং এক সহায়ক কর্মী। তাদের মধ্যে দুই সহকারী শিক্ষক ও সহায়ক কর্মী জামিনে মুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আরও এক সহকারী শিক্ষক উচ্চ আদালতে জামিনের আদেশ পেয়েছেন।

ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, ওই বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল, ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক জোবায়ের হোসেন এবং অফিস সহকারী আবু হানিফের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটি।

চলতি বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখের বেশি অংশ নেয়। মোট তিন হাজার ৭৯০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে শুধু সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৬ লাখ।

বোর্ডগুলোর পাসের হার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা বোর্ডে ৯০, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৮৬.৭, বরিশাল বোর্ডে ৮৯.৬১, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৮৭.৫৩, কুমিল্লা বোর্ডে ৯১.২৮, দিনাজপুর বোর্ডে ৮১.১৪, যশোর বোর্ডে ৯৫.৩, রাজশাহী বোর্ডে ৮৫.৮৭, সিলেট বোর্ডে ৭৮.৮২, মাদ্রাসা বোর্ডে ৮২.২২ এছাড়া কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৪.৭ শতাংশ।


সর্বশেষ সংবাদ