কুষ্টিয়ায় ১৫ বছর পর অক্ষত লাশ উদ্ধারের বিভ্রান্তিকর খবর ফেসবুকে

ফেসবুক
ভিডিওসহ ফেসবুক পোস্ট  © স্ক্রিনশট

‘কুষ্টিয়ায় ১৫ বছর পরেও কবর থেকে অক্ষত অবস্থায় লাশ উদ্ধার!’ শিরোনামে একটি ভিডিওসহ পোস্ট ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অথচ ভিডিওটিতে যে লাশ দেখানো হচ্ছে তা অক্ষত নয়।

মূল ভিডিওটি পোস্ট করা হয় গত ৩১ মে কুষ্টিয়ার স্থানীয় এক ব্যক্তির পরিচালিত ইউটিউব চ্যানেল আরকে টোয়েন্টিফোর নিউজে। ইউটিউবে ভিডিওটি তিন লাখ ৭০ হাজারের বেশি ভিউ হয়। ভিডিওটির ইউটিউব লিঙ্ক তাদের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়। পরে সেটি ফেসবুকের বিভিন্ন একাউন্ট, পেজ ও গ্রুপে পোস্ট করা হয়। তেমনই কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

ভিডিওতে বলা হয়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়াণপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তিনগর গ্রামের একটি পুরনো কবর স্থানান্তর করতে গিয়ে গত ৩০ মে অক্ষত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। যে নারীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়, তাঁর মেজো ছেলে ও মরদেহ উত্তোলনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. মুজিবর রহমান ভিডিওতে বলেন, ‘লাশ উত্তোলনের পরে আমরা দেখলাম, কাফনের কাপড়টা খুব সুন্দর আছে। নষ্ট হয়নি। শরীরের হাড়-হাড্ডি যেমন থাকার কথা, তেমনি সাজানো আছে, মাংস নাই, শুধু হাড় হাড্ডি আছে।’

ভিডিও সাক্ষাৎকারগ্রহীতা একপর্যায়ে মুজিবর রহমানের কাছে জানতে চান, ‘আপনি যা দেখেছেন, লাশটাকে তাহলে অক্ষতই বলা যায়?’ এবং মো. মজিবুর রহমান তখন বলেন, হ্যাঁ, অক্ষতই বলা যায়।’

মো. মজিবুর রহমান জানান, তাঁর মা ২০০৬ সালের ১৫ জানুয়ারি মারা যান।

ভিডিওতে দেখা যায়, মরদেহটি কবর থেকে উত্তোলনের পর নতুন কাফনের কাপড় পরিয়ে একটি খাটিয়ার ওপর রাখা হয়েছে। এক ব্যক্তি কাফন সরিয়ে মরদেহটি দেখান। সেসময় দেখা যায়, ভেতরে পুরনো কাফনের কাপড়ও রয়েছে। তার ভেতরে মরদেহের হাড্ডি তথা কংকাল রয়েছে।

বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মরদেহ সংরক্ষণের রেওয়াজ রয়েছে। চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লবের নেতা মাও সে তুঙ, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম উন সাং, কিম জং উন, ভিয়েতনামের নেতা হো চি মিন, সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ভ্লাদিমির পুতিনসহ অনেকের মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে। দেখুন এই লিঙ্কে

সবচেয়ে পুরনো হিসেবে ধরা হয়, মিসরের শাসক রামিসেস দ্বিতীয় বা ফারাওয়ের (ফিরআউন) মরদেহ। মিসরের কায়রো জাদুঘরে এটি সংরক্ষিত আছে। অত্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতিক অবয়বে থাকা মরদেহের এই ব্যক্তি নবী মুসা (আ.)-এর সময়কার বলে জানা যায়। মরদেহটির হাড্ডিসহ শরীরের অবয়ব এমনকি চামড়া পর্যন্ত অক্ষত রয়েছে।

ম্যানুয়াল অব ফরেনসিক অডোনটোলজি গ্রন্থের বরাত দিয়ে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্ট-ওয়াচ জানায়, সর্বনিম্ন ৩ সপ্তাহ থেকে শুরু করে বছরখানেকের মধ্যে মৃতদেহের সব মাংস,চামড়া বিযোজিত হয়ে যায়। কবরে তখন শুধু কংকাল থাকে। এই কংকাল ও চিরস্থায়ী নয়। ২০ বছরের মত কংকাল স্থায়ী হয়। এরপরে কংকালও ক্ষয়ে যেতে থাকে।

পরিবেশ পরিস্থিতি ভেদে এই সময়সীমা কমবেশি হয়ে থাকে।

তবে সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার হওয়া ভিডিওতে যা দেখা গেছে তাতে ১৫ বছরের পুরনো কবর থেকে উত্তোলন করা এই লাশটির ক্ষেত্রে অক্ষত বলার সুযোগ রয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ভিডিওর বিষয়বস্তুর চেয়ে এর শিরোনামে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ইউটিউবে প্রচুর ভিউ পাওয়ার আশায় এমনটি করা হয়ে থাকতে পারে। পরবর্তীতে ফেসবুকে অনেকেই একই ধরনের শিরোনাম দিয়ে ভিডিওটি শেয়ার করেন।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ

x